মঙ্গলবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২৫

দাস প্রথার ইতিহাস

 ইসলামের ফুলেফেঁপে উঠার সবচাইতে বড় কারণ ছিলো দাসব্যবসা। ইসলামী দাসপ্রথার চারটি মূলনীতি হলো -


১ঃ কোনো স্বাধীন মুসলিমকে দাস বানানো যাবেনা।।


২ঃ যাকাতের মাধ্যমে শুধুমাত্র সকল মুসলিম দাসের ক্রমান্বয়ে মুক্তিদানের ব্যবস্থা হবে।  


৩ঃ সন্তান জন্মদানের ফলে দাসত্ব থেকে মুক্তি না পেলেও দাস হিসেবে হস্তান্তর হওয়া থেকে মুক্তি পাবে (তবে নবী বেঁচে থাকাকালীন ইসলামের প্রাথমিক যুগে এই নিয়ম মানা হতোনা।) 


৪ঃ মুসলিম দাসের মুক্তির ফলে ক্রমবর্ধমান দাসের তীব্র চাহিদা মেটানোর একমাত্র উপায় হিসেবে ক্রমাগত কাফির-মুশরিকদের উপর আক্রমণ করে তাদের নরনারী ও শিশুদের কৃতদাস এবং যৌনদাসী বানানো চালিয়ে যেতে হবে । 


শুধুমাত্র মুসলিম দাসদের ক্ষেত্রে যাকাতের মাধ্যমে মুক্ত হওয়ার আইনের কারণে অমুসলিম দাসরা মুক্তির লোভে দলেদলে ইসলাম গ্রহণ করে। এইভাবে একেতো মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধি পায় আবার ইসলাম গ্রহণ করে মুক্তি পেয়ে যাওয়ায় উল্লেখিত দাসের শূন্যস্থান পুরণ করতে বাজারে নতুন দাসের তীব্র চাহিদা তৈরী হয়।


যেহেতু চাহিদার সাথে যোগান সমন্বয়ের একমাত্র উপায় হলো নতুন নতুন অঞ্চল আক্রমণ করে কাফির-মুশরিকদের দাস বানানো তাই কোনো না কোনো ছুতোয় নিরীহ কৃষিজীবী অমুসলিম গোত্রগুলোকে কখনো রাতের অন্ধকারে কখনো ভোরের সূর্য উঠার আগেই অতর্কিত  আক্রমণ করে তাদের সম্পত্তি লুট করে পুরুষদের হত্যা করে নারী ও শিশুদের দাস হিসেবে বন্দি করা হয়।


নবীজী যোদ্ধাদের মধ্যে দাসীদের বন্টন করে দেওয়ায় সহজে ধনী হওয়ার লোভে দলেদলে আরবের তরুণেরা ইসলামের খাতায় নাম লিখিয়ে যুদ্ধে অংশ নিয়ে দাসী সহবত এবং দাস ব্যবসার রাতারাতি ধনী হওয়ার সুযোগ গ্রহণ করে।  আরব তরুণদের জন্য যুদ্ধ করে বাঁচলে কাফিরদের নারী ও সম্পদ লুটে ধনী হওয়া আবার মরে গেলে কোরানে বর্ণিত বেহেশতের অসংখ্য খাড়া স্তনবতী হুর সহবতের সুযোগ মিস দেওয়ার কোনো কারণই ছিলোনা।


এইভাবে নবীজীর নেতৃত্বে মুসলিমবাহিনী আরবের নিরীহ কৃষিজীবী ছোটছোট গোত্রগুলো একেরপর এক আক্রমণ করে অমুসলিম নরনারী ধরেধরে কৃতদাস এবং যৌনদাসী বানাতে থাকেন এবং নিজেদের চাহিদার উর্ধে হলে আরবের বড় বড় দাসব্যবসায়ীদের নিকট যৌনদাসী বিক্রি করে অস্ত্রশস্ত্র ঘোড়া ইত্যাদি ক্রয় করা হতো।  

 

অন্যদিকে মুসলিম হলে দাসদের মুক্তির পথ সুগম হওয়ায় ক্রমান্বয় মুসলিম রাষ্ট্রের সকল দাসই মুসলিম হয়ে যায় আর এতে মুসলিমদের সংখ্যা বাড়ে ঠিকই কিন্তু মুক্তি পেয়ে যাওয়ায় আরবে দাসের ভয়াবহ চাহিদা সৃষ্টি হয় যার ফলশ্রুতিতে অমুসলিম দাসের এই ক্রমবর্ধমান চাহিদা মিটাতে প্রথমে সমগ্র উত্তর আফ্রিকা এবং পরবর্তীতে ভারত এবং ইউরোপ থেকে  নির্বিচারে স্থানীয় অমুসলিমদের ধরেধরে দাস হিসেবে মুসলিমবিশ্বে আমদানি শুরু হয়।


ইসলামিবাহিনী কর্তৃক সদ্য বিজিত দূরবর্তী অঞ্চল থেকে দাসদাসীদের আমদানির  ক্ষেত্রে দেখা যেতো পথিমধ্যে অনেক কুমারী দাসী সাথে থাকা দাস বা মুসলিম বাহিনীর সৈন্যদের দ্বারা গর্ভবতী হয়ে পড়তো আর তাতে আরবে নিয়ে এসে এদের ভালো মূল্য পাওয়া যেতোনা । 


এই সমস্যার সমাধানে মুসলিমবাহিনী দূরবর্তী অঞ্চল থেকে দাসদাসী আমদানির ক্ষেতে কুমারী দাসীদের যোনীপথ প্রস্রাব করার জন্য একটি কাঠি রেখে বাকিটা সম্পূর্ণ সেলাই করে দিতেন। আরবে নিয়ে আসার পর এই দাসীদের আরব মালিকরা নিজ হাতে সেই সেলাই খুলে টাটকা কুমারী সম্ভোগের সুযোগ পেতেন।


পুরুষ দাসদের ক্ষেত্রে তাদের যৌনাঙ্গ কেটে খোজা বানানো হতো কারণ খোজা দাস দিয়ে ঘরেবাইরে কাজ করানো নিরাপদ ছিলো। এদের যৌনসক্ষমতা না থাকায় আরব শেখেরা নিজের স্ত্রীগণের সাথে এদের মেলামেশাতে ভয় পেতেননা। 


অটোমান এবং উত্তর আফ্রিকান মুসলিমদের হাতে ক্ষমতা আসার পর ওরা একদম আইসল্যান্ড পর্যন্ত ইউরোপীয় উপকূল সমূহে আক্রমণ করে শ্বেতাঙ্গ নারী ও শিশুদের ধরে এনে উত্তর আফ্রিকা এবং আরবে বিক্রি শুরু করে যা সতেরোশতক পর্যন্ত চলেছে যতোদিননা ব্রিটিশ রয়াল নেভি ভূমধ্যসাগরীয়  মুসলিম দাসব্যবসায়ীদের গায়ের জোড়ে তাড়িয়েছে । 


এইভাবে মানুষের ইতিহাসে ভয়াবহতম এক অধ্যায়ের সূচনা হয় যেটি আরবিভাষী প্রত্যেকটি দেশে এখনো চলছে। আরববিশ্বে গায়েখাটুনি দেওয়া প্রবাসী শ্রমিকদের সামাজিকভাবে ওরা কৃতদাসই মনে করে এবং ওদের আইন-কানুনেও তাই শ্রমঅধিকার বলতে কিছুর অস্তিত্ব নেই।


এখনও আরবদেশে শ্রমিকদের কোনো প্রতিষ্ঠান বা রাষ্ট্রের অধীনে না রেখে "কাফালা" পদ্ধতিতে আরব ব্যক্তির অধীনে রাখা হয় যাতে আরবপ্রভুরা দাস খাটানোর দুধের স্বাদ ঘোলে মেটাতে পারে।