বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১

ইতিহাস পর্যালোচনায় নিম্নবর্গীয় জাতি বা উপজাতি

ইতিহাস পর্যালোচনায় নিম্নবর্গীয় জাতি এবং উপ জাতিগোষ্ঠী কে বা কাহারা? এদের উদ্ধার কর্তা হিসেবে কোন ভগবান এসেছে? কেন এসেছে?

🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹


★ইতিহাস পর্যালোচনায় নিম্নবর্গীয় জাতি বা উপজাতি  গোষ্ঠীঃ-

বর্তমান বাংলাদেশ, ভারত সহ সমগ্র বিশ্বের বিভিন্ন তপশিলি জাতি এবং উপজাতি গোষ্ঠীরা বাস্তবিক অর্থে আজ-ও পর্যন্ত বিশ্বের কোনো ধর্মে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে নাই বা কাগজে কলমে মতুয়া মতাদর্শগত "সূক্ষ্ম সনাতন ধর্ম" বা "মতুয়া ধর্ম" ভিন্ন ধর্মীয় অধিকার পায় নাই। এদেরকে কতিত উচ্চবর্ণীয়রা বা ব্রাহ্মণ্যবাদীরা  নিম্নবর্গীয় তথা তপশিলি বা অন্ত্যজ (চন্ডাল সহ) জাতি এবং উপজাতি হিসেবে পরিগনিত করে আসছে। কিন্তু এই সকল ধর্মহীন তথাকথিত নিম্নবর্গীয় জাতিগোষ্ঠী মূল ইতিহাস না ঘেটে বা না বুঝে হুজুকেই বর্ণবৈষম্যভেদী, ছুৎমার্গ সহ উঁচু-নিচু জাত-পাত যুক্ত কুসংস্কারাচ্ছন্ন ব্রাহ্মণ্যবাদী হিন্দুধর্ম গ্রহণ করে চলছে বা হিন্দুধর্মে নাম লেখাতে চলেছে (মূল সনাতন ধর্মকে ছেড়ে) এবং ব্রাহ্মণ্যবাদীদের কুটচক্রে পরে ভয়ংকর  ভবিষ্যতের দিকে পা বাড়াচ্ছে। আর সেখানে কথিত উচ্চবর্ণীয় লোকেরা অত্যাধুনিক পদ্ধতিতে নবাগত ব্রাহ্মণ্যবাদ সৃষ্টি করে তথাকথিত নিম্নবর্গীয় অন্ত্যজ জাতিগোষ্ঠী বংশধরদের উপর শোষণ চালাবে যদি না এই সকল জাতি বা উপজাতি গোষ্ঠী সু-শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে মূল ইতিহাস জেনে এখনো সোচ্চার না হয়। নিম্নে ধর্মহীন সেই সকল নিম্নবর্গীয় জাতি এবং উপজাতি গোষ্ঠীর নাম তুলে ধরা হলো ---

১) নমঃশূদ্র ২) পৌণ্ড্রক্ষত্রিয় ৩) রাজপুত ৪) ঘাটোয়াল 

৫) তাঁতী ৬) শাখারী ৭) কর্মকার ৮) স্বর্ণকার ৯) কাঁশারী

১০) কুমোর  ১১) সদগোপ ১২) গোয়ালা ১৩) মালাকার

১৪) নাপিত ১৫) বারুই ১৬) বার্ণওয়ার  ১৭)তিলি ও তেলি ১৮) সদগোপ ১৯) গন্ধবনিক  ২০) সূত্রধর ২১) সুবর্ণবনিক  ২২) সাহা ২৩) কপালি ২৪)পাটিয়াল ২৫) পাটনি ২৬) চাষী কৈবর্ত ২৭) জালিয়া কৈবর্ত ২৮) ময়রা 

২৯) হালুই ৩০) কুণ্ডু ৩১) আগুরী ৩২) দলুই ৩৩) কুর্মি ৩৪) খেয়াতিলাম ৩৫) পরাশর দাস ৩৬) গরার  ৩৭) ধোপা ৩৮) স্যাকরা ৩৯) বৈষ্ণব ৪০) ডোম ৪১) যোগী ৪২) গাড়ওয়ারা ৪৩) চর্মকার ৪৪) কর্মকার ৪৫) সূত্রধর

৪৬) ভূইমালি ৪৭) কোচ ৪৮) রাজবংশী ৪৯) শূড়ী ৫০) খাটবা ৫১) বেলদার ৫২) কাচার ৫৩) কোইরি ৫৪) হানসি ৫৫) চুনরি ৫৬) মাটিয়াল ৫৭) তিয়র ৫৮) জালিয়া ৫৯) ঝাল ৬০) মল্ল ৬১) মাঝি ৬২) পাতুর ৬৩) বৈতি ৬৪) বাগদি ৬৫) দুলিয়া ৬৬) মুরিয়ারি ৬৭) লহেরি বা নুরি ৬৮) রাওয়ানী কাহার ৬৯) মাল-সাপুড়ে ৭০) রবি দাস ৭১) ঋষিদাস ৭২) বাঁশফোর ৭৩) বাল্মিকী ৭৪) হেলা ৭৫) হাড়ি ৭৬) মেথর ৭৭) লালবেগী ৭৮) বেদিয়া ৭৯) শিকারী ৮০) বাথুয়া ৮১) তেলেগু ৮২) তামিল ৮৩) নাগরচি ৮৪) বাহলিয়া ৮৫) বাউরি ৮৬) বিন্দ ৮৭) চাঁই ৮৮) দুসাদ ৮৯) পাসি ৯০) পান ৯১) পাহান ৯২) কাউরা ৯৩) মন্ডাই ৯৪) বুনো ৯৫) গারো ৯৬) শুড় ৯৭) ভুমিজ ৯৮) ভূইমালি ৯৯) নট ১০০) জেলে ১০১) শবর

এছাড়াও আরো কিছু জনজাতি আছে যার নাম আমার অজানা।


★ তপশিলি বা অন্ত্যজ জাতি (চন্ডাল সহ) এবং উপজাতি গোষ্ঠীর উদ্ধারকর্তা হিসেবে যে ভগবান এসেছে, যার জন্য এসেছেঃ--


উপরোল্লিখিত তপশিলি বা অন্ত্যজ জাতি এবং উপ জাতিগোষ্ঠীর জন্য এই বিশ্বে শ্রীশ্রীহরিচাঁদ ঠাকুরের পূর্বে প্রকৃতপক্ষে কোনো ভগবান বা মুক্তিদাতা আসছে বলে ইতিহাসের পাতায় সুস্পষ্টভাবে পরিলক্ষিত হয় না। এই নিম্নবর্গীয় তপশিলি বা অন্ত্যজ জাতি এবং উপজাতির ধর্মীয় ও মৌলিক অধিকার সহ সকল প্রকার অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য একমাত্র শ্রীশ্রীহরিচাঁদ ঠাকুর এই ধরাধামে আবির্ভূত হয়েছিলেন।


এবার পূর্নব্রহ্ম পূর্ণানন্দ শ্রীশ্রীহরিচাঁদ ঠাকুরের আসার কারন সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক----

                •তৎকালীন ভারতবর্ষ তথা বাংলার সমাজ ব্যবস্থায় ব্রাহ্মণ্যবাদীদের অত্যাচারে নিন্মবর্গের মানুষ যখন মানুষের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত, মন্দিরে গিয়ে ভগবানের আরাধনা থেকে বঞ্চিত, যেখানে নিন্মবর্গের মানুষের সংস্পর্শে মন্দির অপবিত্র হয়ে যেত ঠিক তখনই ঠাকুরের অবতীর্ণ হওয়ার প্রয়োজন দেখা দিল। তাইতো---দুনিয়ায় যারা উৎপীড়িত, যারা বঞ্চিত, যারা শোষিত, যারা লাঞ্ছিত, যারা উপেক্ষিত, যারা নির্যাতিত, যারা নিপীড়িত, যারা নিষ্পেষিত, যারা অবহেলিত, জীবনভর যারা শুধু দিলেই পেলেনা কিছুই, মানুষ যাদের চোঁখের জলের হিসেব নিলেনা; তাদের বেদনা তাদের করুন কান্নায় দ্যুলোক থেকে ভ্যূলোকে নেমে এনেছিল পতিতের পরিত্রাতা তথা তপশিলি বা অন্ত্যজ জাতি বা উপজাতি গোষ্ঠীর মুক্তিদাতা পূর্ণব্রহ্ম শ্রীশ্রীহরিচাঁদ ঠাকুর।

     ঠাকুর এসেছিলেন ---

              "অন্ধজনে দিতে আলো, অমানীকে মান,

                ওড়াকান্দী আবির্ভূত হল ভগবান ।

                হরিচাঁদ যেই আলো প্রথম জ্বালিল,

                 গুরুচাঁদ শতগুনে বর্ধিত করিল।।"

পূর্ণব্রহ্ম শ্রীশ্রীহরিচাঁদ ঠাকুর ও তৎপূত্র শ্রীশ্রীগুরুচাঁদ ঠাকুরের আগমনে ব্রাহ্মণ্যবাদের ধ্বংসের দামামা বেজে উঠল। শ্রীশ্রীহরিচাঁদ ঠাকুর এসে পতিতের মুক্তির জন্য প্রবর্তন করলেন মতুয়া মতবাদ, যেটা ব্রাহ্মণ্যবাদের বিরুদ্ধে এক মহা বিপ্লব। পতিত জাতির উদ্ধারের জন্য পূর্ণশক্তি ধারন করে পূর্ণব্রহ্ম শ্রীশ্রীহরিচাঁদ ঠাকুর এই পৃথিবীতে এসে ব্রাহ্মণ বা ব্রাহ্মণ্যবাদীদের সৃষ্ট সকল জাতপাতের জাতাকল থেকে নিম্নবর্গের মানুষের মুক্তির জন্য এবং তিনি বিশ্বের সকল মানব জাতিকে একত্রে মিলিত করার উদ্দেশ্যে বললেন--

            "নরাকারে ধরাপরে যতজন আছে।

          একজাতি বলে মান্য পাবে মোর কাছে।।"

তাইতো সূক্ষ্ম সনাতন ধর্ম বা মানবতাবাদী মতুয়া ধর্মের মূলনীতি হিসেবে শ্রীশ্রীহরিচাঁদ ঠাকুর বলেছেন --

           "জীবে দয়া নামে রুচি মানুষেতে নিষ্ঠা 

             ইহা ছাড়া আর যত সব ক্রিয়া ভ্রষ্টা।।"

এখানে শুধু গন্ডিবদ্ধ সম্প্রদায় ভূক্ত জাতিগোষ্ঠীর কথা উল্লেখ করা হয়নি। এখানে বিশ্বের সকল জীবের প্রতি সমজ্ঞানে দয়া, যার যার ইষ্ট দেবতার নাম বা হরিনামের প্রতি রুচি রাখা এবং বিশ্বের সকল মানুষ একে অপরের প্রতি সহযোগিতা, সহমর্মিতা পোষণ পূর্বক ভালবাসা, মানুষের প্রতি নিষ্ঠা রাখা ও প্রেমের কথা বলা হয়েছে।

                          জয় হরিবোল

কোন মন্তব্য নেই: