মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫

নীলফামারী গোলাহাট গনহত্যা।

 ট্রেনে করে নিরাপদে ভারতে পৌঁছে দেয়ার আশ্বাস দিয়ে ৪৩৭ জন নিরীহ মানুষকে কচুকাটা করা হয়েছিলো আজকের দিনে। যেদিন ছবির এই কালভার্ট আর রেললাইন পরিণত হয়েছিলো লাশের মহাসমুদ্রে।

কুখ্যাত অপারেশন খরচাখাতা এক ভয়ংকর অধ্যায়।

মুক্তিযুদ্ধ শুরুর তিনদিন আগে ২৩ মার্চ রাত থেকে সৈয়দপুরে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও তাদের দোসর সৈয়দপুরের বিহারিরা বাঙালি নিধন শুরু করে। মহল্লায়-মহল্লায় ঢুকে নেতৃস্থানীয় বাঙালিদের নির্বিচারে হত্যা করা হয়। এ অবস্থায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছিল শহরের মাড়োয়ারিপট্টির বাসিন্দাদের।।

৫দিন ঘোষণা চলে আর এদিকে নিরীহ মাড়োয়ারীরা বুক বেঁধেছে আশায়। আগের রাত থেকেই সাড়ে চারশর বেশি মাড়োয়ারি অপেক্ষমান সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশনে। ট্রেনে যদি জায়গা না পাওয়া যায় সেই আশঙ্কায় আগেই হাজির হয়ে গিয়েছিলেন মাড়োয়ারিরা।

অবশেষে নির্ধারিত সকাল ১০টায় ট্রেনটি ছাড়ে। ট্রেন ছাড়ার পর সব জানালা-দরজা বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছিলো। ট্রেনটি ধীরগতিতে দুই মাইলের মতো পথ অতিক্রম করার পর শহরের গোলাহাটের কাছে এসে থেমে যায়। সবাই আশ্চর্য হয়ে ভাবছে কী হলো, ট্রেন থেমে গেল কেন? কোনো সমস্যা হয়েছে নাকি! ভয় ও শঙ্কা দেখা দিলো তাদের চোখেমুখে।

অন্যদিকে বিহারী ও রাজাকার ইজাহার আহমেদ, বিহারী নেতা কাইয়ুম খান ও বিপুলসংখ্যক বিহারী ও পাকিস্তান সেনাবাহিনী সৈন্য উপস্থিত তখন গোলাহাটে সেই ট্রেনটিরই অপেক্ষায়। ট্রেন থামতেই প্রতিটি বগির দরজা খুলে ভেতরে রামদা হাতে কয়েকজন বিহারি প্রবেশ করে, বাইরে তখন ভারী আগ্নেয়াস্ত্র হাতে পাকিস্তান সেনাবাহিনী গোটা এলাকা ঘিরে রেখেছে। যেন একজন মাড়োয়ারিও পালাতে না পারে। শুরু হয় রামদা দিয়ে কোপানো। মুহূর্তের মধ্যেই বীভৎস আর পৈশাচিক উৎসবে মেতে ওঠে বিহারীরা। কোনো কোনো লাশকে কয়েক টুকরো করে রেললাইনের চারপাশে ছুড়ে ফেলা হয়। নৃশংসভাবে হত্যা করা হয় শিশুদের।

সেদিনের সেই পৈশাচিক গণহত্যা থেকে ভাগ্যক্রমে পালিয়ে বেঁচে যাওয়া সেই দশ যুবকের মধ্যে একজন তপন কুমার দাস। সেদিনের সেই গণহত্যার প্রত্যক্ষদর্শী তপন কুমার দাস দিয়েছিলেন গণহত্যার বর্ণনা।

তিনি বলেছিলেন, 'পাকিস্তানী সেনারা ১৩ই জুন আনুমানিক সকাল ৫টায় ভারতে পৌঁছে দেয়ার কথা বলে ৪টি বগিতে আমাদের তোলে। ট্রেনে উঠার পরই পাকিস্তানী সেনাদের বুঝতে অসুবিধা হলো না এই দিন আমাদের শেষ দিন। সে সময় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি পড়ছিলো। ঠিক সকাল ১০টার দিকে স্টেশন থেকে ছেড়ে যায় ট্রেনটি। চলছিল ধীরে ধীরে। শহর থেকে বেরিয়ে রেলওয়ে কারখানা পেরিয়েই হঠাৎ থেমে যায় ট্রেন। জায়গাটা স্টেশন থেকে দুই মাইল দূরে। নাম গোলাহাট। যাত্রীদের অনেকে ধারালো অস্ত্রের আঘাত সইতে না পেরে গুলি করে মারার জন্য অনুরোধ করে।

সেদিনের সেই পৈশাচিক গণহত্যা থেকে ভাগ্যক্রমে বেঁচে যাওয়া আরেক প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন গোবিন্দ চন্দ্র দাস। তিনিও পালিয়ে ভাগ্যক্রমে বেঁচে গিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘থেমে থাকা ট্রেনের কম্পার্টমেন্টে ঢুকেই পাকিস্তানি সেনারা চিৎকার করে উর্দুতে বলতে থাকেন, একজন একজন করে নেমে আসো। তোমাদের মারতে এসেছি আমরা। তবে পাকিস্তানের দামি গুলি খরচ করা হবে না। সকলকে এ কোপে বলি দেওয়া হবে। সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয়ে যায় বেপরোয়া হত্যাযজ্ঞ। ধারালো রামদা দিয়ে কেটে ফেলা গলা। ওই হত্যাযজ্ঞে শিশু, বৃদ্ধ, নারীরাও রেহাই পাননি।'

১৩ই জুন। নীলফামারীর কুখ্যাত গোলাহাট গণহত্যা দিবস আজ। যাকে বলা হয় "অপারেশন খরচাখাতা" নামে।

বিনম্র শ্রদ্ধা রইলো শহীদদের প্রতি।

ট্রেনে করে নিরাপদে ভারতে পৌঁছে দেয়ার আশ্বাস দিয়ে ৪৩৭ জন নিরীহ মানুষকে কচুকাটা করা হয়েছিলো আজকের দিনে। যেদিন ছবির এই কালভার্ট আর রেললাইন পরিণত হয়েছিলো লাশের মহাসমুদ্রে।

কুখ্যাত অপারেশন খরচাখাতা এক ভয়ংকর অধ্যায়।

মুক্তিযুদ্ধ শুরুর তিনদিন আগে ২৩ মার্চ রাত থেকে সৈয়দপুরে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও তাদের দোসর সৈয়দপুরের বিহারিরা বাঙালি নিধন শুরু করে। মহল্লায়-মহল্লায় ঢুকে নেতৃস্থানীয় বাঙালিদের নির্বিচারে হত্যা করা হয়। এ অবস্থায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছিল শহরের মাড়োয়ারিপট্টির বাসিন্দাদের।।

৫দিন ঘোষণা চলে আর এদিকে নিরীহ মাড়োয়ারীরা বুক বেঁধেছে আশায়। আগের রাত থেকেই সাড়ে চারশর বেশি মাড়োয়ারি অপেক্ষমান সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশনে। ট্রেনে যদি জায়গা না পাওয়া যায় সেই আশঙ্কায় আগেই হাজির হয়ে গিয়েছিলেন মাড়োয়ারিরা।

অবশেষে নির্ধারিত সকাল ১০টায় ট্রেনটি ছাড়ে। ট্রেন ছাড়ার পর সব জানালা-দরজা বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছিলো। ট্রেনটি ধীরগতিতে দুই মাইলের মতো পথ অতিক্রম করার পর শহরের গোলাহাটের কাছে এসে থেমে যায়। সবাই আশ্চর্য হয়ে ভাবছে কী হলো, ট্রেন থেমে গেল কেন? কোনো সমস্যা হয়েছে নাকি! ভয় ও শঙ্কা দেখা দিলো তাদের চোখেমুখে।

অন্যদিকে বিহারী ও রাজাকার ইজাহার আহমেদ, বিহারী নেতা কাইয়ুম খান ও বিপুলসংখ্যক বিহারী ও পাকিস্তান সেনাবাহিনী সৈন্য উপস্থিত তখন গোলাহাটে সেই ট্রেনটিরই অপেক্ষায়। ট্রেন থামতেই প্রতিটি বগির দরজা খুলে ভেতরে রামদা হাতে কয়েকজন বিহারি প্রবেশ করে, বাইরে তখন ভারী আগ্নেয়াস্ত্র হাতে পাকিস্তান সেনাবাহিনী গোটা এলাকা ঘিরে রেখেছে। যেন একজন মাড়োয়ারিও পালাতে না পারে। শুরু হয় রামদা দিয়ে কোপানো। মুহূর্তের মধ্যেই বীভৎস আর পৈশাচিক উৎসবে মেতে ওঠে বিহারীরা। কোনো কোনো লাশকে কয়েক টুকরো করে রেললাইনের চারপাশে ছুড়ে ফেলা হয়। নৃশংসভাবে হত্যা করা হয় শিশুদের।

সেদিনের সেই পৈশাচিক গণহত্যা থেকে ভাগ্যক্রমে পালিয়ে বেঁচে যাওয়া সেই দশ যুবকের মধ্যে একজন তপন কুমার দাস। সেদিনের সেই গণহত্যার প্রত্যক্ষদর্শী তপন কুমার দাস দিয়েছিলেন গণহত্যার বর্ণনা।

তিনি বলেছিলেন, 'পাকিস্তানী সেনারা ১৩ই জুন আনুমানিক সকাল ৫টায় ভারতে পৌঁছে দেয়ার কথা বলে ৪টি বগিতে আমাদের তোলে। ট্রেনে উঠার পরই পাকিস্তানী সেনাদের বুঝতে অসুবিধা হলো না এই দিন আমাদের শেষ দিন। সে সময় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি পড়ছিলো। ঠিক সকাল ১০টার দিকে স্টেশন থেকে ছেড়ে যায় ট্রেনটি। চলছিল ধীরে ধীরে। শহর থেকে বেরিয়ে রেলওয়ে কারখানা পেরিয়েই হঠাৎ থেমে যায় ট্রেন। জায়গাটা স্টেশন থেকে দুই মাইল দূরে। নাম গোলাহাট। যাত্রীদের অনেকে ধারালো অস্ত্রের আঘাত সইতে না পেরে গুলি করে মারার জন্য অনুরোধ করে।

সেদিনের সেই পৈশাচিক গণহত্যা থেকে ভাগ্যক্রমে বেঁচে যাওয়া আরেক প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন গোবিন্দ চন্দ্র দাস। তিনিও পালিয়ে ভাগ্যক্রমে বেঁচে গিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘থেমে থাকা ট্রেনের কম্পার্টমেন্টে ঢুকেই পাকিস্তানি সেনারা চিৎকার করে উর্দুতে বলতে থাকেন, একজন একজন করে নেমে আসো। তোমাদের মারতে এসেছি আমরা। তবে পাকিস্তানের দামি গুলি খরচ করা হবে না। সকলকে এ কোপে বলি দেওয়া হবে। সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয়ে যায় বেপরোয়া হত্যাযজ্ঞ। ধারালো রামদা দিয়ে কেটে ফেলা গলা। ওই হত্যাযজ্ঞে শিশু, বৃদ্ধ, নারীরাও রেহাই পাননি।'

১৩ই জুন। নীলফামারীর কুখ্যাত গোলাহাট গণহত্যা দিবস আজ। যাকে বলা হয় "অপারেশন খরচাখাতা" নামে।

বিনম্র শ্রদ্ধা রইলো শহীদদের প্রতি।

রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৫

বাঙ্গালী বিপ্লবী হিন্দুদের আত্মতেগ

 ভারতের স্বাধীনতা বাঙ্গালী হিন্দু/ মুসলিম আত্মত্যাগ।


মুসলমানদের মধ্যে কে ফাঁসিতে ঝুলেছিলেন - প্রশ্ন করাতে অনেকে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন দেখছি । যারা দিয়েছেন, তাদের ভাষাটা বাংলা হলেও নামগুলো আরবী, অতএব বোঝাই যায় তারা ধর্মে মুসলমান, অতএব তাদের ক্ষোভ হওয়া অস্বাভাবিক  নয় । সঙ্গে কিছু বাঙালি নামধারী খৎনা করা হিন্দুও আছেন দেখছি । তা থাকুন । কিন্তু সত্য হিন্দু-মুসলমান মেনে চলে না, মমতার নির্বাচনী প্রচারকেও খাতির করে না । স্বামী বিবেকানন্দের উক্তি স্মরণীয়, "সত্যের জন্য সব কিছুকে ত্যাগ করা চলে, কিন্তু কোন কিছুর জন্যেই সত্যকে বর্জন করা চলে না "।

তাই সত্য কি, দেখা যাক । প্রথমে বাঙালি হিন্দুদের কথা ।

ক্ষুদিরাম বসু থেকে তারকেশ্বর দস্তিদার পর্যন্ত সাত জন বাঙালি ফাঁসিতে ঝুলেছেন । সংখ্যাটা এর বেশি বই কম নয় । এর উপরে আছেন প্রফুল্ল চাকী, বিনয় বসু, বাদল গুপ্ত সদৃশ বিপ্লবীরা, যারা ফাঁসির দড়িকে ফাঁকি দিয়ে নিজেদের জীবন নিয়েছিলেন । সবাই হিন্দু । আন্দামান সেলুলার জেলে ব্রিটিশের হাতে অসম্ভব নির্যাতিত রাজবন্দীদের যে স্মারক ফলক আছে তাতে ৫৮৫ জনের মধ্যে ৩৯৮ জন (৬৮ শতাংশ) বাঙালি হিন্দু বিপ্লবী ।  মনে রাখতে হবে, এই সময় বাংলা ছিল মুসলিম-প্রধান প্রদেশ, কিন্তু একজন বাঙালি বা অবাঙালি মুসলমানের নামও আমি তার মধ্যে পাইনি - এক-আধটা মিস করে গিয়ে থাকতে পারি । চট্টগ্রাম সে সময় ছিল মুসলিম-প্রধান জেলা (প্রায় ৬৫% মুসলমান) কিন্তু মাস্টারদা সূর্য সেনের নেতৃত্বে যে অস্ত্রাগার লুন্ঠন হয়েছিল তাতে একজন মুসলমানেরও কোন ভূমিকা ছিল না ।

এবার মুসলমানেরা ।

ক্ষুব্ধ গোষ্ঠীর কাছে প্রথমেই বলি একমাত্র - একমাত্র - মুসলমান যিনি স্বাধীনতা সংগ্রামে বিপ্লবী কার্যক্রম করে ফাঁসিতে ঝুলেছিলেন, তাঁর নাম আসফাকুল্লাহ খান । যারা তা ঝোলেননি তাঁদের মধ্যে খান আব্দুল গাফ্ফার খান ও মৌলানা আবুল কালাম আজাদও নিঃসন্দেহে স্বাধীনতা সংগ্রামী ।

বাকিদের ফিরিস্তি দিচ্ছি ।

টিপু সুলতান, তিতু মীর, হাজী শরীয়তউল্লাহ, দুদু মিয়া ইত্যাদিরা স্বাধীনতা সংগ্রামী তো নয়ই, বরঞ্চ নিজেদের চরম সাম্প্রদায়িক ইসলামী রাজত্ব কায়েম করার জন্য কাজ করেছিল । টিপু সুলতান শুধু হিন্দুদের উপর অত্যাচার করেনি, পশ্চিম উপকূলের খ্রিস্টানদেরও অকথ্য নির্যাতন করেছিল । তিতু মীর বাঙালি মুসলমানদের দাড়ি রাখতে, লুঙ্গি পরতে, আরবী পড়তে শিখিয়েছিল, যাতে তাদের থেকে হিন্দুদের ব্যবধান বাড়ে - তার আগে হিন্দু ও মুসলমান অনেক বেশি সৌহার্দ নিয়ে পাশাপাশি বাস করত। হাজী শরীয়তউল্লাহ ও তার পুত্র দুদু মিয়া শুধু মুসলমানদের নিয়ে ধর্মান্ধ ফরাজী আন্দোলন আরম্ভ করেছিল - স্বাধীনতা সংগ্রাম বলতে আমরা যা বুঝি তার সঙ্গে তার সুদূরতম সম্পর্কও ছিল না । এই সব প্রক্রিয়ায় তাদের সঙ্গে ব্রিটিশ রাজশক্তির সংঘর্ষ হয়েছিল, তাতেই তারা হয়ে গেল স্বাধীনতা সংগ্রামী?

আলী মুসলিয়ার, কুনহামহাম্মাদ হাজি ইত্যাদিরা মালাবার অঞ্চলের (বর্তমান উত্তর কেরালার) মোপলা বিদ্রোহের নেতা । এটি ব্রিটিশ-বিরোধী বিদ্রোহ নামেই, কাজে এটি ছিল হিন্দুদের একটি গণহত্যার প্রক্রিয়া, এবং এরই ফলে এদের ফাঁসি হয় । এরা ওই অঞ্চলে আনুমানিক দশ হাজার হিন্দু খুন করেছিল । আলী ভ্রাতৃদ্বয় (মৌলানা মোহাম্মদ আলী ও শওকত আলী) খেলাফত আন্দোলনের নেতা ছিল, যার উদ্দেশ্য ছিল তুর্কিতে খলিফাকে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করা - এর সঙ্গে ভারতের স্বাধীনতার দাবীর কোন সম্পর্ক ছিল না । শওকত আলী বলেছিল হিন্দু-মুসলিম ঐক্য তখনি প্রতিষ্ঠিত হবে যখন হিন্দুরা তাদের ধর্ম ছেড়ে ইসলাম কবুল করবে । এদের খ্যাতির কারণ, শয়তান মোহনদাস গান্ধী এদেরকে তৈলমর্দন করত, এমনকি গণহত্যাকারী মোপলা নেতাদের প্রশংসা করেছিল এই বলে যে তারা ধর্মভীরু ও সাহসী, তাদের ধর্মে যা বলেছে তারা তাই করেছে । কংগ্রেস সভাপতি আনি বেসান্ত (ইংরেজ মহিলা) গান্ধীর এই ভণ্ডামির প্রভূত নিন্দা করেছিলেন ।

কেউ কেউ বেগম রোকেয়া, কাজী নজরুল ইসলামের নামও করেছেন দেখছি । এঁরা নমস্য মানুষ, কিন্তু কোন অর্থেই স্বাধীনতা সংগ্রামী নন । বেগম রোকেয়া মুসলমান মেয়েদের মধ্যে শিক্ষার প্রচারের চেষ্টা করেছিলেন বলে মোল্লা-মৌলবীদের কাছে প্রচুর গালি খেয়েছিলেন । এঁদের সঙ্গে  নাম করতে হয় কাজী আব্দুল ওদুদ, এস ওয়াজেদ আলী, রেজাউল করিম (মুর্শিদাবাদের)। নজরুল বাংলায়, মৌলানা হজরত মোহানী উর্দুতে দেশাত্মবোধক কবিতা লিখেছেন, কিন্তু তাতে এঁরা কেউই স্বাধীনতা সংগ্রামী হয়ে যান নি ।

প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধে (তথাকথিত সিপাহী বিদ্রোহ) দিল্লির অথর্ব মোঘল বাদশাহ বাহাদুর শাহ জাফরকে সিংহাসনে বসাবার জন্য লড়াই হয়েছিল । ইংরেজরা যে অর্থে বিদেশী, মোঘলরাও তাই । তবে বেচারা অথর্ব সম্রাটের কোন দায়িত্ব ছিল না, শুধু বিদ্রোহের মুখ হওয়া ছাড়া - এই করতে গিয়ে তার দুই নাতি খুন হল, নিজে বর্মায় নির্বাসিত হলেন ।

খুচরো-খাচরাদের কথা বাদ দিলাম ।

সিপিআই(এম)-এর 'কাকাবাবু' মুজফ্ফর আহমেদ একটা অদ্ভুত সাফাই দিয়েছেন, কেন বাঙালি মুসলমানেরা অগ্নিযুগে বিপ্লবী সংগ্রামে সামিল হয় নি । তিনি বলেছেন, এই সব বিপ্লবীরা গীতা ছুঁয়ে শপথ নিত, কোন একেশ্বরবাদী মুসলিম ছেলে কি করে এই কাজ করতে পারে? বুঝলাম । কিন্তু তারা তো কোরান ছুঁয়ে একটা সমান্তরাল আন্দোলন করতে পারত ! করে নি কেন ?

শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০২৫

শাহজাহান এর শেষ মুহূর্ত

 ১৬৫৯ সালের ঘটনা। স্থান প্রতাপগড়‚ মহারাষ্ট্র। 


মুঘল বংশের সবথেকে ছ্যাঁচড়া নমুনাটি অর্থাৎ ঔরঙ্গজেব তখন দাক্ষিনাত্য ছেড়ে দিল্লির দিকে দৌড় দিয়েছে। কারণ উড়ো খবর এসেছে বাবা শাহজাহানের দুনিয়ার ভিসা ক্যান্সেল হয়ে গেছে। ফলে‚ দিল্লির সিংহাসন এখন ফাঁকা পড়ে আছে। তাই মুঘল ট্রাডিশান মতো এখন শাহাজাহানের ছেলেদের মধ্যে সাঙ্ঘাতিক যুদ্ধ হওয়ার কথা। এক ভাই অন্য ভাইয়ের গলা কাটবে। কাকা ভাইপোকে বিষ খাইয়ে মারবে‚ হেরে যাওয়া ভাইদের আত্মীয় আর অনুগামীদের কচুকাটা করা হবে‚ তাদের মেয়েদের দখল করবে বিজয়ী ভাই। সারা ভারত রক্তের সাগরে ভাসবে। আর তার মধ্যে দিয়েই জিতে যাওয়া ভাই বসবে ভারত শাসন করার মসনদে। হয়ে উঠবে সে মহান সম্রাট। আরব থেকে নিয়ে আসা এক ভয়ঙ্কর জান্তব নিয়ম তখন চলছে ভারতবর্ষ জুড়ে। 


প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে ভারতের ইতিহাসে সিংহাসনের দখল নিয়ে কয়েকটা ভ্রাতৃঘাতী লড়াই হলেও সেগুলো ছিলো নেহাতই ব্যতিক্রম। সাম্রাজ্যের উত্তরাধিকার নিয়ে হিন্দু নিয়ম কিন্তু সেই প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকেই নির্দিষ্ট ছিল। যে কারণে আমরা দেখতে পাই যুধিষ্ঠিরের জন্ম হয়ে যাওয়ার খবর শুনে গান্ধারীর নার্ভাস ব্রেকডাউন হয়ে যায় আর সে গর্ভ নষ্ট করার উপক্রম করে। ( এবং সম্ভবত করেও ফেলেছিলো। অন্ততপক্ষে মহাভারত সেটাই বলছে। আর তারপরই হঠাৎ অলৌকিকতার দিকে টার্ণ নেয় পরবর্তী কার্যক্রম। খুব সম্ভবত এর পরই ভীষ্মকে কন্ট্রোলে রাখার উদ্দেশ্য এদিক ওদিক থেকে ১০০ খানা বাচ্চা তুলে এনে গান্ধারীর হাতে তুলে দেয় ব্যসদেব। ভীষ্মও সম্ভবত যে কারণে কুরু সিংহাসনের রক্ষক হয়েও কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে বংশের বিদ্রোহী ফ্যাকশন অর্থাৎ পান্ডবদের প্রতি অনুগত ছিলো। কুরুক্ষেত্রে ভীষ্মের হাতে বেশিরভাগই পাঞ্চাল সৈন্য মারা গেছিলো‚ পান্ডবদের ন্যূনতম ক্ষতি হয়নি। পয়েন্ট টু বি নোটেড।)  যাইহোক আসল কথায় আসি‚ এই  সিংহাসন দখলের জন্য নির্দিষ্ট আইনের অভাব ও সেই কারণে বাধ্যতামূলক যুদ্ধ মূলত মধ্যযুগেই ভারতের ট্রাডিশান হয়ে ওঠে।


তো যেখানে ছিলাম সেখানে ফিরি। ভাইদের সাথে যুদ্ধ করতে আওরঙ্গজেব তো দক্ষিন ছেড়ে উত্তরে দিল্লির দিকে দৌড় দিল। ফলে সাউথের পাওয়ার স্ট্রাকচার গেলো পালটে। সাউথের শিয়া রাজ্যগুলোর উপর আওরঙ্গজেবের ভয়ানক রাগ ছিল। আওরঙ্গজেব বলত ওরা নাকি মুসলমানই না। মুশরিক। তাই দাক্ষিণাত্যে গিয়ে আওরঙ্গজেবের প্রথম ও প্রধান কাজ হয়েছিল শিয়া রাজ্যগুলো দখল করা। সুন্নী মুঘলদের তান্ডবে দক্ষিনী শিয়াদের তখন আক্ষরিক অর্থেই সিপিএম কন্ডিশন হয়ে গেছিল। 


কিন্তু আওরঙ্গজেব দক্ষিণ ছাড়তেই ওরা আবার মাথা চাড়া দিল। ওদের জেহাদী যোশ আবার ফিরে আসল। আর বিজাপুরের সুলতান মন দিল কাফের শিবাজীকে সাইজ করার কাজে। ফলে সৈন্য সামন্ত সহ বিজাপুরের কমান্ডার আফজল খাঁকে পাঠানো হল শিবাজীকে মার্ডার করার জন্য।


শিবাজির সাথে লড়াইয়ের জন্য আফজল খান যা নিয়ে এসেছিল তা মোটামুটি এইরকম -

২০,০০০ আদিলশাহী অশ্বারোহী সৈন্য

১৫,০০০ আদিলশাহী পদাতিক সৈন্য

আফজল খানের ১০,০০০ ব্যক্তিগত অশ্বারোহী সৈন্য

আফজল খানের ৫,০০০ ব্যক্তিগত পদাতিক সৈন্য

১,৫০০ মাস্কেটধারী

৮৫টি যুদ্ধের হাতি।

১,২০০টি উট

৮০-৯০টি কামান

১২,০০০ অতিরিক্ত পদাতিক সৈন্য


এখন এই আফজল খাঁ লোকটি মানুষ হিসাবে বিশেষ সুবিধার ছিল না। যুদ্ধবিদ্যাও তেমন ছিলো না। থাকার মধ্যে ছিলো তার একটা জাম্বো সাইজ কালাপাহাড়ি শরীর। নিজে সেনাপতি হলেও যুদ্ধমুদ্ধ করতে তার ছিলো ভয়ানক আপত্তি। তার সবথেকে প্রিয় শখ ছিলো হিন্দু রাজাদের মিষ্টি মিষ্টি কথা বলে নিজের কাছে ডেকে আনা‚ তাদের বন্ধুভাবে কোলাকুলি করা আর কোলাকুলি করার ছলে নিজের বিশাল শরীর দিয়ে চেপে দম আটকে কিংবা ছুরি দিয়ে কুপিয়ে তাকে মেরে ফেলা। শিবাজীকে ডাকার আগে আফজল খান ১৬৩৯ সালে আরেক হিন্দু রাজা কস্তুরি রাঙ্গাকেও একইভাবে মিটিং করার নামে ডেকে খতম করে দিয়েছিল বলে তথ্য পাওয়া যায়।  


তা আফজল খান আসছে শুনে শিবাজিও এগোল যুদ্ধ করার জন্য। কিন্তু আফজল খান জানত যে শিবাজি লড়াই করেন গেরিলা পদ্ধতিতে।  অর্থাৎ ছোটো ছোটো দলে ভাগ হয়ে শত্রুকে আক্রমণ করে আর যতটা সম্ভব বেশী ক্ষয়ক্ষতি করে ফিরে যায়। জমি ও নারী দখলের লড়াইতে পারদর্শী আফগানদের মাথায় ঢুকত না শিবাজির এই গেরিলা পদ্ধতি। ওরা হয়তো কোনো গ্রাম অরক্ষিত দেখে সেখানে আক্রমণ করার পায়তারা করছে‚ লাস্ট মিনিট সাজেশনের মতো গ্রামের কোন সম্পদ কে নেবে‚ কোন নারীকে কে ধর্ষন করবে এসব জটিল ও প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা সেরে নিচ্ছে‚ এমন সময় কথা নেই বার্তা নেই‚ চারিদিক থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে মারাঠা সৈন্য এসে আফগানদের বেধড়ক পিটিয়ে চলে গেল। সেনাপতি যুদ্ধ শুরু করার অর্ডার দেওয়ার আগেই হয়তো দেখা গেল অর্ধেক আফগান মরে পড়ে আছে আর অর্ধেক আফগান কি করবে বুঝতে না পেরে প্রাণের মায়ায় ভাগলবা হয়েছে‚ দে ছুট। নিতান্তই হেলায় যুদ্ধ জিতে যেত মারাঠারা।  


তাই শিবাজিকে ট্যাকল করার জন্য আফজল খান নিজস্ব টেকনিক ইউজ করতে চাইল। তার সেই বন্ধুত্বের নামে কোলাকুলি করে কিষেনজী বানিয়ে দেওয়ার পদ্ধতি। এর আগেও বহুজন তার কাছে এসে ফেঁসেছে এই টেকনিকের জন্য।


যাইহোক‚ পরিকল্পনা মতো আফজল খান শিবাজির কাছে দূত পাঠাল। যে‚ কি আর হবে যুদ্ধুমুদ্ধু করে? আমিও মানুষ‚ তুমিও মানুষ। আমাদের দুজনের রক্তই লাল -  তাই এসো আমরা আজ থেকে শত্রুতা ভুলে যাই। তুমি আমার তাবুতে এসো‚ আমি তোমার সাথে কোলাকুলি করে বন্ধুত্ব পাতাই আর আমরা দুজনে মিলে অষ্টম বামফ্রন্ট সরকার গড়ি। টেক লাভ অ্যান্ড হ্যাভ ফান। ইনকিলাব জিন্দাবাদ।  


আফজলের দূতকে দেখে শিবাজি সবই বুঝলেন। আফজলের স্বভাব সে ভালোমতোই জানত। আফজলের এইসব মিষ্টি মিষ্টি কথা শুনে কস্তুরি রাঙা সহ অন্যান্য হতভাগ্য রাজাদের কি হাল হয়েছিল তাও সে শুনেছিল। কিন্তু কথা হল যে শিবাজি হলেন শিবাজি। ইংরেজিতে যাকে বলে ম্যান উইথ আয়রণ বলস। লোহার অন্ডকোষ যুক্ত পুরুষ। বিন্দুমাত্র না ঘাবড়িয়ে শিবাজিও দূতের হাত দিয়ে ফিরতি চিঠি পাঠিয়ে দিলো যে‚ আফজলের মতো ফার্স্ট ক্লাস জেনারেল তার বিরুদ্ধে লড়তে আসছে‚ এটা জেনে সে বড়ই লজ্জিত ও মর্মাহত হয়েছে। নেহাতই এটা কলিকাল‚ এখন কেউ লজ্জা পেলেও পৃথিবী দুভাগ হয় না তাই তিনি কোনোমতে বেঁচে আছেন। যদি আফজল আগে দূত না পাঠাত তাহলে শিবাজিই নাকি আফজলের কাছে আনুগত্যের  বার্তা পাঠাত। আফজল নিজে তার মতো একজন ছোট্ট রাজার কাছে দূত পাঠিয়েছে এটা ভেবে সে আরেকবার লজ্জিত হয়েছে…………ইত্যাদি ইত্যাদি নানা ভ্যানতারা পাকানো চিঠি গেল আফজলের কাছে। যার মোদ্দা কথা এই যে নির্দিষ্ট দিনে শিবাজি আসছে আফজলের শিবিরে তার সাথে দেখা করতে। 


নির্দিস্ট দিনে শিবাজি গায়ে চড়ালেন লোহার বর্ম ও মাথায় লোহার হেলমেট । তার ওপর পড়লেন আলখাল্লা ও মাথায় উষ্ণীষ। বাম হাতে পরলেন বাঘনখ লাগানো গ্লাভস এবং ডান হাতের জামার হাতার ভাঁজে লুকিয়ে রাখলেন একটি ছোরা। তাঁর লুটিয়ে-পড়া পুরো-হাতা সাদা আলখাল্লার নীচে সব চাপা পড়ে গেল। হ্যাঁ, এ বার তিনি ধর্মযুদ্ধের জন্য প্রস্তুত! রাঙা কস্তুরি সহ অসংখ্য হিন্দুর উপর হওয়া অন্যায়ের প্রতিশোধ আজ তিনি তুলবেন। 


বেরোনোর সময় হিন্দু রীতি মেনে প্রণাম করলেন জিজামাতাকে। মা পুত্রকে আশীর্বাদ করলেন। জন্মদাত্রী মায়ের ও আরাধ্যা দেবী ভবানীর আশীর্বাদ নিয়ে বেরিয়ে পড়লেন শিবাজি। ইতিহাসে তারিখ তখন ১০ নভেম্বর, ১৬৫৯ সাল।


প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে তাদের মধ্যে ঠিক হয়েছিল যে শিবাজি এবং আফজল খান দু’জনের সাথে মাত্র দু’জন করে বডিগার্ড  উপস্থিত থাকবে। এছাড়া আর কেউ ধারেকাছে থাকতে পারবে না। কারণ সেফটি ফার্স্ট! 


শিবাজি নির্দিষ্ট সময় ঢুকলেন আফজল খানের তাবুতে। শান্ত - নিরীহ - নিরস্ত্র। ঠিক যেন মারাঠি পোষাক পড়া আমাদের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীটি! 


এদিকে আফজলের পাশে রাখা আছে তলোয়ার এবং ভোজালি। আহ্লাদে আটখানা হয়ে আফজল অপেক্ষা করছে কখন শিবাজি তার সামনে আসবে‚ দুজন কোলাকুলি করবে আর তারপরেই………! জান্নাতে ভালো জায়গা পাওয়ার পথে আরেক ধাপ এগিয়ে যাবে আফজল। কিন্তু হিন্দু কূল ধুরন্ধর শিবাজিকে চিনতে তার তখনো বাকি ছিলো! 


শিবাজি মঞ্চে উঠলেন। হাসি মুখে এগিয়ে গিয়ে যেখানে আফজল খানের সামনে দাঁড়ালেন আর তাকে অভিবাদন জানালেন। শুভ কাজে দেরী করতে নেই ভেবে আফজলও উঠে দাঁড়াল আর দুহাত বাড়িয়ে শিবাজিকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরল। 


বিরাট দেহ আফগান আফজলের কাঁধের কাছে ঠেকলেন আকৃতিতে ছোটখাটো মরাঠা শিবাজি। এই অসম আকৃতির সুযোগে বাঁ হাতে শিবাজির গলা টিপে ধরল আফজল। ডান হাতে ছুরি নিয়ে কোপ বসালে শিবাজির বাম দিকে। কিন্তু বর্ম থাকায় সেই কোপ চামড়া পর্যন্ত পৌঁছাল না। পরিস্থিতির জন্য তৈরী ছিলেন শিবাজিও। সম্ভবত হিন্দু নিয়ম মেনে বন্ধুত্বকামী শত্রুকে আগে আক্রমণ করেন নি। অপেক্ষা করছিলেন শত্রুর আক্রমনের! আর সেই আক্রমণ আসতেই

স্বভাবসুলভ ক্ষিপ্রতায় শিবাজি তাঁর বা হাত দিয়ে জড়িয়ে ধরলেন আফজলের কোমর এবং সঙ্গে সঙ্গে পরপর বাঘনখের আঘাতে চিরে ফেললেন আফজলের পেট।


শিবাজী আফজলের নাড়িভুড়ি বের করে দেবার পর আবার একটা ছোরা দিয়ে কোপ মারেন। কিন্তু পাশে থাকা আফজলের বডিগার্ড তলোয়ার দিয়ে কোপ মেরে শিবাজীর পাগড়ি দুটুকরো করে ফেলে। ভেতরে হেলমেট থাকায় মাথা বেঁচে যায় শিবাজির।  শিবাজীর বডিগার্ড আবার এক কোপে সেই আফজলের বডিগার্ডের হাত কেটে ফেলেন। আর শিবাজী বেচারাকে এক হাত নিয়ে বেঁচে থাকার কষ্ট থেকে মুক্তি দেবার জন্য এক্কেবারে স্কন্ধকাটা বানিয়ে  দেন। ওদিকে বডিগার্ডের মারামারির সুযোগে নাড়িভুড়ি বের হওয়া আফজল পালানোর ধান্দা করছিল। বডিগার্ডের পর আফজলকেও এবার স্বেচ্ছায় মুন্ডুদান শিবিরে বসিয়ে দেওয়া হয়। সেনাপতির মুন্ডু নেই দেখে বাকি বিজাপুরীরা বন বাঁদার ভেঙ্গে উল্টোদিকে দৌড় দেয়। য পলায়তি স জীবতি। পন্ডিত লোকে বলে গেছেন।


অল্পস্বল্প কিছু যুদ্ধ হয় বটে। তবে তা না হওয়ার মতোই। তবে যেকটা বিজাপুরীকে সামনে পায় মারাঠারা‚ সবকটাকে পত্রপাঠ আল্লার পেয়ারে করে দেওয়া হয়। আর বিজাপুরীদের ফেলে যাওয়া বহু কামান, ৬৫টা হাতি, ৪,০০০ টা ঘোড়া, ১,২০০ উট, ১০ লক্ষ নগদ টাকা, ৩ লক্ষ টাকার সমমূল্যের অলঙ্কার এবং প্রচুর মূল্যবান পোশাক হস্তগত করে আবার নিজের কেল্লায় ফিরে যায় শিবাজি।i


হ্যাঁ ঠিক আজকের দিনেই ঘটেছিল সেই মহান ঘটনাটি। ১০ই নভেম্বর, ১৬৫৯!

বান্দা_বাহাদুর_সিং

গত কয়েকদিন পূর্বে পড়েছেন বান্দা বাহাদুর সিং এর পূর্ব জীবন। অতঃপর তাঁর শিখ ধর্ম গ্রহণ এবং খালসা বাহিনীতে যোগদান।


যারা পড়েন নি, তারা পড়ে নিন। 


আজ দ্বিতীয় পর্ব...


আওরঙ্গজেবের মৃত্যু হল। 

অতঃপর বাদশা হলেন বাহাদুর শাহ। গুরু গোবিন্দ সিংকে সম্মান প্রদর্শন করলেন তিনি। 

আপাতত সব শান্ত হল।


ততদিনে শিখ সাম্রাজ্য বিস্তার হয়ে গেছে অনেকটা। বান্দা বাহাদুর সিং প্রবলভাবে সফল হয়েছিলেন। 

এই সময় তিনি এক যুদ্ধক্ষেত্রে একটি ছোট্ট বাচ্চাকে দেখতে পান, তিনি তাকে কোলে তুলে নিয়েছিলেন। 

পরে খোঁজ নিয়ে জেনেছিলেন সেই বাচ্চার পিতামাতা দুজনেই মুঘল আক্রমনে মারা গিয়েছেন। তিনি তখন সেই বাচ্চাটিকে দত্তক নিয়েছিলেন।


কিন্তু কিছুদিন পর বাদশা হলেন ফারুখ শিয়র। 

এদিকে দেশ জুড়ে মুঘল প্রভাব প্রায় তলানিতে। 

বাড়ছে শিখ প্রভাব।

এরকম অবস্থায় বাদশা ফারুখ শিয়র সিদ্ধান্ত নিলেন যে, বান্দা বাহাদুর সিংকে যেভাবে হোক ধরতে হবে। এবং শিখ সাম্রাজ্য ধ্বংস করে পুনরায় মুঘল প্রভাব ফিরিয়ে নিয়ে আসতে হবে। 

এমন এক ভয়ানক পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে যে এর পরবর্তীতে আর কেউ মুঘলদের বিরুদ্ধে যাবে না।

বলাবাহুল্য এই কাজের জন্যে তিনি তার আদর্শ ঠাকুরদা আওরঙ্গজেবের আদর্শ সামনে রেখে চলবেন বলে স্থির করলেন। 


এদিকে বান্দা বাহাদুর সিং মুঘল সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে দিলেন এবং পাঞ্জাব অঞ্চলে মুঘল শাসনের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তুললেন। বান্দা বাহাদুর সিংয়ের বিদ্রোহ মুঘল সাম্রাজ্যের জন্য একটি বড় বাধা হয়ে উঠেছিল, কারণ তিনি একের পর এক যুদ্ধে মুঘল বাহিনীকে পরাজিত করে পাঞ্জাব অঞ্চলের একটি বড় অংশ দখল করে নিয়েছিলেন।


বান্দা বাহাদুর সিংএর উদ্দেশে একদল মুঘল রওনা দেয়। প্রায় লাখ খানেক সেনা ছিল সেই দলে।


বন্দী সিংহ:


তখন উপায়ান্তর না পেয়ে বান্দা সিং বাহাদুর এবং তার সঙ্গীরা গুরদাস নাঙ্গালের দুর্গে প্রবেশ করেন। এই সুযোগে মুঘল বাহিনী দুর্গ ঘিরে ধরে। সেখানে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন বান্দা এবং তাঁর সঙ্গীরা। একনাগাড়ে আট মাস ধরে চলে এই অবরোধ। 


দুর্গ মধ্যে অবরুদ্ধ থাকা কালীন তাদের অবস্থা হয়ে শোচনীয়। অত্যন্ত কঠিন এবং নিষ্ঠুর পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে প্রতিটি দিন অতিবাহিত হত। দুর্গের ভেতর খাদ্য ও জল সরবরাহ করা হয় না। যাতে তারা দুর্বল হয়ে পড়ে। 

দুর্গের অবস্থা ছিল এমনিতেই অত্যন্ত খারাপ, যেখানে তারা বসবাস করছিলেন।


বান্দা সিং বাহাদুর এবং তার সঙ্গীদের অবস্থা ছিল নিম্নরূপ:


খাদ্য ও জল সংকট তাদেরকে কাহিল করে তোলে। তারা দুর্বল হয়ে পড়েন।


এই কঠিন সময়ে বেঁচে থাকার জন্য সকল শিখ গাছের পাতা ও ছাল খেয়ে কোনক্রমে দিন অতিবাহিত করছিলেন।

 


তাদের সম্পর্কে রতন সিং তার কবিতায় লিখেছেন, 

রੋਟੀ ਸ਼ੋ ਉਨ ਚੰਦ ਦਿਸ ਪਾਵੇ | 

ਹੱਥ ਉਠਾਵੇੰ ਹੱਥ ਨੀਹਂ ਆਵੇ | 

পূর্ণিমার রাতে, শিখ সিংহেরা, এত ক্ষুধার্ত হয়ে পড়তেন যে চাঁদকে রুটি ভেবে সেটা নেবার জন্য হাত বাড়াতেন কিন্তু হাত আর ওপরে উঠত না। 


রতন সিং আরও বর্ণনা করেছেন, শিখ সিংহদের শরীর খুব দুর্বল হয়ে পড়েছিল। 

ਓਪਰ ਹਡ ਨੀਹਂ ਦੀਸੈ ਮਾਸ | 

।ਜਨ ਏ ਮੁਏ ਭਰਤ ਹੈ ਸਾਸ | 

তাদের শরীরের প্রতিটি হাড় দেখা যাচ্ছিল, যেন মৃতদেহগুলি শ্বাস নেওয়ার জন্য সংগ্রাম করছে।


দুর্গের অবস্থা ছিল অত্যন্ত খারাপ, আসলে এটি এক প্রায় পরিত্যক্ত দুর্গ ছিল। বসবাসের অযোগ্য ছিল তবুও তারা সেখানে অধিষ্ঠান করছিলেন।

অস্বাস্থ্যকর স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশে থাকার জন্যে  অনেকেই রোগ-ব্যাধিগ্রস্থ হয়ে পড়েন। ফলে তাদের অবস্থা আরও খারাপ হয়।


এদিকে মুঘল বাহিনী দুর্গের উপর উপর্যুপরি আক্রমণ চালায়, এর ফলে অবস্থানকারীদের অনেকে আহত হন। কিন্তু তারা কোনরূপ চিকিৎসার সুযোগ পেলেন না। 


তখন বান্দা বাহাদুর সিং সিদ্ধান্ত নেন যে তিনি ছিনিয়ে নিয়ে আসবেন। সেই হিসেবে তিনি একটি ছোট দল নিয়ে বেরোতেন, আক্রমন করে খাদ্য ঔষধ ছিনিয়ে নিয়ে চলে আসতেন। 

মুঘলেরা কিছু বুঝবার আগেই এই কাজ হয়ে যেত।

ক্রমে ক্রমে তারাও সচেতন হয়ে উঠল। এবং আগের মত সহজে খাদ্য ঔষধ সংগ্রহ করা মুশকিল হয়ে উঠছিল।


মুঘল বাহিনীর এই নিষ্ঠুর আচরণ শিখদের মধ্যে তাদের প্রতি আরও প্রবল বিদ্বেষ সৃষ্টি করে।


ঝুটা জুবান: 


অতঃপর ফারুখ সিয়র বলেন, বান্দা বাহাদুর সিং যদি আত্মসমর্পণ করেন, তবে তাকে ছেড়ে দেওয়া হবে। 

কিন্তু বান্দা বাহাদুর সিং রাজি হলেন না।


এদিকে জল এবং খাদ্যের অভাব তাদের মধ্যে দিনদিন বেড়ে চলে। সামান্য একটি রুটি এবং অল্প জল তাদের একদিনের জন্য বরাদ্দ হতে থাকে। 

এইসময় কয়েকজন অকালী সঙ্গী বান্দা বাহাদুর সিং এর দল ছেড়ে চলে যেতে চায়। বান্দা বাহাদুর সিং তাদের সানন্দে যেতে দেন।


অতঃপর ফারুখ প্রয়োগ করেন তার দাদুর কায়দা। শান্তির কিতাবের শপথ করে বলেন বান্দা বাহাদুর সিংকে পাঞ্জাব ছেড়ে চলে যেতে অনুমতি দিচ্ছেন তিনি। 

সেই বার্তা নিয়ে যায় আব্দুস খান। কিন্তু বান্দা বাহাদুর সিং আব্দুস খানকে শপথ করতে বলেন। আব্দুস খান শপথ গ্রহণ করে বলে, "শান্তির কিতাবের শপথ করে বলছি, দুর্গ দরজা খুলে দিলে আমরা আপনাদের যেতে দেবো।"  


শৃঙ্খলবদ্ধ সিংহ:


অতঃপর ১৭১৫ সালের ৭ই ডিসেম্বর দুর্গের দরজা খুলে দেওয়া হয়। 


তখন ঝড়ের গতিতে মুঘলরা দুর্গে প্রবেশ করে এবং অতর্কিত আক্রমন করে প্রায় ২০০ জন শিখদের হত্যা করে।

তাদের সংখ্যা কমে আসার পর বেশ কয়েকজনকে বন্দী করে তারা। 


তখন বান্দা সিং বাহাদুর ও তার সঙ্গী আত্মসমর্পণ করেন।

সকলকে বন্দী করা হয়।


ততক্ষণে সংঘর্ষে মারা গিয়েছেন আরও ১০০ শিখ। 


বান্দা সিং বাহাদুরকে তারপর শৃঙ্খলিত অবস্থায় হাতির পিঠে চাপিয়ে লাহোর নিয়ে যাওয়া হয়। তার দুইহাতে গলায় শরীরে পায়ে সর্বত্র শিকল বাঁধা থাকে। 

সেই হাতির দুইপাশে তার ২০০ সঙ্গীদের বেঁধে নিয়ে যাওয়া হয়। 


সমস্ত বন্দী শিখদের দুইপাশে মুঘল সেনারা যাত্রা করে উঁচু উঁচু বল্লমের মাথায় হত ৩০০ শিখসেনাদের কাটা মাথা গেঁথে নিয়ে।


পথে যত শিখ গ্রাম পড়ে সেখানে হত্যাকাণ্ড চালানো হয়। তাদের কাটা মাথা বল্লমের মাথায় গেঁথে নিয়ে যাওয়া হয়।

যখন লাহোর পৌঁছয় সেই বাহিনী। বল্লমের মাথায় কাটা মাথা সংখ্যা বেড়ে হয় ৩০০০।


এই সময় বান্দা বাহাদুর সিং এবং পুরোনো সঙ্গীদের দেখে দল ছেড়ে যাওয়া অকালি সদস্যরা হা হুতাশ করে।


লাহোর পৌঁছনোর পরে ফারুখ নির্দেশ দেন আব্দুস খানকে, লাহোর দেখাশোনা করতে, এবং বান্দা বাহাদুর সিংকে দিল্লি পাঠিয়ে দিতে। 


দিল্লির পথে যাত্রা শুরু হল, এখন নেতা জাকারিয়া খান। আব্দুস খান এর পুত্র।


পথে শুরু হয় পুনরায় শিখ গ্রামে হত্যা এবং লুঠ। 

এবং গ্রামের পর গ্রাম জুড়ে গাছে গাছে ঝুলিয়ে দেওয়া হয় শিখদের দেহ। ত্রাস সৃষ্টির জন্যে সবকিছু করা হয় অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায়....


আরও ৭৫০ জন খালসা বাহিনীর সদস্যদের বন্দী করে দিল্লি নিয়ে আসা হয়।


ধর্ম পরিবর্তন:


অতঃপর শুরু হয় ধর্ম পরিবর্তনের জন্য চাপ। 

কিন্তু বান্দা বাহাদুর সিং অনড়। অনড় তার খালসা সঙ্গীদের দল। 


১৭১৬ সালের মার্চ মাস, শিখদের জন্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা শুরু হয়। প্রতিদিন, ১০০ জন শিখ কারাগার থেকে বের করে নিয়ে আসা হয়, তাদের এক সারিতে বসানো হত এবং একে একে তাদের শিরশ্ছেদ করা হত। 

সেই মৃত্যুদণ্ড এত ভয়ানক ছিল যে জল্লাদদের তলোয়ার শান দেওয়ার জন্য একদল কামার পাশে দাঁড়িয়ে থাকত।


তবুও একজনও শিখ তার ধর্মত্যাগ করেননি।

"সর জাভে তা জাভে মেরা শিখি সিদক না জাভে।।" 

অর্থাৎ

যদি আমাকে আমার মাথা ত্যাগ করে দিতে হয়, তবে তাই হোক, তবে মাথার পাগড়ি (শিখি) ত্যাগ করব না।


শিখরা তাদের ঠোঁটে ' বাহেগুরু' মন্ত্র নিয়ে জল্লাদদের স্বাগত জানাতো। তাদের মুখের হাসি অম্লান ছিল।

তারা প্রতিদিন ঝগড়া করতো, হুড়োহুড়ি করত, তাদের মধ্যে কে আগে প্রাণ দেবে এই নিয়ে। 


আর তাদের এই অদ্ভুত কাজ দেখে প্রতিটি শান্তির ছেলে ভয়ে শিউরে উঠত। এমনকি জল্লাদের দল পর্যন্ত নিজেদের চোখ বন্ধ করে দিত। তারাও বিশ্বাস করতে পারতো না। বাস্তবে এমন হয় বলে!

ওদিকে ফারুখ সিয়র সব দেখে হতাশায় নিমজ্জিত হতো, তার শান্তির বইয়ের ব্যর্থতা অনুধাবন করে ...


গুরু নানকদেবজি প্রদত্ত সেই মন্ত্রের এমনই শক্তি, জীবনের যে কোনও বাধা হাসিমুখে অতিক্রম করার শক্তি সঞ্চারিত করে দেহে ও মনে। 


এক্ষেত্রেও তাই হয়েছিল। আনন্দের সঙ্গে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করার মনোবল প্রদান করেছিল। তারা জল্লাদদের 'মুক্তিদাতা' বলে সম্বোধন করত। 


জাকারিয়া খান বারেবারে তাদের জিজ্ঞাসা করত, "ইসলাম গ্রহন করো। প্রাণভিক্ষা নাও।" 


আর শিখেরা হাসতে হাসতে বলতো, "আজ অবধি এমন কোন শিখ দেখেছো যে ধর্ম ত্যাগ করেছে? 

তাহলে কেন জিজ্ঞাসা করছ তুমি?" 


আবারো একই প্রশ্ন জিজ্ঞেস করতো জাকারিয়া খান। 

তখন তারা হাসতে হাসতে বলতো, "এসো তুমি শিখ হয়ে যাও। খালসার অমৃৎ পান করো। এরপর আর তুমি ধর্ম পরিবর্তনের কথা আর কখনো মুখে আনবে না..." 


ইতিমধ্যে এক যুবক শিখয়ের মাতা একটি আবেদন নিয়ে আসেন ফারুখ এর কাছে। 

তিনি বলেন, "আমার পুত্র এই শিখ খালসা বাহিনীতে যোগ দিয়েছে। ওর সঙ্গে কোন সংযোগ নেই এইসব ঘটনার।"  

ফারুখ সেই শিখ যুবকটিকে দেখলেন, ঠিক মত দাঁড়ি গোঁফ বেরোয়নি তাঁর। তিনি তখন তাকে যেতে দিলেন। 


এই সংবাদ যখন সেই শিখ যুবকটি শুনল, সে তখন সেই স্থান ত্যাগ করে যেতে রাজি হল না। পরিষ্কার বলল, "আমি সব জেনে, শুনে, সব বুঝে অমৃত পান করেছি। খালসা হয়েছি স্ব-ইচ্ছেতে। আমি যদি খালসা না হই, আমি আমার গুরুরও থাকব না।" 

তারপর যখন শুনল সেই যুবক তার মায়ের কথা, সে বলল, " আমার মা ঠিকমতো জানেন না তাই এই কথা বলছেন। 

আমি সকলের সঙ্গে সমান। একই দোষে দোষী। তাই সকলের সঙ্গে শহীদি প্রাপ্ত হব আমিও।" 

তার মাতা অনেক কান্নাকাটি করেন, অনেকে অনেক কিছু বলেন। কিন্তু সেই যুবক অনড়। 


বলাবাহুল্য, 

সেদিনের শেষে তার মাথা গড়াগড়ি খায় অন্য সকল শিখদের সঙ্গে। 

সেদিন কি জল্লাদের হাত কেঁপে উঠেছিল? কে জানে।।।


সাতদিন ধরে চলে শিখ হত্যা। 

একের পর এক জন করে সঙ্গী মারা পড়েন। 

রইল শুধু ২৬ জন। 

এদের উপর শুরু হল অন্য ধরনের অত্যাচার। 

" লুকোনো সম্পদ কোথায় আছে?"

না। কোন উত্তর নেই।

প্রচণ্ড অত্যাচারের পর তারা একে একে মারা গেলেন।


অতঃপর বান্দা বাহাদুর সিং একলা। তাঁকে সেদিন রাজা সাজিয়ে দিল্লি ঘুরিয়ে নিয়ে আসা হল। একরকম মজা করা হলো তাঁর সঙ্গে। 

সেদিন দিল্লির শান্তি অধিবাসীগণ থুতু ঢিল ছুঁড়ে তাদের মনের জ্বালা মেটালো। 

কিন্তু বান্দা বাহাদুর সিং স্থির রইলেন। মুখে তার বাহেগুরু।


অতঃপর তাকে নিয়ে আসা হল লালকেল্লার সামনের এক চকে।


তার কোলে তার দত্তক শিশু পুত্রকে বসানো হয়। বলা হয়, "একে হত্যা করো। তোমার তো দত্তক পুত্র। তোমায় ছেড়ে দেবো। প্রাণে বেঁচে যাবে।"  

বান্দা বাহাদুর সিং বললেন, "কিভাবে ভাবলে তোমরা এটা?

যাকে পুত্র বলেছি, তার প্রাণ নেবো? হোক না সে আমার দত্তক পুত্র। তবুও যখন বলেছি, তখন তাকে পুত্র হিসেবে আপন করে নিয়েছি।"  


অতঃপর সেই পুত্রের বুকে ছুরি বসানো হলো। তার স্পন্দিত হৃদপিন্ড তুলে বান্দা বাহাদুর সিং এর মুখে চেপে ধরা হলো। 

তিনি মুখ চেপে রইলেন। 


এর পর শুরু হল অত্যাচার। 

একটু একটু করে চামড়া তুলে নেওয়া। একটু একটু করে গরম সিক দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া। সাঁড়াশি দিয়ে টেনে মাংস কেটে নেওয়া। খুব ঠাণ্ডা মাথায় এইসব অত্যাচার চলল। 


তাতেও যখন কিছু লাভ হলো না তখন তার দুই চোখে গরম লোহা ঢুকিয়ে দেওয়া হলো। 


বান্দা বাহাদুর সিংকে ১৭১৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ১৭১৬ সালের জুন পর্যন্ত প্রায় ৬ মাস ধরে অত্যাচার করা হয়েছিল। অবশেষে, ১৭১৬ সালের ৯ই জুন তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। অতঃপর তার মাথা কেটে হত্যা করা হলো।


✍️Prithwis Sen

বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০২৫

গীতা পাঠ ২০২৫ পেটিস বিক্রি

 সেকুলারেরা প্যাটিস বিক্রেতার পক্ষে খুব কান্নাকাটি করছে৷ আর সেই সাথে হিন্দুদের উপর বিদ্বেষ উগরে দিচ্ছে। কিন্তু কথা হল, কেউ যদি ওই  মানবতার ধ্বজাধারীদের মাটনের নাম করে কুকুরের মাংস বিক্রি করে তাহলে তারা কি ওই মাংস বিক্রেতাকে ছেড়ে দেবে? তখন তো ওরা হাতের সুখ নিতে ছাড়বে না। অভিযোগ উঠছে ওই প্যাটিস বিক্রেতা ভেজ প্যাটিসের নাম করে চিকেন প্যাটিস বিক্রি করছিল। কম দামি জিনিসের দামে বেশি দামি জিনিস বিক্রি করার উদ্যেশ্য কি? এটা নিশ্চয়ই ব্যবসা নয়। অভিযোগ যেহেতু উঠছে তাহলে নিরপেক্ষ তদন্ত হবে না কেন? 


ওই প্যাটিস বিক্রেতাকে কয়েকজন চড় চাপাটি দেওয়ায় বামপন্থীরা গণধোলাইয়ের অভিযোগ তুলছে। এই প্রসঙ্গে একটা পুরোনো খবর বলি। ঘটনাটা ঘটেছিল বামপন্থীদের জমানাতে৷ খড়দার এক মাংস বিক্রেতা তার দোকানের ঘেরাটোপের মধ্যে লোকচক্ষুর আড়ালে মাংস কাটছিল। বিয়ের মরশুম। বড় অর্ডার পেয়েছিল। একটা কুকুর তার দোকানের মধ্যে ঢুকে পড়েছিল। লোকটা রাগ করে একটা কুকুরটার দিকে কাটারি ছুঁড়ে মেরেছিল। সেটা কুকুরটার গায়ে লেগেছিল। কুকুরটা রক্তাক্ত হয়ে দোকান থেকে ছুটে বেরয়। সেটা জনতার চোখে পড়ে। তাদের ধারণা হয় ওই মাংস বিক্রেতা কুকুর কেটে মাটনের সঙ্গে মিশিয়ে দেবার তালে ছিল। ফলে তখন সেই বিক্রেতার গণ ধোলাই জোটে। দুর্নাম রটে যাওয়ায় শেষে সেই দোকানটাই বন্ধ হয়ে যায়। এটাও কিন্তু আইন নিজের হাতে নেবার ঘটনা ছিল। যেহেতু ওটা বামপন্থীদের রাজত্ব তাই এই ঘটনাটা গরীব মাংস বিক্রেতার উপর অত্যাচার বলে প্রচারিত হয়নি। বামপন্থী রাজত্বের দুর্নাম হয়ে যাবে যে!!! তাহলে ব্যাপারটা কী দাঁড়াল? কুকুরের মাংস মাটনের সাথে মেশানোর অভিযোগে যারা নিজেরাই গণধোলাই দিতে ছাড়ে না, তারা এখন সহিষ্ণুতার জ্ঞান দিচ্ছে। এরা সাঁইবাড়ি বা বিজন সেতুতে  গণধোলাই দিয়ে কিন্তু মানুষ খুন করেছিল। সেটাকে এরা এখনও আপরাধ বলে মানে না। ওটাকে জনতার বিক্ষোভ বলে চালায়। কী দিন কাল পড়ল, পেশাদার খুনিরা আজকাল আমাদের অহিংসার মাহাত্ম্য শেখাতে আসছে।

সংগ্রহ প্রবির মজুমদার 

বৃহস্পতিবার, ২ অক্টোবর, ২০২৫

অখণ্ড ভারত খন্ড হবার ইতিহাস।

 অখন্ড ভারত খন্ড হবার ইতিহাস।।

চ্যালেঞ্জ করলাম- যদি সত্যি পড়ার, সত্যকে জানার ও সত্যি টাকে মানার দম থাকে তাহলে পুরাটা লেখা টাই পড়বেন এবং  আপনার সব হিন্দু ভাই বোন বন্ধুদের জ্ঞাতার্থে শেয়ার করবেন।


*1378 সালে ভারতের এক অংশ আলাদা হয়ে মুসলিম রাষ্ট্র হয় - নাম ইরান।


1761 সালে ভারতের এক অংশ আলাদা হয়ে মুসলিম রাষ্ট্র হয় - নাম আফগানিস্তান। (পূর্ব নাম উপ-গণ-স্থান )


1947 সালে ভারতের এক অংশ আলাদা হয়ে মুসলিম রাষ্ট্র হয় - নাম পকিস্তান ।


1971 সালে ভারতের এক অংশ আলাদা হয়ে মুসলিম রাষ্ট্র হয় - নাম বাংলাদেশ ।


1952 থেকে 1990 এর মধ্যে ভারতের এক রাজ্য মুসলিম রাজ্য হয়েছে - নাম কাশ্মীর...

এবার উত্তরপ্রদেশ, আসাম, কেরালা ও পশ্চিমবঙ্গ মুসলিম রাজ্য তৈরির পথে !

আর আমরা যখন হিন্দু শক্তিকে জাগ্রত করার কথা বলি, সত্যিটা বলি তখনই কিছু লোক আমাদের RSS, VHP আর SHIV-SENA, BJP বলে ঝেড়ে ফেলতে চায় !


1 মিনিট ধৈর্য্য ধরে এটা অবশ্যই পড়ুন :-


ভারতে মুসলমান কারা শেষটা পড়লে বুঝতে পারবেন.....

🚩ধর্মের নামে ভারত কে টুকরো করেছে যে - জিন্না সে মুসলমান ছিল ||

🚩কোটি কোটি হিন্দুর রক্ত ঝরিয়েছে যারা - সেই সব সুলতান মুসলিম ছিল ||

🚩হিন্দুদেরকে জবরদস্তি মুসলিম ধর্ম গ্রহণ করিয়েছে - সেই সব আরবরা মুসলিম ছিল ||

🚩রাম মন্দির ভেঙ্গে বাবরি মসজিদ বানিয়েছে যারা- সেই বাবর থেকে ঔরঙ্গজেব মুসলিম ছিল ||

🚩গুরু তেগ বাহাদুর এর মাথা কেটে ছিল যে - সেই ঔরঙজেব মুসলিম ছিল |

🚩কাশ্মিরি পণ্ডিতদের নরসংহার করেছিল যারা - সেই সব আতঙ্কবাদীরা মুসলিম ছিল ||

🚩মুম্বই বোম বিষ্ফোরন বিষ্ফোরণ করেছিল - সেই দাউদ মুসলিম ছিল |

🚩ভারতে 5 কোটি বাংলাদেশী অবৈধ অনুপ্রবেশকারী দের বেশীরভাগই - সব মুসলিম |

🚩 হিন্দু দেবদেবী দের মুর্তি সহ বুদ্ধদেব, মহাবীর জৈনের  মুর্তি যারা ভেঙ্গে চলেছে - তারা সবাই মুসলিম |

🚩ভারতের সংসদে হামলাকারীদের মাষ্টারমাইণ্ড - আফজল মুসলিম ||

🚩গোধরা তে করসেবক দের পুড়িয়ে হত্যা করেছিল যারা - তারা সব মুসলিম |

🚩পাকিস্তান, বাংলদেশ, আসাম, কাশ্মীর থেকে হিন্দুদেরকে তাড়াচ্ছে যারা- তারা সবাই মুসলিম ||

🚩26/11 তে ভারতীযদের গুলিবিদ্ধ করে যারা- তারা সবাই মুসলিম। জীবিত পাকিস্তানি আতঙ্কবাদি  কাসব তো জেরার সময় পুলিশকে বলেইছিল, "হিন্দুদের নৃশংস ভাবে মারার আনন্দ সবচেয়ে বেশি।"|

🚩অমরনাথ যাত্রা রুখতে চেয়েছিল যে - সেই গিলানি মুসলিম ||

🚩অমরনাথ যাত্রীদের কর চালু করেছিল যে - সেই মন্ত্রী মুসলিম ( কংগ্রেস )|

🚩100 কোটি হিন্দুকে কাটার কথা বলে - ওবেসী মুসলিম ||

👹যারা গরু খায় - মুসলিম |

👹বন্দেমাতরম বলে না - মুসলিম ||

👹 শুধু কাশ্মীরেই নয় ভারতের মধ্যে থেকেই ভারত মুর্দাবাদ বলে - মুসলিম |

👹হায়দ্রাবাদে জাতীয় পতাকা জালায় - মুসলিম ||

👹কামদুনি, কালিয়াচক, ক্যানিং, দেগঙ্গা, বর্ধমান এ রেপ, খুন,ডাকাতি, বোম্ব ব্লাস্ট করে - সব মুসলিম

 🔴 আমি কোনো মুসলিমকে খারাপ মুসলমানদের এর বিরোধিতা করতে দেখিনি।

🔴 আমি কোন মুসলিমকে দেখিনি দুর্গাপুজো কিংবা কালীপূজাতে পার্টি দিতে, কিন্তু হিন্দুকে দেখেছি ইফতার পার্টি দিতে ।

🔴 আমি কাশ্মীরে ভারতের পতাকা জ্বলতে দেখেছি, কিন্তু কোন মুসলিমকে দেখিনি পাকিস্তানের পতাকা জ্বালাতে।

🔴 আমি হিন্দুকে দেখেছি টুপি মাথায় মসজিদে ঢুকতে, কিন্তু কোন মুসলিমকে দেখিনি তিলক লাগিয়ে মন্দিরে পূজা দিতে ঢুকতে।

🔴 আমি হিন্দুকে দেখেছি ধর্মনিরপেক্ষতারকথা বলতে, কিন্তু দেখিনি মুসলিমকে অন্য ধর্মের প্রশংসা করতে।

🔴 আমি মিডিয়াকে দেখেছি বিদেশের গুনগান করতে, কিন্তু দেখিনি মিডিয়াকে ভারতের সংস্কার প্রচার করতে।

🔴 আমি ফালতু পোষ্টে হাজার কমেন্ট দেখেছি, কিন্তু জাতীয়তাবাদী, রাষ্ট্রবাদী পোষ্টে একটাও কমেন্ট দেখিনি।


🌏 হিন্দুদের হিন্দুর মতই জীবিত থাকতে হলে জাতীয়তাবাদী কার্যক্রমে সামিল হও। নইলে মুসলমানের গুলামী করার জন্য প্রস্তত হও।

হে হিন্দু তোমরা মানুষ চিনতে আর ভুল কোরো না, মুসলমান কখনই তোমার ভাল চায়নি, অতীত থেকেই তোমায় লুটেছে আর কত সহ্য করবে?? 

সংগটিত হও...........

 ॐ 🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙏🏻

বন্দেমাতরম্

জয় হিন্দ জয় হিন্দুস্তান

ভারত মাতাকি জয়!

মঙ্গলবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২৫

দাস প্রথার ইতিহাস

 ইসলামের ফুলেফেঁপে উঠার সবচাইতে বড় কারণ ছিলো দাসব্যবসা। ইসলামী দাসপ্রথার চারটি মূলনীতি হলো -


১ঃ কোনো স্বাধীন মুসলিমকে দাস বানানো যাবেনা।।


২ঃ যাকাতের মাধ্যমে শুধুমাত্র সকল মুসলিম দাসের ক্রমান্বয়ে মুক্তিদানের ব্যবস্থা হবে।  


৩ঃ সন্তান জন্মদানের ফলে দাসত্ব থেকে মুক্তি না পেলেও দাস হিসেবে হস্তান্তর হওয়া থেকে মুক্তি পাবে (তবে নবী বেঁচে থাকাকালীন ইসলামের প্রাথমিক যুগে এই নিয়ম মানা হতোনা।) 


৪ঃ মুসলিম দাসের মুক্তির ফলে ক্রমবর্ধমান দাসের তীব্র চাহিদা মেটানোর একমাত্র উপায় হিসেবে ক্রমাগত কাফির-মুশরিকদের উপর আক্রমণ করে তাদের নরনারী ও শিশুদের কৃতদাস এবং যৌনদাসী বানানো চালিয়ে যেতে হবে । 


শুধুমাত্র মুসলিম দাসদের ক্ষেত্রে যাকাতের মাধ্যমে মুক্ত হওয়ার আইনের কারণে অমুসলিম দাসরা মুক্তির লোভে দলেদলে ইসলাম গ্রহণ করে। এইভাবে একেতো মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধি পায় আবার ইসলাম গ্রহণ করে মুক্তি পেয়ে যাওয়ায় উল্লেখিত দাসের শূন্যস্থান পুরণ করতে বাজারে নতুন দাসের তীব্র চাহিদা তৈরী হয়।


যেহেতু চাহিদার সাথে যোগান সমন্বয়ের একমাত্র উপায় হলো নতুন নতুন অঞ্চল আক্রমণ করে কাফির-মুশরিকদের দাস বানানো তাই কোনো না কোনো ছুতোয় নিরীহ কৃষিজীবী অমুসলিম গোত্রগুলোকে কখনো রাতের অন্ধকারে কখনো ভোরের সূর্য উঠার আগেই অতর্কিত  আক্রমণ করে তাদের সম্পত্তি লুট করে পুরুষদের হত্যা করে নারী ও শিশুদের দাস হিসেবে বন্দি করা হয়।


নবীজী যোদ্ধাদের মধ্যে দাসীদের বন্টন করে দেওয়ায় সহজে ধনী হওয়ার লোভে দলেদলে আরবের তরুণেরা ইসলামের খাতায় নাম লিখিয়ে যুদ্ধে অংশ নিয়ে দাসী সহবত এবং দাস ব্যবসার রাতারাতি ধনী হওয়ার সুযোগ গ্রহণ করে।  আরব তরুণদের জন্য যুদ্ধ করে বাঁচলে কাফিরদের নারী ও সম্পদ লুটে ধনী হওয়া আবার মরে গেলে কোরানে বর্ণিত বেহেশতের অসংখ্য খাড়া স্তনবতী হুর সহবতের সুযোগ মিস দেওয়ার কোনো কারণই ছিলোনা।


এইভাবে নবীজীর নেতৃত্বে মুসলিমবাহিনী আরবের নিরীহ কৃষিজীবী ছোটছোট গোত্রগুলো একেরপর এক আক্রমণ করে অমুসলিম নরনারী ধরেধরে কৃতদাস এবং যৌনদাসী বানাতে থাকেন এবং নিজেদের চাহিদার উর্ধে হলে আরবের বড় বড় দাসব্যবসায়ীদের নিকট যৌনদাসী বিক্রি করে অস্ত্রশস্ত্র ঘোড়া ইত্যাদি ক্রয় করা হতো।  

 

অন্যদিকে মুসলিম হলে দাসদের মুক্তির পথ সুগম হওয়ায় ক্রমান্বয় মুসলিম রাষ্ট্রের সকল দাসই মুসলিম হয়ে যায় আর এতে মুসলিমদের সংখ্যা বাড়ে ঠিকই কিন্তু মুক্তি পেয়ে যাওয়ায় আরবে দাসের ভয়াবহ চাহিদা সৃষ্টি হয় যার ফলশ্রুতিতে অমুসলিম দাসের এই ক্রমবর্ধমান চাহিদা মিটাতে প্রথমে সমগ্র উত্তর আফ্রিকা এবং পরবর্তীতে ভারত এবং ইউরোপ থেকে  নির্বিচারে স্থানীয় অমুসলিমদের ধরেধরে দাস হিসেবে মুসলিমবিশ্বে আমদানি শুরু হয়।


ইসলামিবাহিনী কর্তৃক সদ্য বিজিত দূরবর্তী অঞ্চল থেকে দাসদাসীদের আমদানির  ক্ষেত্রে দেখা যেতো পথিমধ্যে অনেক কুমারী দাসী সাথে থাকা দাস বা মুসলিম বাহিনীর সৈন্যদের দ্বারা গর্ভবতী হয়ে পড়তো আর তাতে আরবে নিয়ে এসে এদের ভালো মূল্য পাওয়া যেতোনা । 


এই সমস্যার সমাধানে মুসলিমবাহিনী দূরবর্তী অঞ্চল থেকে দাসদাসী আমদানির ক্ষেতে কুমারী দাসীদের যোনীপথ প্রস্রাব করার জন্য একটি কাঠি রেখে বাকিটা সম্পূর্ণ সেলাই করে দিতেন। আরবে নিয়ে আসার পর এই দাসীদের আরব মালিকরা নিজ হাতে সেই সেলাই খুলে টাটকা কুমারী সম্ভোগের সুযোগ পেতেন।


পুরুষ দাসদের ক্ষেত্রে তাদের যৌনাঙ্গ কেটে খোজা বানানো হতো কারণ খোজা দাস দিয়ে ঘরেবাইরে কাজ করানো নিরাপদ ছিলো। এদের যৌনসক্ষমতা না থাকায় আরব শেখেরা নিজের স্ত্রীগণের সাথে এদের মেলামেশাতে ভয় পেতেননা। 


অটোমান এবং উত্তর আফ্রিকান মুসলিমদের হাতে ক্ষমতা আসার পর ওরা একদম আইসল্যান্ড পর্যন্ত ইউরোপীয় উপকূল সমূহে আক্রমণ করে শ্বেতাঙ্গ নারী ও শিশুদের ধরে এনে উত্তর আফ্রিকা এবং আরবে বিক্রি শুরু করে যা সতেরোশতক পর্যন্ত চলেছে যতোদিননা ব্রিটিশ রয়াল নেভি ভূমধ্যসাগরীয়  মুসলিম দাসব্যবসায়ীদের গায়ের জোড়ে তাড়িয়েছে । 


এইভাবে মানুষের ইতিহাসে ভয়াবহতম এক অধ্যায়ের সূচনা হয় যেটি আরবিভাষী প্রত্যেকটি দেশে এখনো চলছে। আরববিশ্বে গায়েখাটুনি দেওয়া প্রবাসী শ্রমিকদের সামাজিকভাবে ওরা কৃতদাসই মনে করে এবং ওদের আইন-কানুনেও তাই শ্রমঅধিকার বলতে কিছুর অস্তিত্ব নেই।


এখনও আরবদেশে শ্রমিকদের কোনো প্রতিষ্ঠান বা রাষ্ট্রের অধীনে না রেখে "কাফালা" পদ্ধতিতে আরব ব্যক্তির অধীনে রাখা হয় যাতে আরবপ্রভুরা দাস খাটানোর দুধের স্বাদ ঘোলে মেটাতে পারে।