রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১

পতিতপাবন গুরুচাঁদ ঠাকুরের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী পালন ও নেতাজির বক্তব্য :

 পতিতপাবন গুরুচাঁদ ঠাকুরের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী পালন ও নেতাজির বক্তব্য :


1937 সালের 13 মার্চ পতিতপাবন গুরুচাঁদ ঠাকুর ইহলোক ত্যাগ করেন কিন্তু সেবছর কোন শোকসভা পালন করা হয়নি তাই 1938 সালের 13 ই মার্চ কলকাতা অ্যালবার্ট হলে তার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী পালন করা হয়। উক্ত সভায় সভাপতিত্ব করেন কংগ্রেস লেজিসলেটিভ পার্টির চিফ হুইপ শ্রী যোগেশ চন্দ্র গুপ্ত (বিখ্যাত আইনজীবী)। প্রধান অতিথির চেয়ার অলংকৃত করেন কংগ্রেস সভাপতি শ্রী সুভাষ চন্দ্র বসু যাকে বিশ্ববাসী নেতাজি বলে চেনেন। তাছাড়া উক্ত মঞ্চে যেসব প্রধান নেতারা বসে ছিলেন তারা হলেন সর্বশ্রী বিরাট চন্দ্র মন্ডল,(এম. এল. এ)  রসিকলাল বিশ্বাস, (এম. এল. এ) বঙ্কিম মুখার্জি, (এম. এল. এ) নিহারেন্দু দত্ত মজুমদার, (এম. এল. এ) ডাক্তার গঙ্গা চরণ সরকার, (এম. এল. এ) বেগম সাকিনা (কর্পোরেশন কাউন্সিলর), সন্তোষ ঘোষ (কর্পোরেশন নেতা) প্রমুখ। এদের পেছনে যারা দাঁড়িয়েছিল তারা হলেন সর্বশ্রী যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডল (এম.এল.এ), প্রমথরঞ্জন ঠাকুর (এম.এল.এ) ও যজ্ঞেশ্বর মন্ডল (এমএল.এ)। উক্ত সভায় যারা বক্তব্য রাখেন তারা হলেন,-সর্বশ্রী সন্তোষ ঘোষ, বঙ্কিম মুখার্জি, নিহারেন্দু দত্ত মজুমদার, বেগম সাকিনা (উর্দু ভাষায়), নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু এবং যোগেশ চন্দ্র গুপ্ত। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু খুব নিচু গলায় কিন্তু স্পষ্ট উচ্চারণে বলেছিলেন - ঠাকুর গুরুচাঁদ ও তার পিতা ঠাকুর হরিচাঁদ সর্বজন শ্রদ্ধেয় এমন মানুষ যে তাদের শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রতিদিনই আমরা দিন শুরু করতে পারি। এদেরই বলে প্রাতঃস্মরণীয়। মিটিং ডেকে  আয়োজন করে একদিন তাদের স্মরণ করে বাকি 364 দিন  তাদের ভুলে থাকার মত মানুষ তারা নন। গুরু স্থানীয়দের দুই ভাগে ভাগ করা যায় -একদল নিত্যকর্মের স্মরণীয় আর একদল জীবন কর্মে স্মরণীয়। কিন্তু এই দুই ভাগের মধ্যে কোন বিরোধ নেই। রামকৃষ্ণ, বিবেকানন্দ, যিশু, মহম্মদ, রামানুজ এরা আমাদের জীবনের নীতি শেখান -যেমন, যত মত তত পথ, বীর বাণী, অহিংসা, শরীয়ত ইত্যাদি। আর এক ভাগে যারা তারা আমাদের নিত্যকর্ম মনে করিয়ে দেন -চৈতন্য, নিত্যানন্দ, হরিচাঁদ- গুরুচাঁদ,বুদ্ধদেব, মহাবীর।  এরা আমাদের শিক্ষা দেন -হরির্নামৈব কেবলম্,হাতে কাম মুখে নাম, মহানির্বাণ, অহিংসা করুণা ইত্যাদি।


আমরা ভারতীয়রা, অবতারে বিশ্বাস করি। পাশ্চাত্য দর্শনে সেই অবতার রুপি মানুষকেই বলা হচ্ছে "সুপারম্যান"। গুরুচাঁদ ঠাকুর ছিলেন একজন অবতার, "সুপারম্যান"। তিনি বাঙালি হিন্দুদের মধ্যে নবজীবন সঞ্চার করেছেন। তিনি তফশিলভুক্ত জনগণকে উন্নত করেছিলেন যাতে তারা রাজনীতিতে ও সমাজে বর্ণহিন্দুদের সমতুল্য হয়ে উঠতে পারে।


বর্ণহিন্দু ও তপশিলি ভুক্ত হিন্দুরা মিলেই  অখন্ড হিন্দু সমাজ তৈরি হয়েছে। তাদের মধ্যে বস্তুত কোন পার্থক্য নেই। ভারতীয়দের  ক্রীতদাসে পরিণত করা হয়। ভারতীয়রা একটা পরাধীন,অনগ্রসর, অত্যাচারিত, আক্রান্ত এবং পরাজিত জাতি। আপনারা সিডিউল কাস্টদের অনগ্রসর জাতি বলবেন না,কারণ আমাদের পুরো জাতিটাই অনগ্রসর, ডিপ্রেসড। ব্রাহ্মণ ও কায়স্থরাও কোন ব্যতিক্রম নয়। স্বাধীনতা পেলে এইসব প্রভেদ পার্থক্য লুপ্ত হয়ে যাবে।


নমঃশূদ্র দের একটি অংশ, মন্ত্রী মুকুন্দ বিহারী মল্লিক ও তার ভাইদের দলবল উক্ত সভায় অনুপস্থিত ছিলেন। তারা খুলনায় 14 ই মার্চ সভা করেন। উক্ত সভায় তখনকার অর্থমন্ত্রী শ্রী  নলিনী রঞ্জন সরকার মহাশয় উপস্থিত হয়েছিলেন।


সূত্র : বরিশালের যোগেন মন্ডল 

লেখক :দেবেশ রায়।

কোন মন্তব্য নেই: