টুঙ্গিপাড়ার ডুমুরিয়ার সম্মেলন, ব্রাহ্মণ্যবাদের বিরুদ্ধে প্রথম যৌক্তিক আঘাত
একবার টুঙ্গীপাড়ার এক মতুয়া সভায় গেলাম। স্থান ছিল ডুমুরিয়া হরি মন্দির প্রাঙ্গণ। সে মিটিং-এ উপস্থিত ছিলেন বাবু কার্তিক চন্দ্র ঠাকুর, কর্ণধর রায়, জহর লাল মণ্ডল, প্রণবকান্তি সরকার, হরপ্রসাদ বাগচী প্রমূখ নেতৃবৃন্দ। সভা চলমান অবস্থায় সেখানে উপস্থিত হলেন, টুঙ্গীপাড়া উপজেলার প্রাক্তন উপজেলা চেয়ারম্যান বাবু মন্মথ নাথ পোদ্দার। তিনি বক্তব্য রাখলেন। বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি বল্লেন- “আমরা দিন দিন ক্ষয়িষ্ণু হয়ে যাচ্ছি। এখন আবার বাংলাদেশের মতুয়ারা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গেছি। এতে মতুয়াদের মধ্যে চরম অনৈক্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় এমন কী আমার এলাকায়ও দুই পক্ষে মারামারী হয়েছে। আমি চাই এই অনৈক্য দুরীভূত করে মতুয়াদের ঐক্য যাতে ফিরে আসে তার জন্য একটা প্রস্তাব দিতে চাই। আমরা তাকে সাধুবাদ জানালাম। তিনি ঐ মিটিং-এ প্রস্তাব দিলেন- আমি আহ্বায়ক হয়ে এই ডুমুরিয়াতেই একটা মিটিং ডাকব। সেই মিটিং-এ ব্রাহ্মণ্যবাদী পক্ষের মতুয়া এবং বাহ্মণ্যবাদ বিরোধী পক্ষের মতুয়া সকলকে নিমন্ত্রণ দিব। ঐ মিটিং-এ উভয় পক্ষের পাঁচজন করে বক্তা থাকবেন। পর্যায়ক্রমে দুই পক্ষের দশজন বক্তা তাদের নিজ নিজ সমর্থনে প্রামাণ্য যুক্তি পুথি পুস্তকের Refference দেখিয়ে বক্তব্য প্রদান করবেন। Odience অর্থাৎ শ্রোতারা শুনবেন, বিচার বিশ্লেষণ করবেন এবং যে দলের পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থন থাকবে তাদের মতবাদকে প্রাধান্য দিয়ে এবং বিনা বাক্য ব্যয়ে সেই মতকে গ্রহণ করে আমরা সবাই এক হয়ে যাব।” এটাই আমার প্রস্তাব। আমি দাড়িয়ে বল্লাম বাবু আপনার প্রস্তাবে আমরা রাজী। তবে অপর পক্ষ কি বলবে তা তো বলতে পারব না। তিনি বল্লেন আমি ৪/৫ দিন ধরে অপর পক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি তারা আমার প্রস্তাবে রাজী হয়েছেন বলেই আজ আপনাদের মিটিং-এ এসেছি। তিনি আরো বল্লেন আপনাদের পক্ষ থেকে কে কে বক্তব্য দিবেন তাদের নামের তালিকাটা আমায় দিন। আমরা বসে বক্তার যে তালিকা প্রণয়ন করলাম তা নিম্নরূপঃ
অর্থ্যাৎ ব্রাহ্মণ্যবাদ বিরোধী পক্ষের নামের তালিকাঃ
১। বাবু কার্তিক চন্দ্র ঠাকুর। ২। হরপ্রসাদ বাগচী ৩। কর্ণধর রায় ৪।প্রণব কান্তি সরকার ৫। জহরলাল মণ্ডল।
ইতিমধ্যে ব্রাহ্মণ্যবাদী পক্ষের কিছু লোক ঐ মিটিং-এ উপস্থিত হলেন। বাবু মন্মথনাথ পোদ্দারের নির্দেশে তারাও পাঁচজন বক্তার নামের তালিকা মন্মথ বাবুর নিকট জমা দিলেন। এবার প্রশ্ন তারিখ নির্ধারণের। বহুবিধ আলোচনার পর সিদ্ধান্ত হল অদ্য হতে একমাস পর অর্থ্যাৎ ইং ১৫/০২/২০০৪ রোজ বুধবার সকাল ১০ ঘটিকা। স্থান ডুমুরিয়া হরি মন্দির প্রাঙ্গণ। সারা দেশে সাজো সাজো রব পড়ে গেল। নির্ধারিত দিনের একদিন আগেই উভয় পক্ষের তালিকাভুক্ত বক্তারা ডুমুরিয়া পৌঁছে গেলেন। আমরা অর্থাৎ ব্রাহ্মণ্যবাদ বিরোধীরা ডুমুরিয়া গ্রামের সম্ভ্রান্ত মতুয়া বাবু ধীরেন্দ্র নাথ বাইনের বাড়ীতে উপস্থিত হলাম। অন্য পক্ষ অর্থ্যাৎ ব্রাহ্মণবাদী পক্ষের বক্তারা অন্য এক বাড়ীতে থাকলেন তবে দু-বাড়ীর দুরত্ব খুব বেশী নয়। মনে হচ্ছিল ‘কাজিয়ার’ প্রস্তুতি। প্রণব বাবু এসেছেন বই এর গাদা নিয়ে। নির্ধারিত দিনে অর্থাৎ ১৫ই ফেব্রুয়ারী বুধবার ধীরেন্দ্র নাথ বাইন মহোদয়ের বাড়ীতে খাওয়া দাওয়া করে হরিচাঁদ মন্দিরে প্রণাম করে জয় বাবা হরিচাঁদ, জয় বাবা গুরুচাঁদ ধ্বনি দিয়ে রওনা দিলাম সভাস্থলের দিকে। আমাদের সমর্থকেরাও চলছে পিছু পিছু যেন বিরাট মিছিল। সভাস্থলে গিয়ে দেখি লোকে লোকারণ্য। দেখলাম ওড়াকান্দী থেকে এসেছেন হরিচাঁদ ঠাকুরের পঞ্চম পুরুষের দুই মহান ব্যক্তিত্ব শ্রী শচীপতি প্রসন্ন ঠাকুর এবং শ্রী হিমাংশুপতি ঠাকুর অর্থাৎ মেজো বাবু এবং ছোট বাবু। অল্পক্ষণ পরেই সভার কাজ শুরু হল। সভাপতির আসন অলংকৃত করলেন টুঙ্গীপাড়া উপজেলার প্রাক্তন চেয়ারম্যান বাবু মন্মথ নাথ পোদ্দার এবং প্রধান অতিথির আসন গ্রহণ করলেন শ্রী শচীপতি প্রসন্ন ঠাকুর। বিভিন্ন উপজেলা থেকে একজন করে সহ-সভাপতির আসন গ্রহণ করলেন।
আসন গ্রহণ পর্ব শেষ হতেই সভাপতি মহোদয় তার স্বাগত ভাষণ শুরু করলেন। তিনি বল্লেন- দীর্ঘকাল যাবৎ বাংলাদেশের মতুয়াদের মধ্যে নীতিগত দ্বন্দ্ব চলে আসছে। একদল মতুয়া চোদ্দ পুরুষের পদাঙ্ক অনুসরণ করে সামাজিক কাজকর্ম, ধর্মীয় কাজকর্ম, পূজা পার্বণ, পুরোহিতদের মাধ্যমে সম্পন্ন করে আসছেন। আর একদল মতুয়া যারা সংস্কার পন্থী বলে নিজেদের পরিচয় দিয়ে থাকেন তারা পূর্বেকার পুরোহিত ব্রাহ্মণ বাদ দিয়ে নিজেরা বা স্বগোত্রীয় প্রতিনিধি দ্বারা বিবাহ, শ্রাদ্ধ, পূজা পার্বণ বিভিন্ন সামাজিক বা ধর্মীয় কাজকর্ম নিজেরাই সম্পন্ন করছেন। এই দুটি গ্রুপ তৈরি হওয়ার পরে সর্বত্র মারামারী হুড়োহুড়ি অশান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। এই বিবাদ নিরসনকল্পে আজকের এই সভা। আজকের সভায় উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলতে চাই ব্রাহ্মণ্যবাদী এবং ব্রাহ্মণ্যবাদ বিরোধী এই দুই পক্ষের মোট দশজন বক্তা বক্তব্য দিবেন। ব্রাহ্মণ্যবাদীদের একজন বলার পর ব্রাহ্মণ্যবাদ বিরোধীদের একজন বলবেন। পর্যায়ক্রমে দশজন বক্তার বক্তব্য আপনারা মনোযোগ সহকারে শুনবেন এবং যে হরিচাঁদ ঠাকুর প্রবতীয় মতুয়া ধর্মাদর্শ নিয়ে বিবাদ সেই ঠাকুরের বংশধর আজকের সভার প্রধান অতিথির মুখ দিয়ে যে রায় দেবেন তাকেই শিরোধার্য করে আমরা সকল মতুয়া এক হয়ে ঘরে ফিরে যাব। আমাদের মধ্যে আর বিবাদ বিসম্বাদ থাকবে না। হরপ্রসাদ বাগচী দাঁড়িয়ে সভাপতির উদ্দেশ্যে বললেন- মাননীয় সভাপতি, কথার বরখেলাপ হয়ে গেল। উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে আপনি রায় দেবেন এটাই কথা। আর ওড়াকান্দীর ঠাকুরদেরই যদি ডাকলেন তবে পদ্মনাভ ঠাকুরকে ডাকলেন না কেন? কারণ ঠাকুর বাড়ীতেও দুটো ভাগ আছে। শুধুমাত্র একভাগকে ডেকেছেন অন্য ভাগকে ডাকেননি এটা সঠিক হয়নি। সুতরাং রায় ঠাকুর বাড়ীর লোক দিতে পারবে না। আর আপনার কথার ব্যাত্যয় আপনিও ঘটাতে পারেন না। ধন্যবাদ। মেজো ঠাকুর ব্যক্তিগতভাবে বাগচীকে চেনেন। দ্রুত মেজো ঠাকুর বল্লেন- না এ ব্যাপারে আমরা রায় দেব না যেভাবে পূর্বে কথা হয়েছে সেভাবেই সভা চলুক এবং মতুয়ারাই রায় দিক।
সভাপতি মহোদয় কিছুটা বিব্রত বোধ করলেন। সভাপতি মহোদয় ঠাকুরকে আশীর্বাদমূলক কিছু কথা বলার জন্য অনুরোধ করলেন। সভাপতির অনুরোধে শ্রী শচীপতি প্রসন্ন ঠাকুর শুভেচ্ছা বক্তব্য শুরু করলেন। মেজো বাবুর বক্তব্যের একাংশ পক্ষপাত দোষে দুষ্ট হয়ে গেল। বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি বলে ফেল্লেন- ওড়াকান্দী ঠাকুর বাড়ীতে আমরা এখনো পুরোহিত ব্রাহ্মণ দ্বারা পূজা পার্বন, শ্রাদ্ধশান্তি সব কাজই করাই। কিছু কিছু মতুয়া নিজেদের বুদ্ধিমত্তার জাহিরী করার জন্য এই নতুন পদ্ধতি অর্থাৎ ব্রাহ্মণ ছাড়া কাজকর্ম চালু করেছেন।
আমি আর স্থির থাকতে পারিনি। আমি চিৎকার করে উঠে দাঁড়িয়ে মোজো ঠাকুরের কথার তীব্র প্রতিবাদ করি। এক পর্যায়ে আমি চরম উত্তেজিত হয়ে বলি- এই মিটিং-এ ঠাকুর মশায়ের কাছে তথা উপস্থিত সকল মতুয়াভাই সহ সকলের কাছে একটামাত্র প্রশ্ন করব, যদি তার সদুত্তর কেউ আমাকে দিতে পারেন তবে ব্রাহ্মণ্যবাদ বিরোধী আন্দোলন আর করব না। আমিই এর স্রষ্টা আমিই আজ এটা ধ্বংস করে যাব। সব কালা গরুর কাণে বলে দিয়ে বাড়ী চলে যাব। সবাই যেন হাফ ছেড়ে বাঁচলেন। সমস্বরে সবাই বলে উঠল করুন আপনি প্রশ্ন? আপনার প্রশ্নের উত্তর যদি ঠাকুর সহ আমরা কেউ দিতে না পারি তবে আমরা আপনার পথেই চলে যাব। আমি মেজো ঠাকুরের উদ্দেশ্যে বল্লাম- ঠাকুর মশায়, হরিচাঁদ পূর্ণব্রহ্ম এটা কি আপনি মানেন? শ্রীশ্রীহরিলীলামৃতের মঙ্গলাচরণে মহামতি তারক সরকার লিখেছেন-
“রাম হরি কৃষ্ণ হরি শ্রীগৌরাঙ্গ হরি।
হরিচাঁদ আসল হরি পূর্ণানন্দ হরি।।”
এ উক্তিটি কি বিশ্বাস করেন? অনেকে হাঁসছিলেন। এটা কি একটা প্রশ্ন হল নাকি? আমি ধমক দিয়ে বল্লাম, একদম চুপ। ঠাকুর বল্লেন- মানি এবং বিশ্বাস করি। আমি বল্লাম- এ উক্তির মধ্যে হরিচাঁদকে আসল হরি বলা হলে অন্যান্য নামগুলো কিছুটা নকল হয়ে যাওয়ার প্রশ্ন ওঠে। কথা দাঁড়ায় সবাই ভগবান তবে হরিচাঁদ ভাল ভগবান। তাই নয়কি? এবার আসল প্রশ্নে আসা যাক-
হরিচাঁদ ঠাকুরের তিরোধানের পর সকল মতুয়ারা ভেঙ্গে পড়লেন। তারা গুরুচাঁদ ঠাকুরের কাছে গিয়ে আর্তনাদ করে বলতে লাগলেন-
ও বাবা গুরুচাঁদ, আমাদের বাবা পতিত পাবন হরিচাঁদ জন্মের মত আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। এখন আমরা কার কাছে যাব, কার কাছে আমাদের প্রাণের আকুতি জানাব? কোথায় আমরা হৃদয়ের অর্ঘ নিবেদন করব? গুরুচাঁদ তাদের আশ্বাস দিলেন বল্লেন তোমরা হতাশ হয়ো না। আমি বাবার নামে ওড়াকান্দী ধামে একটা মন্দির বানাব। সেখানেই তোদের প্রাণের আকুতি জানাবি। আমার বাবা সেই মন্দিরে অধিষ্ঠান করবেন। সেখানেই তোরা সব পাবি। ঠাকুরবাড়ীতে মন্দির হোল, নাম- শ্রীহরি মন্দির। সকল ভগবানের মন্দির যথা- রামমন্দির, কৃষ্ণমন্দির, গৌরাঙ্গমন্দির। সব মন্দিরেই পুরোহিত ব্রাহ্মণেরা নিত্য পূজা দিয়ে থাকেন। লীলামৃতের মঙ্গলাচরণ অনুযায়ী হরিচাঁদ আসল ভগবান, ভাল ভগবান। আপনাদের বাড়ীতে সেই আসল ভগবানের মন্দিরে কে পূজা দেয় ঠাকুর মশায়? অবশ্যই মতুয়ারা পূজা দেয় ওড়াকান্দী হরি মন্দিরে। যেহেতু এ মন্দির নির্মাণের পূর্বে আপনাদের বাড়ীর পূজা পার্বন, বিবাহ, শ্রাদ্ধাদি আপনাদের কুল পুরোহিত ব্রাহ্মণদের দিয়েই করাতেন। তাই হরিমন্দির নির্মাণের পর ব্রাহ্মণদের ডেকেছিলেন গুরুচাঁদ ঠাকুর এবং ব্রাহ্মণদের বলেছিলেন ঐ মন্দিরে নিত্য পূজা দিতে। যদি তারা এ মন্দিরে পূজা দিতে রাজী থাকতেন তবে ঐ হরিমন্দিরে মতুয়ারা পূজা দিতেন না। এটাই প্রশ্ন- গুরুচাঁদের অনুরোধ ব্রাহ্মণেরা শোনেনি, না গুরুচাঁদ ঠাকুর তাদের দিয়ে হরিচাঁদ মন্দিরে পূজা দেয়াননি কোনটি ঠিক? উত্তর দিন ঠাকুর মশায়, উত্তর দিন মতুয়ারা। কই দিন, দিন উত্তর দিন ঠাকুর মশায়। সেদিন ঠাকুর মশায় ওই মিটিং-এ কোন উত্তর দিতে পারেননি। আজও পারবেন না। যদি সেদিন গুরুচাঁদ ঠাকুরের অনুরোধ সত্ত্বেও কেবলমাত্র নমঃশূদ্রের ঘরে জন্ম বলে ব্রাহ্মণরা ঘৃণাভরে হরিচাঁদের পূজো দিতে অস্বীকার করে, আমার ভগবানকে অস্বীকার করে, আর সেই ব্রাহ্মণ দিয়ে এই পঞ্চম পুরুষেরা পূজা করায় এর থেকে লজ্জার এর থেকে কলংকের আর কিছু হতে পারে না। আর যদি সেদিন গুরুচাঁদ ঠাকুর বুঝে থাকেন যে তার বাবা হরিচাঁদ ঠাকুরের পূজা দেয়ার ক্ষমতা ওই বিটলে বামুনের নেই তাই তিনি ঐ ব্রাহ্মণের পরিবর্তে হরিচাঁদের ভক্ত মতুয়াদের দিয়ে হরিচাঁদ ঠাকুরের মন্দিরে পূজা দেয়ার ব্যবস্থা করে থাকেন তবে ওই দিনই তিনি ব্রাহ্মণ বর্জন করেছেন। তাই আমার মনে হয় হরিচাঁদ ঠাকুর যে ব্রাহ্মণ্যবাদের বিরুদ্ধে নতুন মতবাদ সৃষ্টি করেছিলেন তা তার উত্তরসূরীরা আজও বোঝেননি। মনে রাখতে হবে ওড়াকান্দীর রাস, রথ, দুর্গাপূজা দেখার জন্য মানুষ ওড়াকান্দী যায় না, যায় হরিচাঁদ গুরুচাঁদের পদধূলি ধন্য ঐ মাটির স্বর্গে, শুধু একটু ঐ ধূলায় গড়াগড়ি দিয়ে তাদের তাপিত অঙ্গ শীতল করতে।