রবিবার, ২১ নভেম্বর, ২০২১

আধুনিক পৃথিবীর সৃষ্টি ও তার জনকের নাম।

 গণিত → আর্কিমিডিস।

পাটিগণিত → আর্য্যভট্ট।

বীজগণিত → আল খারিজমি।

জ্যামিতি → ইউক্লিড।

ত্রিকোণমিতি → হিপ্পারকাস।

ক্যালকুলাস → নিউটন।

ম্যাট্রিক্স → আর্থার ক্লে।

সংখ্যাতত্ত্ব → পিথাগোরাস।

লগারিদম → জন নেপিয়ার।

ক্যালকুলেটর → উইলহেম লিবনিজ।

পাই → উইলিয়াম জোন্স।

গণনা → চার্লস ব্যাবেজ।


✪ ফেসবুকের জনক → মার্ক জুকারবার্গ।

✪ মোবাইল ফোনের জনক → মার্টিন কুপার।

✪ কম্পিউটারের জনক → চার্লস ব্যাবেজ।

✪ ই-মেইলের জনক →রেমন্ড স্যামুয়েল টমলিনসন।

✪ ওয়াল্ড ওয়াইড ওয়েবের জনক → টিম বার্নাস-লি।

✪ ক্যামেরা জনক → জর্জ ইস্টম্যান।

✪ ল্যাবটপ জনক → বিল মোগারিজ।

✪ আইফোন জনক →স্টিভ জবস।

✪ ক্যালকুলেটর জনক →বেইসি প্যাসকেল।

✪ ঘড়ির জনক → সি হাইজেন্স।

✪ রেডিও জনক →জি মার্কনি।

✪ চশমা জনক → ডেলা স্পিনা।

✪ HIV জনক → এল. মন্টোগনিয়ার।

✪ কলম জনক → জন লাউড।

✪ রোবট জনক → জর্জ চার্লস ডেভল।

✪ মটরসাইকেল জনক →গটলির ডেলমার।

✪ পিস্তলের জনক→স্যামুয়েল কোল্ট।

✪ হেলিকপ্টার জনক →ইগর সিকরস্কি।

✪ বিদ্যুৎতের জনক→মাইকেল ফ্যারাডে।

✪ রকেট জনক →রবার্ট গডার্ড।

✪ মাইক্রোফোন জনক → আলেকজান্ডার গ্রাহামবেল।

✪ ইলেকট্রন জনক → জন থম্পসন।

✪ জৈব রসায়নের জনক → ফ্রেডারিক উহলার।

✪ আলো সাতটি বর্ণের সমষ্টি " জনক → আইজ্যাক নিউটন।

✪ আলোর গতির জনক →এ মাইকেলসন।

✪ এটম বোমা জনক →অটোহ্যান।

✪ টাচ স্ক্রিন মোবাইল জনক → স্টিভ জব

✪ ইন্টারনেট প্রযুক্তি জনক → লিওনারড ক্লেইনরক।

✪ গুগলের জনক →সার্জেই বিন।

✪ টুইটারের জনক → জ্যাক ডোরসেই।

✪ মার্কেটিং জনক →ফিলিপ কোটলার।

✪ ফিনান্সের জনক →এ্যারোরা।

✪ হিসাব বিজ্ঞানের জনক → লুকা প্যাসিওলি।

✪ এনাটমির জনক →আঁদ্রে ভেসালিয়াস।

✪ ATM-এর জনক →জন শেফার্ড ব্যারন।

✪ আধুনিক শিক্ষার জনক → সক্রেটিস।

✪ পারমাণবিক বোমার জনক → ওপেন হেইমার।

✪ বাংলা গদ্যের জনক→ ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগর।

✪ পদার্থ বিজ্ঞানের জনক → আইজ্যাক নিউটন।

✪ সমাজ বিজ্ঞানের জনক → অগাষ্ট কোঁৎ।

✪ হিসাব বিজ্ঞানের জনক→লুকাপ্যাসিওলি।

✪ চিকিৎসা বিজ্ঞানের জনক → ইবনে সিনা।

✪ দর্শন শাস্ত্রের জনক → সক্রেটিস।

✪ রসায়ন বিজ্ঞানের জনক → জাবির ইবনে হাইয়ান।

✪ ইতিহাসের জনক → হেরোডোটাস।

✪ বিজ্ঞানের জনক→থ্যালিস।

✪ মেডিসিনের জনক → হিপোক্রটিস।

✪ জ্যামিতির জনক→ইউক্লিড।

✪ বীজ গণিতের জনক →আল খাওয়াজমী।

✪ জীবাণু বিদ্যার জনক → লুইস পাস্তুর।

✪ রাষ্ট্রবিজ্ঞানের জনক → এরিস্টটল।

✪ অর্থনীতির জনক →এডাম স্মিথ।

✪ অংকের জনক →আর্কিমিডিস।

✪ বিবর্তনবাদ তত্ত্বের জনক → চার্লস ডারউইন।

✪ সনেটের জনক→পের্ত্রাক।

✪ ক্যালকুলাসের জনক → আইজ্যাক নিউটন।

✪ বাংলা গদ্যের জনক → ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।

✪ বাংলা কবিতার জনক → মাইকেল মধুসুদন দত্ত।

✪ বাংলা উপন্যাসের জনক →বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।

✪ ইংরেজী কবিতার জনক →জিউফ্রে চসার।

✪ মনোবিজ্ঞানের জনক → উইলহেম উন্ড।

✪ প্রাণী বিজ্ঞানের জনক →এরিস্টটল।

✪ বাংলা মুক্তক ছন্দের জনক → কাজী নজরুল ইসলাম।

✪ বাংলা চলচিত্রের জনক জনক → হীরালাল সেন।

✪ বাংলা গদ্য ছন্দের জনক → রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

✪ জীব বিজ্ঞানের জনক → এরিস্টটল।

✪ ভূগোলের জনক →ইরাটস থেনিস।

✪ ইংরেজি নাটকের জনক → শেক্সপিয়র।

✪ সামাজিক বিবর্তনবাদের জনক → হার্বাট স্পেন্সর।

✪ বংশগতি বিদ্যার জনক → গ্রেডার জোহান মেনডেল।

✪ শ্রেণীকরণ বিদ্যার জনক → কারোলাস লিনিয়াস।

✪ শরীর বিদ্যার জনক → উইলিয়াম হার্ভে।

বাংলা নাটকের জনক → দীন বন্ধু মিত্র।

বাংলা সনেটের জনক → মাইকেল মধুসুদন দত্ত।

আধুনিক রসায়নের জনক → জন ডাল্টন।

আধুনিক গণতন্ত্রের জনক → জন লক।

আধুনিক অর্থনীতির জনক → পল স্যমুয়েলসন।

আধুনিক বিজ্ঞানের জনক → রজার বেকন।

আধুনিক বাংলা সাহিত্যের জনক→মাইকেল মধুসূদন দত্ত।

বাংলা গদ্যের জনক→ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।

বিরাম চিন্হের জনক →ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।

আধুনিক বাংলা চলিত রীতির জনক →প্রমথ চোধুরী।


বিশ্বের ৬০ টি দেশের জাতির পিতার নাম ও তাদের অবদানের সংক্ষিপ্ত বিবরণ।Law


♦মুসলিম জাতির জনক ~হযরত ইব্রাহিম আ.♦


১/ দেশের নাম বাংলাদেশঃ- শেখ মুজিবুর রহমান , জাতীর উপাধী জাতির জনক ( জাতির পিতা) বঙ্গবন্ধু, সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, ইতিহাসের রাখাল রাজা। স্বাধীনতার যুদ্ধচলাকালীন পাকিস্তানের কারাগারে বন্দী অবস্থায় বাংলাদেশ মুজিব নগর সরকারের প্রধান ছিলেন এবং তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে ।


২/দেশের নাম আফগানিস্তানঃ- আহমদ শাহ দুররানি। তার জাতীয় উপাদি, আহমদ শাহ বাবা, জাতির জনক। তার নেতৃত্বে আফগান দুররানি সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা লাভ করে ।


৩/আর্জেন্টিনা , পেরুঃ-ডন হোজে দে সান মার্টিন তার জাতীয় উপাদি,-পাদ্রে দে লা পাত্রিয়া,

 ফানডাডর দে লা রিপাবলিকা ইয়ে প্রোটেকটর দেল পেরু আর স্বীকৃতি জন্মভূমির জনক,পেরু প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা অভিবাবক। স্পেনের কাছ থেকে স্বাধীনতার জন্য দক্ষিণ আমেরিকার দক্ষিণ অংশে সফল সংগ্রামের প্রধান নেতা। (১৭৭৮ - ১৭ আগস্ট ১৮৫০)


৪/দেশের নাম বাহামা দ্বীপপুঞ্জ;-স্যার লেনডেন পিন্ডলিং তার জাতীয় ঊপাদি,-জাতির জনক, ১৯৭৩ সালে স্বাধীনতার নেতা।


৫/দেশের নাম বেলিজঃ-জর্জ ক্যাডল প্রাইজ তার জাতীয় ঊপাদি, জাতির জনক।১৯৯৭ সালে অবসর গ্রহনের পূর্বে তিনি ছিলেন সাবেক প্রধান মন্ত্রী, প্রিমিয়ার ও দুই মেয়াদের প্রধানমন্ত্রী।


৬/ দেশের নাম বলিভিয়াঃ-পাদ্রে দে লা পাত্রিয়া তার জাতীয় ঊপাদি, জন্মভূমির জনক।স্পেনের কাছ থেকে স্বাধীনতার লাভের জন্য দক্ষিণ আমেরিকার সফল সংগ্রামের প্রধান নেতা।


৭/ দেশের নাম ব্রাজিলঃ-প্রথম ডোম পেদ্রোএবং হোজে বনিফাসিও দে আন্দ্রাদা ই সিলভা তার জাতীয় ঊপাদি, জাতির জনক এবং স্বাধীনতার কুলপতি। ব্রাজিলের প্রথম প্রতিষ্ঠাতা ও সম্রাট। বনিফাসিও প্রথম পেদ্রোর উপদেষ্টা ছিলেন।


৮/ দেশের নাম কম্বোডিয়াঃ-নরোদম সিহানুক তার জাতীয় উপাদি প্রিয়াহমাহাব্রায়েকসাত, কম্বোডিয়ার কিং-ফাদার।১৯৫৩ সালের স্বাধীনতার নেতা ।


৯/ দেশের নাম চিলিঃ- বারনার্দো ও’হিগিন্স তার জাতীয় উপাদি পাদ্রে দে লা পাত্রিয়া, জন্মভূমির জনক। স্পেনের কাছ থেকে চিলির স্বাধীনতা লাভের জন্য সংগঠিত সফল সংগ্রামের প্রধান নেতা।


১০/ দেশের নাম চিন প্রজাতন্ত্রঃ-সান ইয়াত-সেন তার জাতীয় উপাদি সরলীকৃত চীনা: 国父;ঐতিহ্যবাহী চীনা: 國父(গওফু) জন্মভূমির জনক। জিনহাই আন্দোলনের সময় সান মানচু রাজবংশের পতনের জন্য সশস্ত্র লড়াই করেছিলেন।


১১/ দেশের নাম কলম্বিয়াঃ-সাইমন বলিভার তার জাতীয় উপাদি পাদ্রে দে লা পাত্রিয়া, জন্মভূমির জনক।স্পেনের কাছ থেকে স্বাধীনতার লাভের জন্য দক্ষিণ আমেরিকার সফল সংগ্রামের প্রধান নেতা।


১২/ দেশের নাম সুইডেনঃ-প্রথম গোস্তাভ, সুইডেন তার জাতীয় উপাদি নেশনেশটোথ, জাতীয় বীর।দ্বিতীয় খৃস্টানের অধীন ডেনিশ শাসন থেকে সুইডেন পৃথক করেন।


১৩/ দেশের নাম ক্রোয়েশিয়াঃ-আন্তে স্টারসেভিস তার জাতীয় উপাদি ওটাক ডোমোভিনি, স্বদেশের জনক।তার বিভিন্ন কর্যক্রম ও কাজ আধুনিক ক্রোয়েশিয়া রাষ্ট্র গঠনে ভূমিকা রেখেছিল।


১৪/ দেশের নাম কিউবাঃ-কার্লোস ম্যানুয়েল দে সেসপিদিস তার জাতির উপাদি পাদ্রে দে লা পাত্রিয়া, জন্মভূমির জনক।দশ বছরের যুদ্ধের সময় কিউবার প্রথম স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতা।


১৫/ দেশের নাম চেক ল্যান্ডসঃ- চতুর্থ চার্লস, পবিত্র রোমান সম্রাট (চতুর্থ কারেল) তার জাতীয় উপাদি ওটেক ব্লাসটি, স্বদেশের জনক।বহিমিয়ার রাজা। সম্রাট এর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় প্রাগ এর চার্লস বিশ্ববিদ্যালয়ের রেক্টর দ্বারা উদ্ভাবিত শিরোনাম।


১৬/ দেশের নাম চেক ল্যান্ডসঃ- ফ্রেঙ্কিসেক পোলাৎস্কি তার জাতীয় উপাদি ওটাক নারোদা, জাতির পিতা।রাজনীতিবিদ এবং ইতিহাসবিদ। Whereas vlast "homeland" included all inhabitants (see Sudeten Germans), národ "nation" comprised only Czech speakers


১৭/ দেশের নাম চেক ল্যান্ডসঃ-থমাস গেরিজ মাশারেক তার জাতীয় উপাদি জন্মভূমির জনক। চেকোস্লোভাকিয়ার প্রথম রাষ্ট্রপতি।


১৮/ দেশের নাম ডোমিনিকানঃ- জুয়ান পাবলো দুয়ার্তে তার জাতীয় উপাদি পাদ্রে দে লা পাত্রিয়া, জন্মভূমির জনক।স্বাধীনতার যুদ্ধের সময় হাইতিদের পরাজিত করেন।


১৯/দেশের নাম ইকুয়েডরঃ-সাইমন বলিভার তার জাতীয় উপাদি পাদ্রে দে লা পাত্রিয়া, জন্মভূমির পিতা। স্পেনের কাছ থেকে স্বাধীনতার লাভের জন্য দক্ষিণ আমেরিকার সফল সংগ্রামের প্রধান নেতা।


২০/ দেশের নাম ঘানাঃ-কাউয়ামি নকরুমা তার জাতীয় উপাদি জাতির পিতা। ঘানার প্রথম রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী, উপ-সাহার আফ্রিকার প্রথম দেশ যারা পূর্ণ স্বাধীনতা লাভ করে।


২১/ দেশের নাম গায়ানাঃ- চেদ্দি জগান তার জাতীয় উপাদি জাতির জনক।গায়ানার রাষ্ট্রপতি (১৯৯২ - ৯৭)


২২/ দেশের নাম হাইতিঃ-জিয়ান-জ্যাকুইস সেলিনস তার জাতীয় উপাদি পেরে দে লা পাত্রি, জন্মভূমির জনক।ফ্রান্সের কাছ থেকে হাইতির স্বাধীনতা লাভের জন্য সংগঠিত সফল সংগ্রামের নেতা।


২৩/ দেশের নাম ভারতঃ- মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী তার জাতীয় উপাদি মহাত্মা গান্ধী, জন্মভূমির জনক। ব্রিটিশদের কাছ থেকে ভারতের স্বাধীনতা লাভের জন্য সংগঠিত সফল সংগ্রামের নেতা। (যদিও তাকে প্রাই জাতির জনক বলে ডাকা হয় কিন্তু এ দাবির পক্ষে কোন নথি পাওয়া যায়নি।)


২৪/ দেশের নাম ইন্দোনেশিয়াঃ- সূকর্ণ তার জাতীয় উপাদি বাপাক বাংসা/পেমিমপিন বেসার রেভূলোসি ইন্দোনেশিয়া/প্রোকলেমেটর, জাতির জনক/ইন্দোনেশিয়ান বিপ্লবের মহান নেতা/ ঘোষক। ইন্দোনেশিয়ার প্রথম রাষ্ট্রপতি।


২৫/ দেশের নাম ইরানঃ-দ্বিতীয় কুরুশ তার জাতীয় উপাদি জাতির জনক। মধ্যমা সাম্রাজ্য-এর বিরোদ্ধে বিদ্রোহ এবং হাখমানেশী সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।

২৬/ দেশের নাম ইসরায়েলঃ-থিওডোর হের্জল জার জাতীয় উপাদি חוזה המדינה, রাজ্যের স্বপ্নদর্শী।আধুনিক সময়ে ইসরায়েল ভূমিতে ইহুদি জাতি গঠনের অন্যতম একজন সপ্নদ্রষ্টা। ইহুদি আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা।


২৭/ দেশের নাম ইতালিঃ-দ্বিতীয় ভিক্টর এমানুয়েল তার জাতীয় উপাদি পাদ্রে দেল্লা পাত্রিয়া, জন্মভূমির জনক। ইতালির প্রথম রাজা।


২৮/ দেশের নাম কেনিয়াঃ-জুমো কেনিয়েত্তা তার জাতীয় উপাদি বাবা ওয়া তাইফা, জাতির জনক/মুক্তিযুদ্ধা। কেনিয়ার প্রথম রাষ্ট্রপতি। ১৯৬৩ সাল থেকে ১৯৭৮ সালে তার মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত কেনিয়ার রাষ্ট্রপতি ছিলেন। কেনিয়ার প্রথম সংবিধান রচনায় সাহায্য করেন।


২৯/ দেশের নাম দখিন কোরিয়াঃ-কিম গু তার জাতীয় উপাদি 민족의 스승 (Minjogui seuseung)/국부 (Gukbu), কোরিয়ান জাতির মহান পথপ্রদর্শক ও জাতির পিতা।জাপান থেকে স্বাধীনতার জন্য কোরিয়ার সফল সংগ্রামের প্রধান নেতা।


৩০/ দেশের নাম কসোভোঃ- ইব্রাহিম রুগোভা তার জাতীয় উপাদি বাবা আই কমবিত, জাতির পিতা।কসোভোর প্রথম রাষ্ট্রপতি। ১৬ বছর কসোভোর রাষ্ট্রপতির দ্বায়িত্ব পালন করেন। কসোভোর ডেমোক্রেটিক লীগের প্রধান ও স্বাধীনতা সংগ্রামের দিকনির্দেশক।


৩১/ দেশের নাম লিথুয়ানিয়াঃ- জন বাসানাভিসিয়াস তার জাতীয় উপাদি টাউটোস পাত্রিয়াটোস, জাতির কুলপতি।লিথুয়ানিয়ার জাতীয় রেনেসাঁর সময় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কার্যক্রম।


৩২/ দেশের নাম ম্যাসেডোনিয়া প্রজাতন্ত্রঃ-ক্রস্টি মিজিরকভ তার জাতীয় উপাদি Татко на нацијата,জাতির জনক। বিশিষ্ট ভাষাতত্ত্ববিদ, লেখক এবং কর্মী।


৩৩/ দেশের নাম মালয়েশিয়াঃ-টানকু আব্দুল রহমান তার জাতীয় উপাদি বাপা কিমিরদেকান, স্বাধীনতার। মালয়েশিয়ার প্রথম প্রধানমন্ত্রী ।

৩৪/ দেশের নাম মরিশাসঃ-স্যার সিউসাগার রামগোলাম তার জাতীয় উপাদি জাতির জনক। স্বাধীনতা পরবর্তী প্রথম রাষ্ট্রপতি। (১৯৬৮)


৩৫/ দেশের নাম মেক্সিকোঃ-মিগাল হাইদালগো ইয়ে কসটিল্লা তার জাতীয় উপাদি পাদ্রে দে লা পাত্রিয়া মেক্সিকানা,মেস্কিকো জাতির জনক। মেক্সিকোর স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রথম নেতা।


৩৬/ দেশের নাম নামিবিয়াঃ-স্যাম নজুমা তার জাতীয় উপাদি নামিবিয়া জাতির প্রতিষ্ঠাতা জনক।নামিবিয়ার প্রথম রাষ্ট্রপতি, ১৯৮৯-২০০৪; ২০০৫ সালের সংসদে এই উপাধি পাশ হয়।    


৩৭/ দেশের নাম নেদারল্যান্ডসঃ-উইলিয়াম দ্য সাইলেন্ট তার জাতীয় উপাদি ভাদের দেশ ভাদেরল্যান্ডস, জন্মভূমির জনক। ওলন্দাজ বিদ্রোহ-এর নেতা। স্পেনীয় সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে নিম্ন দেশসমূহের সফল বিদ্রোহ। এর সূত্র ধরে স্বাধীন ওলন্দাজ প্রজাতন্ত্রের জন্ম হয়।


৩৮/ দেশের নাম নরওয়েঃ- আইনার গেরহার্ডসেন তার জাতীয় উপাদি ল্যান্ডস ফাদেরেন, জাতির জনক। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী নরওয়ের রাষ্ট্রপতি


৩৯/ দেশের নাম পাকিস্তানঃ-মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ তার জাতীয় উপাদি কায়েদ-এ-আজম, মহান নেতা।পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা, নিখিল ভারত মুসলিম লীগের নেতা ও পাকিস্তানের প্রথম গভর্ণর জেনারেল।


৪০/ দেশের নাম পানামাঃ-সাইমন বলিভার তার জাতীয় উপাদি পাদ্রে দে লা পাত্রিয়া, জন্মভূমির জনক।স্পেনের কাছ থেকে স্বাধীনতার লাভের জন্য দক্ষিণ আমেরিকার সফল সংগ্রামের প্রধান নেতা।


৪১/ দেশের নাম পাপুয়া নিউ গিনিঃ-স্যার মাইকেল সোমারে তার জাতীয় উপাদি জাতির জনক।১৯৭৫ সালের স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতা; "দ্য চিফ" ও "দ্য ওল্ড ম্যান" নামেও পরিচিত


৪২/ দেশের নাম পর্তুগালঃ-ডোম আফোনসো হেনরিকস জাত জাতীয় উপাদি পাই দা নাকাউ, জাতির পিতা।পর্তুগালের রাজা ও প্রতিষ্ঠাতা, ১১৭৯ সালে হলি সি দ্বার স্বীকৃত।


৪৩/ দেশের নাম রাশিয়াঃ-রাশিয়ার প্রথম পিটার তার জাতীয় উপাদি Отец Отечества (Otéc Otéčestva), জন্মভূমির জনক। সরকারি মন্ত্রীসভা ১৭২১ সালে রাশিয়ার সম্রাট ও দ্য গ্রেট উপাধির সাথে এটিও গ্রহন করে।


৪৪/ দেশের নাম সাহরাউই আরব গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রঃ-এল-ওয়ালি মুস্তফা সাঈদ তার জাতীয় উপাদি জাতির জনক। পলিসারিও ফ্রন্ট নেতা, সাদরের প্রথম রাষ্ট্রপতি। স্প্যানিশ ঔপনিবেশিক সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ও মরক্কোর ও মৌরিতানিয়ার সৈন্যবাহিনী এর আক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করেন।


৪৫/ দেশের নাম সেন্ট লুসিয়াঃ-স্যার জন কোম্পটন তার জাতীয় উপাদি জাতির জনক। ১৯৭৯ সালে স্বাধীনতার পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী। "ড্যাডি কোম্পটন" নামেও পরিচিত।


৪৬/ দেশের নাম সৌদি আরবঃ-আব্দ আল আজিজ ইবনে, জাতীয় উপাদি والد الأمة (ওয়ালিদ আল উম্মা),তিনি আরব উপদ্বীপের উপজাতিদের একত্রকরেন এবং আধুনিক সৌদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি হাউজ অফ সৌদ প্রতিষ্ঠা করেন, যে রাজবংশ সৌদি শাসন করে। তাঁর পুত্র রাজা সালমান বিন আবদুল আজিজ সৌদি আরব রাষ্ট্রের বর্তমান প্রধান।


৪৭/ দেশের নাম স্কটল্যান্ডঃ-ডুনাল্ড দেওয়ার, জাতীয় উপাদি, জাতির পিতা। ১৯৯৯ সালে সংসদ উন্নয়নের সময় স্কটল্যান্ডের প্রথম প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। Dewar was also


৪৮/ দেশের নাম সার্বিয়াঃ-ডুবরিকা কজিক, জাতীয় উপাদি Отац Нације, জাতির জনক। যুগোস্লাভিয়া ফেডারেল প্রজাতন্ত্রের প্রথম রাষ্ট্রপতি, রাজনৈতিক ও সার্ব সিদ্ধান্তগ্রহনকারী জাতীয়তাবাদী ব্যক্তি।


৪৯/ দেশের নাম সিঙ্গাপুরঃ-লি কুয়ান ইউ, জাতীয় উপাদি সিঙ্গাপুরের প্রতিষ্ঠাতা জনক। সিঙ্গাপুরের প্রথম প্রধানমন্ত্রী।


৫০/ দেশের নাম স্লোভেনিয়াঃ- প্রাইমোজ ট্রাবার, জাতীয় উপাদি, ওসি নারোদা, জাতির পিতা। স্লোভেনীয় ভাষা বিন্যাস করেন ও স্লোভীয় ভাষায় মুদ্রিত প্রথম বইয়ের লেখক।


৫১/ দেশের নাম দক্ষিণ আফ্রিকাঃ-নেলসন ম্যান্ডেলা, জাতীয় উপাদি, জাতির জনক। দক্ষিণ আফ্রিকার গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রথম রাষ্ট্রপতি।


৫২/ দেশের নাম স্পেনঃ-ক্যাথলিক মোনার্ক, তার জাতীয় উপাদি,রেইস ক্যাথোলিকোস দে লস রেইনোস দে কাসিল্লা ইয়ে অ্যারাগন, জাতির জনক। The unifiers of Spain. They unified the territories of Crown of Castile, Crown of Castile and Al-Andalus, all the territories of the Iberian Peninsula, except Portugal. During their reign America was discovered and started the Spanish Empire.


৫৩/ দেশের নাম শ্রীলঙ্কাঃ-ডন স্টিফেন সেনানায়েক, তার জাতীয় উপাদি, জাতির জনক।প্রথম প্রধানমন্ত্রী, (১৯৪৭ থেকে ১৯৫২ পর্যন্ত)


৫৪/ দেশের নাম সুরিনামঃ-জোহান ফেরিয়ার, তার জাতীয় উপাদি, ভাদের দেশ ভাদারল্যান্ডস, জাতির জনক।১৯৭৫ সালে স্বাধীনতার পর প্রথম রাষ্ট্রপতি। (ভাদের দেশ ভাদারল্যান্ডস টার্মটি নেদারল্যান্ডস থেকে এসেছে।)


৫৫/ দেশের নাম তানজানিয়াঃ-জুলিয়াস নেইররি, তার জাতীয় উপাদি, বাবা ওয়া তাইফা, জাতির জনক।তানজানিয়ার প্রথম রাষ্ট্রপতি।


৫৬/ দেশের নাম তুরস্কঃ-কামাল আতাতুর্ক, জাতীয় উপাদি, আতাতুর্ক, তুর্কী জাতির মহান পথপ্রদর্শক।১৯৩৪ সালের উপাধি সংক্রান্ত আইন দ্বারা গৃহীত।


৫৭/ দেশের নাম সংযুক্ত আরব আমিরাতঃ-শেখ জায়েদ বিন সুলতান আল নাহিয়ান, জাতীয় উপাদি, والد الأمة (ওয়ালিদ আল উম্মা), জাতির জনক। সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রথম ৩৩ বছরের রাষ্ট্রপতি। (১৯৭১-২০০৪)


৫৮/ দেশের নাম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রঃ-জর্জ ওয়াশিংটন , জাতীয় উপাদি, তাঁর দেশের জনক ।আমেরিকান বিপ্লবী যুদ্ধের মহাদ্বীপীয় সেনাবাহিনীর কমান্ডার, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম রাষ্ট্রপতি।


৫৯/ দেশের নাম উরুগুয়েঃ-হোজে গেরভাসিও আর্টিগাস , জাতীয় উপাদি, পাদ্রে দে লা ইনডিপেন্ডেন্সিয়া , উরুগুয়ে জাতির স্বাধীনতার ।রিও দে লা প্লাতাতে ব্রিটিশ, স্পেনীয় ও পর্তুগীজ উপনিবেশিক বাহিনীর বিরোদ্ধে


৬০/ দেশের নাম ভেনেজুয়েলাঃ-সাইমন বলিভার, জাতীয় উপাদি, পাদ্রে দে লা পাত্রিয়া, জন্মভূমির জনক।স্পেনের কাছ থেকে স্বাধীনতার লাভের জন্য দক্ষিণ আমেরিকার সফল সংগ্রামের প্রধান নেতা।    


বিঃ দ্রঃ :- pdf নেই।(সংগৃহিত)

বিভিন্ন জায়গা থেকে সংগ্রহ করে একসাথে পোস্ট করা, অনেকটা সংশোধন করা তবুও যদি ভুল থাকে কমেন্ট করে জানাবেন সংশােধন করে দেবো।

বৃহস্পতিবার, ৪ নভেম্বর, ২০২১

ইতিহাসে সত‍্যতা ননীবালা দেবী।

 কাপড় খুলে শরীরে দুবাটি লঙ্কাবাঁটা ঢোকানো হয়েছিল, না না নেহেরু -গান্ধী মোটেই নয়, ওনারা তো ব্রিটিশ পরিবারের অনুগত।ইনি ননীবালা দেবী।।        


                                                           বাংলার প্রথম মহিলা রাজবন্দী ননীবালা দেবী জন্মগ্রহণ করেছিলেন ১৮৮৮ সালে হাওড়া জেলার বালিতে। বাবা সূর্যকান্ত বন্দ্যোপাধ্যায়, মা গিরিবালা দেবী। সেই সময়ের সামাজিক রীতি মেনে ১৮৯৯ সালে মাত্র এগার বছর বয়সে তাঁর বিয়ে দেওয়া হয়। বিয়ের পাঁচ বছরের মাথায় ১৯০৪ সালে তাঁর স্বামী মারা যান। তাঁর বয়স তখন মাত্র ষোল। এরপর তিনি তাঁর বাবার কাছেই ফিরে আসেন।


১৯১৪ সালে বেধেছিল প্রথম বিশ্বযুদ্ধ। সেই সময় ভারতে যুগান্তর দলের বিপ্লবীরা জার্মানির কাছ থেকে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ভারতব্যাপী একটা বৈপ্লবিক অভ্যুত্থান ঘটিয়ে, স্বাধীনতা আনবার রাস্তা পরিষ্কার করতে চেষ্টা করেছিলেন। বাঘা যতীন ও রাসবিহারী বসুর মিলিত চেষ্টায় দ্বিতীয় সিপাহি বিদ্রোহের (২১ফেব্রুয়ারি, ১৯১৫) পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়, রাসবিহারী বসু ভারত ত্যাগ করেন। ইংরেজ সরকার ভারত-জার্মান যোগাযোগের খবর জেনে যায়। বাঘা যতীন যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় বালেশ্বরের যুদ্ধে শহীদ হন (১০ই সেপ্টেম্বর ১৯১৫)। তাঁর মৃত্যুতে বাংলার বিপ্লবী কাজে অপূরণীয় ক্ষতি হয়। তবুও ইংরেজের রক্তচক্ষুকে অগ্রাহ্য করে পূর্ব-ভারতের পথ ধরে চীন ও আসামের মধ্য দিয়ে অস্ত্রশস্ত্র আনিয়ে ভারতে বিদ্রোহ ঘটাবার জন্য বিপ্লবীরা আবার চেষ্টা করেছিলেন যাদুগোপাল মুখার্জীর নেতৃত্বে।


চারদিকে চলছে তখন আহত ব্রিটিশ-সিংহের প্রচণ্ড আক্রমণ ও নির্মম অত্যাচার। সেই অত্যাচারের ধরন ছিল- ফাঁসি, দ্বীপান্তর, পুলিসের নির্যাতনে পাগল হয়ে যাওয়া এবং চার্লস টেগার্টের তদারকে নিত্য নতুন বীভৎস অত্যাচার। মলদ্বারে রুল ঢোকানো, কমোড থেকে মলমূত্র এনে মাথায় ঢেলে দেওয়া, চোখের মণিতে সুঁচ ফোটানো, গরম লোহা হাতের তালু বা পায়ে চেপে ধরা, কয়েকদিন উপোস করিয়ে পিছনে হাতকড়া অবস্থায় ঠা ঠা রোদে বন্দীকে দাঁড় করিয়ে রেখে লাথি ও রুলের মার - এই ছিল টেগার্টের অত্যাচারের রীতি। এইরকম অসহায় বিপদভরা দিনে, সম্পর্কে ভাইয়ের ছেলে বিপ্লবী অমরেন্দ্র চ্যাটার্জীর কাছে বিপ্লবের দীক্ষা পেলেন বাল্যবিধবা ননীবালা দেবী।


দেশকে ভালোবেসে বিপ্লবীদের হয়ে তিনি নানা ঝুঁকিপূর্ণ কাজের দায়িত্ব নিতেন ও নিপুণ দক্ষতায় সে কাজ সম্পন্ন করতেন। অনেক কাছের মানুষও টের পেত না যে তিনি বিপ্লবী দলের সক্রিয় সদস্য। তিনি বিপ্লবীদের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা করতেন, এক জায়গার নেতাদের নির্দেশ ও নানা দরকারি খবর অন্য জায়গার বিপ্লবীদের কাছে পৌঁছে দিতেন। অস্ত্রশস্ত্র নিজের কাছে লুকিয়ে রাখতেন আবার গোপনে বিপ্লবীদের কাছে পৌঁছেও দিতেন।


১৯১৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে

ভারত-জার্মান যোগাযোগ এবং তার পরের পর বিভিন্ন ঘটনার খবর পেয়ে, সেই সম্পর্কে পুলিস কলকাতার ‘শ্রমজীবী সমবায়’ নামে এক প্রতিষ্ঠানে তল্লাশী করতে যায়। তল্লাশীর সময় অমর চ্যাটার্জী পলাতক হন এবং এক সঙ্গী রামচন্দ্র মজুমদার গ্রেপ্তার হন।


পলাতক অমর চ্যাটার্জী এবং তাঁর কয়েকজন সহকর্মীকে প্রায় দুই মাস আশ্রয় দিয়ে রাখলেন ননীবালা দেবী রিষড়াতে। এদিকে গ্রেপ্তারের সময় রামচন্দ্র মজুমদার একটা ‘মাউজার’ (Mauser) পিস্তল কোথায় রেখে গেছেন সে-কথা দল কে জানিয়ে যেতে পারেননি। বিপ্লবীদের  দরকার ছিল সেটির, কিন্তু কীভাবে সন্ধান জানা যাবে?

অতএব জেলে ঢুকে রামচন্দ্রের সঙ্গে দেখা করে পিস্তলের খোঁজ আনতে চললেন  দুঃসাহসী ননীবালা দেবী।

সেদিনের সমাজে যা কেউ কল্পনা করতেও পারত না তাই করলেন তিনি। বিধবা ননীবালা দেবী রামচন্দ্র মজুমদারের স্ত্রী সেজে, তাঁর সঙ্গে প্রেসিডেন্সি জেলে দেখা করতে এলেন। ১৯১৫-১৬ সালে যে যুগ ছিল তখন বাঙালী বিধবাদের পক্ষে সিঁদুর মাথায় এরকম পরের স্ত্রী সেজে জেলে গিয়ে পুলিসের কড়া দৃষ্টিকে ফাঁকি দিয়ে কাজ হাসিল করার কথা কেউ চিন্তাও করতে পারত না। পুলিস তো নয়ই, কোনো সাধারণ মেয়েও নয়। আজকের সমাজ ও সেদিনকার সমাজ - মধ্যে আছে বিরাট সাগরের ব্যবধান। বিধবা ননীবালা সধবার সাজে সিঁদুর পরে একগলা ঘোমটা দিয়ে রামচন্দ্রের স্ত্রী সেজে স্বামীর সঙ্গে দেখা করতে গেলেন জেলে। পুলিশের চোখে  ধুলো দিয়ে পিস্তলের সন্ধান জেনে বেড়িয়ে এলেন প্রেসিডেন্সি জেল থেকে।


পুলিস অনেক পরে জানাত পারল যে, ননীবালা দেবী রামচন্দ্র মজুমদারের স্ত্রী নন। কিন্তু এটা জানতে পারেননি যে, তিনিই রিষড়াতে ছিলেন আশ্রয়দাত্রী।


পুলিশ নজর এড়াতে ১৯১৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে চন্দননগরে আবার বাড়ি ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। তবে রিষড়ার মতো এখানেও মেয়েরা না থাকলে বাড়ি ভাড়া পাওয়া যেত না। তখন আবার এলেন ননীবালা দেবী, গৃহকর্ত্রীর বেশে। এখানে এইসময়ে আশ্রয়দানের উদ্দেশ্যে তাঁর বড়পিসিকেও এনেছিলেন বিপ্লবী ভোলানাথ চ্যাটার্জী। এই বড়পিসি ও ননীবালা দেবী দুটো আলাদা বাড়িতে আশ্রয় দিয়ে রেখেছিলেন পলাতক বিপ্লবীদের। পলাতক হয়ে আছেন সেখানে বিপ্লবী নেতা যাদুগোপাল মুখার্জী, অমর চ্যাটার্জী, অতুল ঘোষ, ভোলানাথ চ্যাটার্জী, নলিনীকান্ত কর, বিনয়ভূষণ দত্ত ও বিজয় চক্রবর্তী। এঁদের সকলেরই মাথায় অনেক হাজার টাকার হুলিয়া ছিল।

এই নিশাচরেরা সারাদিন দরজা বন্ধ করে ঘরে কাটিয়ে দিতেন। শুধু রাতে সুবিধা মতো বেড়িয়ে পড়তেন। পুলিস এসে পড়লেই এই পলাতক বিপ্লবীরা নিমেষে অদৃশ্য হয়ে যেতেন।


এইভাবে চন্দননগরের বিভিন্ন জায়গায়ে কয়েকটি বাড়িতে তল্লাশী ও বিপ্লবীদের নিমেষে পলাবার পর ননীবালা দেবীকে আর চন্দননগরে রাখা নিরাপদ হলো না। কারণ পুলিস তৎপর হয়ে উঠেছিল ননীবালা দেবীকে গ্রেপ্তার করতে। তাঁর বাবা সূর্যকান্ত ব্যানার্জীকে পুলিস বালি থানাতে নিয়ে গিয়ে দশটা থেকে পাঁচটা অবধি বসিয়ে রেখে জেরা করত - ননীবালা দেবীর কোথায় আছেন জানতে।


ননীবালা দেবী পলাতক হলেন। তাঁর এক বাল্যবন্ধুর দাদা প্রবোধ মিত্র কাজের জন্য যাচ্ছিলেন পেশোয়ার। বাল্যবন্ধু তার দাদাকে অনেক অনুনয় করে রাজী করালেন ননীবালাকে সঙ্গে নিয়ে যেতে। ননীবালা দেবী পলাতক অবস্থায় তাঁর সঙ্গে পেশোয়ার গেলেন। এও এক অনন্য কাজ, এক বাঙালী বিধবা অচেনা এক পুরুষের সাথে কয়েক হাজার কিমি দূরে সম্পূর্ণ অন্য এক জায়গায়ে চলে গেলেন লুকিয়ে থাকতে! প্রায় ষোলো-সতের দিন পরে পুলিস সন্ধান পেয়ে যখন ননীবালা দেবীকে গ্রেপ্তার করতে পেশোয়ার গেছে, তখন ননীবালা দেবীর কলেরা চলছে তিনদিন ধরে। প্রথমদিন বাড়ি ঘিরে রেখে তার পরদিনই নিয়ে গেল তাঁকে পুলিস-হাজতে স্ট্রেচারে করে। কয়েকদিন পেশোয়ার হাজতে রাখার পর একটু সুস্থ অবস্থায় তাঁকে নিয়ে আসা হয় কাশীর জেলে, তখন তিনি প্রায় সেরে উঠেছেন।


কাশীতে আসার কয়েকদিন পরে, প্রতিদিন তাঁকে জেলগেটের অফিসে এনে কাশীর ডেপুটি পুলিস-সুপারিনটেন্ডেন্ট জিতেন ব্যানার্জী জেরা করত। ননীবালা দেবী সবই অস্বীকার করতেন -  বলতেন কাউকেই চেনেন না, কিছুই জানেন না। তারপর জিতেন ব্যানাজীর তুই-তুকারির অসভ্য ভাষা। ননীবালা দেবী তখনও চুপচাপ থাকতেন।

একদিন দুইজন জমাদারনী (Wardress) ননীবালা দেবীকে একটা আলাদা সেলে (cell) নিয়ে গেল। দুজনে মিলে তাকে জোর করে ধরে মাটিতে ফেলে দিল। তারপর সমস্ত কাপড় খুলে নিয়ে দু-বাটি লঙ্কাবাটা ওঁর শরীরের ভেতরে দিয়ে দিতে লাগল। ননীবালা দেবী চীৎকার করে লাথি মারতে লাগলেন সমস্ত শক্তি দিয়ে। অসহ্য অসম্ভব অসহনীয় এক বীভৎস জ্বালা, যার বর্ণনা করার ভাষা নেই। এভাবেই অত্যাচার চলত, তার পর আবার তাঁকে নিয়ে আসা হত সেই জেল-গেটের অফিসে জিতেন ব্যানার্জীর কাছে। আবার জেরা। এত অত্যাচার, শরীরের ভেতরে লঙ্কার জ্বালা, তবু তাঁকে ভাঙা সম্ভব হ'ল না।

কাশীর জেলে - সেখানে মাটির নীচে একটা খুবই ছোট ‘পানিশমেন্ট সেল’ অর্থাৎ শাস্তি কুঠুরী ছিল। তাতে দরজা ছিল একটাই, কিন্তু আলো বাতাস প্রবেশ করবার জন্য কোনো জানালা বা সমান্য ঘুলঘুলিও ছিল না। জিতেন ব্যানার্জী তিন দিন প্রায় আধঘণ্টা সময় ধরে ননীবালা দেবীকে ঐ আলো-বাতাসহীন অন্ধকার সেলে তালাবন্ধ করে আটকে রাখত। কবরের মতো সেলে আধঘণ্টা পরে দেখা যেতো ননীবালা দেবীর অর্ধমৃত অবস্থা, তবু মুখ দিয়ে স্বীকারোক্তি বের করতে পারল না। তৃতীয় দিনে বন্ধ রাখল আধঘণ্টারও বেশি, প্রায় ৪৫ মিনিট। স্নায়ুর শক্তিকে চূর্ণ করে দেবার চূড়ান্ত প্রচেষ্টা। সেদিন তালা খুলে দেখা গেল ননীবালা দেবী পড়ে আছেন মাটিতে, জ্ঞানশূন্য।


হাল ছেড়ে দিয়ে পুলিস ননীবালা দেবীকে কাশী থেকে নিয়ে এল কলকাতা প্রেসিডেন্সি জেলে। ১৮১৮ সালের তিন নম্বর রেগুলেশনের ধারা প্রয়োগ হল তাঁর বিরুদ্ধে, প্রথম মহিলা রাজবন্দি হিসাবে প্রেসিডেন্সি জেলে এলেন তিনি। সেখানে গিয়ে তিনি খাওয়া বন্ধ করে দিলেন। জেল-কর্তৃপক্ষ, এমনকি জেলা-ম্যাজিস্ট্রেটও তাঁকে অনুরোধ করে খাওয়াতে পারলেন না। ননীবালা দেবী বললেন, বাইরে গেলে খাবেন। প্রতিদিন সকাল ৯টায় নিয়ে যেত তাঁকে গোয়েন্দা-আফিসে, সেখানে আই.বি. পুলিসের স্পেশাল সুপারিনটেন্ডেন্ট গোল্ডি (Goldie) তাঁকে জেরা করত।


-আপনাকে এখানেই থাকতে হবে, তাই বলুন কী করলে খাবেন?

-যা চাইব তাই করবেন?

-করব।

-আমাকে বাগবাজারে শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের স্ত্রী সারদা মা'য়ের কাছে রেখে দিন, তাহলে খাব।

গোল্ডি শয়তানি হাসি লুকিয়ে বলে-আপনি দরখাস্ত লিখে দিন।


ননীবালা দেবী তখুনি দরখাস্ত লিখে দিলেন।


গোল্ডি সেটা নিয়ে ছিড়ে দলা পাকিয়ে ছেড়া কাগজের টুকরিতে ফেলে দিল। এবারে সবাইকে চমকে দিয়ে হঠাৎ আহত বাঘের মতো লাফিয়ে উঠে ননীবালা দেবী এক চড় বসিয়ে দিলেন গোল্ডির মুখে। 

-ছিড়ে ফেলবে তো, আমায় দরখাস্ত লিখতে বলেছিলে কেন? আমাদের দেশের মানুষের কোনো মান সম্মান থাকতে নেই? দ্বিতীয় চড় মারবার আগেই অন্য সি.আই.ডি'রা তাঁকে ধরে ফেলে। - একশো বছরেরও আগে এক বাল্য বিধবা মেয়ের কি আশ্চর্য সাহস !


জেলের মধ্যে একদিন সিউড়ির দুকড়িবালা দেবীর (১৮৮৭-১৯৭০) সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। সকলের কাছে তিনি 'মাসিমা' নামে পরিচিতি ছিলেন। দুকড়িবালা দেবী ছিলেন ভারতে 'অস্ত্র আইনে সাজা প্রাপ্ত প্রথম মহিলা বন্দি'। জানতে পারলেন, সিউড়িতে দুকড়িবালা দেবীর বাড়িতে সাতটা ‘মাউসার’  (Mauser) পিস্তল পাবার অপরাধে দুকড়িবালা দেবীর হয়েছে দুই বছর সশ্রম কারাদণ্ড। রাখা হয়েছে তৃতীয় শ্রেণীর কয়েদী করে (মানে চোর-ডাকাত'দের সাথে একই সেলে। রাজবন্দী হলে আলাদা সেলে আলাদা ভাবে রাখা হয়)। অসম্ভব খাটাচ্ছে, ডাল ভাঙতে দিচ্ছে প্রতিদিন আধমণ। 


মতলব স্থির করে ফেললেন ননীবালা দেবী। উপবাসের ১৯ থেকে ২০ দিন চলছে তখন। আবার এলেন ম্যাজিস্ট্রেট অনুরোধ করতে।


-আপনাকে তো এখানেই থাকতে হবে। কী করলে খাবেন বলুন?

-আমার ইচ্ছামতো হবে?

-হ্যাঁ, হবে।

-তাহলে আমার রান্না করবার জন্য একজন ব্রাহ্মণ-কন্যা চাই, দুজন ঝি চাই।

-ব্রাহ্মণ-কন্যা কেউ আছেন এখানে?

-আছেন, দুকড়িবালা দেবী।

-আচ্ছা, তাই হবে।


এরপরে এলো সমস্ত নতুন বাসন-কোসন, হাঁড়িকুড়ি। ২১ দিনের পরে ভাত খেলেন সেই অসামান্য দৃঢ়চেতা বন্দিনী। সেইসাথে দুকড়িবালা দেবী'কেও বাঁচালেন পরিশ্রম থেকে।


দুই বছর এইভাবে বন্দীজীবন কাটিয়ে দিলেন তিনি। ১৯১৯ সালের এক দিন ননীবালা দেবীর মুক্তির আদেশ এলো।


জেল থেকে ফিরে এসে বালিতে তাঁর পৈতৃক বাড়িতে তিনি ঠাই পেলেন না। প্রথমত সকলেই পুলিসকে ভয় পায়। এছাড়া বিধবা হয়েও পরস্ত্রী সাজা, পরপুরুষের সাথে একঘরে থাকা বা পেশোয়ার যাওয়া - এইসব কারনে সেই সময়ের অদ্ভুত সমাজের এক পক্ষ তাঁকে মেনে নেয়নি, মেনে নেয়নি তাঁর নিজের বাড়ীর লোকেরা। অন্যদিকে তাঁর নিজস্ব বিপ্লবী সংগঠন বা চেনাজানা সবটাই ব্রিটিশ পুলিশের অত্যাচারে শেষ হয়ে গেছে, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। এই অবস্থায় তখন উত্তর কলকাতার এক বস্তিতে তাঁকে আশ্রয় নিতে হয়। (অন্য মতে, কোনও পূর্বপরিচিতের অনুগ্রহে একটি কুঁড়ে ভাড়া করেছিলেন হুগলিতে)। সুতো কেটে, রান্নার কাজ করে কোনমতে আধপেটা খেয়ে তাঁর দিন কাটতে থাকে। সমাজ এবং নিজের আত্মীয়-স্বজনদের ওপর রাগে, দু:খে, অপমানে তিনি সমস্ত যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছিলেন .. নিজেকে একপ্রকার লুকিয়ে রাখলেন .. এমনকি পরবর্তীকালের কোনও দেশনেতাদের কাছেও গেলেন না। যিনি সমাজকে উপেক্ষা করে দেশের কাজে নিজেকে বিলিয়ে দিলেন, তিনি কোথায় গেলেন সে ব্যাপারে কেউ জানতেও পারল না, খোঁজও করলো না।


দেশ স্বাধীন হওয়ার প্রায় কুড়ি বছর পরে ১৯৬৭ সালের মে মাসে তিনি মারা যান। না, ইতিহাস তাঁর জন্মদিন বা মৃত্যুদিনের তারিখ মনে রাখার প্রয়োজনবোধ করেনি। একটা সূত্র থেকে জানা যাচ্ছে যে, পুরনো কোনও বিপ্লবী সাথীর চেষ্টায় অথবা পরাধীন জেলের খাতায় নাম থাকায়, বেঁচে থাকা অবস্থায় পঞ্চাশের দশকে ৫০ টাকা পেনশন পেয়েছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামী হিসেবে - যদিও তার কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণ নেই। কেউ মনে রাখেনি যাঁদের আত্মত্যাগের কথা তাঁদের দলেই ছিলেন বাংলার প্রথম মহিলা রাজবন্দী ননীবালা দেবী। তবে স্বদেশীদের নিয়ে তৈরি একটি বাংলা সিনেমায় (সিনেমার নাম 'বিয়াল্লিশ') তাঁকে নিয়ে কিছু দৃশ্য ছিল, এইটুকুই। শুধু দেশের জন্য বিধবা হয়েও সধবা সেজেছিলেন, খুবই ছোট কুঠুরী ‘পানিশমেন্ট সেলে’ শ্বাস নিতে না পেরে কতবার অজ্ঞান হয়ে গেছিলেন। সামান্য একটা গোটা কাঁচালঙ্কা শুধু খেতে বললেই আমরা ভয় পাবো। এইরকম দু-বাটি লঙ্কাবাটা তাঁর শরীরের গোপন জায়গায়ে ভেতরে দিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কি অপরিশীম যন্ত্রণা তিনি সহ্য করেছিলেন - আমরা সুস্থ অবস্থায় কেউই তা অনুভব করতে পরবো না। উনিশ শতকের গোড়ার বিধবা মহিলা হওয়া সত্বেও নিজ চেষ্টায় তিনি সামান্য লেখাপড়া শিখেছিলেন। নিজে সুতো কেটে পৈতে তৈরি করে তা বিক্রি করে নিজের খরচ চালাতেন। তবু সেই সময়ের বাংলার কোথাও তিনি সম্মানের সাথে থাকার জায়গা পেলেন না। স্বাধীন ভারতেই তাঁকে অনাহারে কাটাতে হোলো। একবুক অভিমান নিয়ে তিনি নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখলেন - যা তাঁর মৃত্যুর পরেও শেষ হয়নি।

তাঁর কিছু মহিলা সহযোদ্ধাদের টুকরো টুকরো নানা লেখা থেকে যেটুকু জানা গেছে তাঁর বিষয়ে সেটুকু পুঁজি করেই তাঁকে এই শ্রদ্ধার্ঘ নিবেদন। #সংগৃহীত🙏