বুধবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩

চক্ষু দান

 চক্ষুদান


আমরা ছোটবেলা থেকে দেখে এসেছি ব্রাহ্মণ বিভিন্ন বৈদিক পুজোতে চক্ষুদান করেন। দুর্গা, কালী, লক্ষ্মী, সরস্বতী, গণেশ, নারায়ণ, কৃষ্ণ প্রভৃতি বৈদিক ব্রাহ্মণ্য দেবদেবী বা ভগবানের চক্ষুদান করেন ব্রাহ্মণ। এই ব্রাহ্মণ বেশির ভাগেই লেখাপড়া জানেনা। কতিপয় পূজারী ব্রাহ্মণ লেখাপড়া জানলেও সেগুলো লেখাপড়ায় অদক্ষ বা ফেল করা ব্রাহ্মণ। অর্থাৎ অজ্ঞ মূর্খ ব্রাহ্মণের চোখ আছে তবে বৈদিক ব্রাহ্মণ্য দেব-দেবীর চোখ নেই অন্ধ। যেহেতু বৈদিক ব্রাহ্মণ্য কৃষ্ণ রাম ভগবান তথা দেব-দেবীদের চোখ নেই অন্ধ, তাই তাদের চক্ষুদান করার প্রয়োজন হয়।

 মূল-ভারতীয় বৃহত্তর মানব গোষ্ঠী বহিরাগত আর্য ব্রাহ্মণ এবং খান আফগান মোঘল পাঠানদের অত্যাচারে নিজেদের কৃষ্টি সভ্যতা হারিয়ে ফেলেছে। তাই তারাও বৈদিক ব্রাহ্মণ্য অন্ধ কুসংস্কারাচ্ছন্ন চক্ষুদান প্রথাটি সাধারণত বেশিরভাগ মানুষ মেনে নিয়েছে। এই কারণে এই সকল মূল-ভারতীয় বহুজন মানুষ বৈদিক ব্রাহ্মণ্য অন্ধ কৃষ্টি সংস্কৃতির সাথে সাথে নিজেরাও নিজেদের ঐতিহ্য অস্তিত্ব ইতিহাস শিক্ষা ভুলে গিয়ে অন্ধ হয়েছ। এইভাবে ভারতীয় বহুজন মানুষ হাজার হাজার বছরে চোখ থাকতেও অন্ধ ছিল। তারা গাছপালা ছবির মত দেখলেও লেখা পড়ার বর্ণ নামক ছবিগুলো বুঝতে পারত না।

আধুনিক ভারতে নবজাগরণ আন্দোলনের অগ্রদূত  পূর্ণজ্ঞানী পূর্ণানন্দ পূর্ণব্রহ্ম শ্রীশ্রী হরিচাঁদ ঠাকুর (১৮১২-১৮৭৮) জ্ঞান অন্বেষণ করলেন এবং বুঝলেন শিক্ষা বিস্তার প্রয়োজন। নিজের সন্তান প্রজ্ঞাবান গুরুচাঁদ ঠাকুরকে সাধ্যমত শিক্ষার্জন করালেন।বাবা গুরুচাঁদ ঠাকুরের শিক্ষা আন্দোলন, শিক্ষাব্রতী জ্যোতিরাও ফুলে এবং বিদ্যাদাত্রী মাতা সাবিত্রীবাই ফুলে তাঁদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় মূল-ভারতীয় জাতির শিক্ষার দরজা খুলে দিলেন ব্রিটিশ সরকারের মাধ্যমে। 

পর্যায়ক্রমে বাবাসাহেব বি আর আম্বেদকর, মহাপ্রা যোগেন্দ্র নাথ মন্ডল, অধ্যাপক মুকুন্দ বিহারী মল্লিক প্রমুখ ব্যক্তিবর্গ সকলের জন্য শিক্ষা অর্জনের পথের সুযোগ করে, জ্ঞান অর্জনের পথ প্রশস্ত করলেন।

আধুনিক ভারতে পূর্ণজ্ঞানী শ্রীশ্রী হরিচাঁদ ঠাকুর মূল-ভারতীয় সমস্ত মানুষের মধ্যে জ্ঞানের চক্ষু দান করলেন। সেই পথে শিক্ষার্জন করে শিক্ষকগণ আজও সমস্ত মানুষকে শিক্ষার মাধ্যমে চক্ষু দান করে চলেছেন।

এসসি এসটি ওবিসি সমাজের সকল মানুষের চক্ষু দান করলেন উপরিউক্ত মূল-ভারতীয় মনীষীগণ।

 আমাদের চক্ষুদানের ক্ষেত্রে কোন ব্রাহ্মণ কোনরূপ সহযোগিতা করেননি। আমাদের প্রতিজ্ঞা হোক বিচুলিতে চক্ষুদান নয়, আমাদের মনীষীগণ সমস্ত মানুষের মধ্যে শিক্ষাদানের মাধ্যমে চক্ষুদানের পথ দেখিয়েছেন। আমরা যেন সেই পথে অগ্রসর হই। আর সেই পথকে প্রশস্ত করতে তৈরী হয়েছে গুরুচাঁদ সেনা দল।

বিবেচনা আপনার কি করবেন আর কি করবেননা।

এখনো যদি অন্ধ হয়ে থাকেন তবে বাবা গুরুচাঁদ ঠাকুর ক্ষমা করবেন না।

জয় হরিবোল

জয় বাবা হরিগুরুচাঁদ