শনিবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৩

ইতিহাস বড়ই নির্মম

 আমি জানি আপনারা সবাই পড়বেন না! তবুও লেখা প্রবন্ধ থেকে তুলে ধরলাম-  যদি কেউ সঠিক ঐতিহাসিক তথ্য জানতে চান !  সময় হলে ---


ইতিহাস বড় নির্মম। এই প্রসঙ্গে কয়েকটি কথা জ্ঞাত করানো বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলে মনে করি। কারণ, শ্রীশ্রী হরিচাঁদ লীলাগীতি ছাপাতে গিয়ে কঠিন নিষেধাজ্ঞার দরুন নতুনরূপে বিয়োজন করে সংযোজন প্রাক্কালে যতটুকু বৈদিক ব্রাহ্মণ্য ধর্মের অবতার অলৌকিকবাদ যুক্ত হয়েছে তার সাথে তৎকালীন বাংলার ধর্মীয় রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে কূটনীতি জড়িত। এ কারণে, সেসব সত্য ইতিহাসের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্রাংশ আপনাদের নিকট তুলে ধরতে সচেষ্ট হলাম।  সে সব জ্ঞাতব্য বিষয়গুলি সমাজের গবেষকদের গবেষণায় একান্তভাবে স্থান পাওয়া উচিৎ ছিল বলে মনে করি। অপ্রিয় হলেও সত্য যে,-  ব্রাহ্মণ্যধর্মের আধুনিক নামকরণের হিন্দুধর্ম'রূপ ভৌতিক প্রেতাত্মা বাংলার মূল ভারতীয় নম সমাজ তথা বহুজন সমাজের মস্তিস্কস্থানীয় স্মরণীয় শিক্ষিত ব্যক্তিদের মস্তিষ্কে কতটা চেপে বসে ছিল এবং তার ভয়ানক পরিণতির ফলশ্রুতি কি দাঁড়িয়ে ছিল, তার সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরতে প্রয়াসী হলাম। অবশ্য, অন্ধ বৈদিকবাদে বিশ্বাসী মতুয়াগণ এবং কিয়দাংশ স্বশিক্ষিত ব্যক্তিগণ আমার আদ্যকৃত শ্রাদ্ধ কার্য সমাধান করতে ইতস্ততঃবোধ করবেন না! অন্য জনগোষ্ঠী তাদের অধ্যায়নজ্ঞাত ইতিহাসের বহির্ভূত হলেই তাদের তুলাদণ্ডের তুলনায় তুলোধোনা করতে ব্যস্ত থাকবেন!  তথাপিও সত্য তথ্য প্রকাশে ক্ষুদ্র কবি হিসাবে সামাজিক দায়বদ্ধতায় তুলে ধরছি ––

           উনবিংশ শতাব্দীর শেষ এবং বিংশ শতাব্দীর সূচনা লগ্ন হতে বাংলার মূল ভারতীয় সনাতন ধর্মের বিভিন্ন জাতি তথা নম'জাতির স্মরণীয় শিক্ষিত মানুষেরা ব্রাহ্মণ্য ধর্মের আধুনিক নামকরণ'কৃত হিন্দুধর্মে উন্নীত হওয়ার নামে স্বর্ধম পরিত্যাগ করে হিন্দুধর্মরূপ আগুনে আত্মাহুতি দেওয়ার পথ বেছে নিয়েছিলেন। 1905 সাল হতে ব্রাহ্মণ্যধর্মের বর্ণবাদীরা বাংলার ব্রিটিশ ভারতের আইন সভায় মনোনীত সদস্য (M L C) তালিকায় সংখ্যালঘু হওয়ার সংকেত অনুভব করেন। এতদিন তারা- ১৮৬১ সালের ভারত শাসন আইনের বলে আইন সভায় সমস্ত জাতির মনোনীত প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে আধিকারিক হয়ে ব্রিটিশ সরকারের সমস্ত সুবিধা ভোগ করে আসছিল। কিন্তু, ১৯০৫ সালে আগা খাঁন বুঝতে পারেন যে- ভারতীয় প্রত্যেক জনগোষ্ঠীদের অভাব অভিযোগ দাবিদাওয়া তুলে ধরার জায়গা একমাত্র রাজ্যের আইন সভা এবং সেখানে প্রতিনিধিত্ব করছে একমাত্র ব্রাহ্মণ্য ধর্মের হিন্দুরা। এই অপকৌশল বুঝতে পেরে আগা খাঁন ভ্রাতৃদ্বয়ের নেতৃত্বে মুসলিম সমাজ আইন সভায় মনোনীত সদস্যের সংখ্যা জনসংখ্যা অনুপাতে ব্রিটিশ সরকারের কাছে দাবি করে বসেন। এই সময় বাংলার মূল ভারতীয় বহুজন সমাজের মানুষদেরও চৈতন্যের বোধোদয় ঘটতে থাকে এবং ব্রিটিশ সরকারও বিভিন্ন আইন প্রণয়ন করে মূল ভারতীয় বহুজনদের বিভিন্ন ধরণের অধিকার দিতে থাকেন।  ফলে, হিন্দুরা আইন সভায় একক সংখ্যা গরিষ্ঠতা নিয়ে নীতি নির্ধারকের ভূমিকা গ্রহণ করে আসছিলেন, সহসা তারা সংখ্যালঘু হওয়ার সংকেত অনুভব করলেন। এজন্য, কি করে আইন সভায় মনোনীত প্রতিনিধি সদস্য এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে কতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা যায়- তার জন্য নতুন প্রণালীর ক্ষেপণাস্ত্র "আমরা সবাই হিন্দু" এই মৌখিক শ্লোগান প্রয়োগ করে বাংলার আকাশ বাতাস মুখরিত করে তুলে ছিলেন। যাতে, মুসলিম খ্রিস্টান বাদে সমস্ত মূল ভারতীয় বহুজন সমাজের সমস্ত জাতির প্রতিনিধি একমাত্র ব্রাহ্মণ্য ধর্মের হিন্দুগণ দখল করতে পারে- তারই নয়া ছলনার প্রণালী এই হিন্দুধর্মীয় হিন্দুত্বের শ্লোগান।  ফলতঃ, "আমরা সবাই হিন্দু" এই মৌখিক শ্লোগানে মোহিত হয়ে বাংলার মূল ভারতীয় সনাতন ধর্মের বিভিন্ন জাতের মানুষেরা অস্পৃশ্য শূদ্র পঁচাশূদ্র চণ্ডাল দাস অচ্ছুৎ দলিত ইত্যাদি হীনবাচক জাতির তকমা হতে নিষ্কৃতি লাভ করতে হিন্দুধর্মের ব্রাহ্মণ ক্ষত্রিয় কায়েস্থ বৈশ্য হওয়ার দাবি করে ব্রিটিশ সরকারের সেনসাস্ আধিকারিকের নিকট আবেদনপত্র দাখিল করতে লাগলেন।  তারা, শিক্ষা ক্ষেত্রে, সামাজিক ক্ষেত্রে, চাকুরীক্ষেত্রে কর্মক্ষেত্রে ব্রাহ্মণ্য ধর্মের হিন্দুদের নিকট থেকে কথায় কথায় শূদ্র পঁচাশূদ্র অস্পৃশ্য চন্ডাল চাঁড়াল দাস মুচি মেথর ইত্যাদি হীনবাচক গালাগালি শুনতে শুনতে তিতিবিরক্ত, তার থেকে মুক্তি পেতে ব্রাহ্মণ্য ধর্মীদের নতুন ফরমূলার "আমরা সবাই হিন্দু" এই লোভনীয় প্রস্তাবে হিন্দুধর্মে আকৃষ্ট হয়ে পড়েন। এই সমস্ত জাতিগুলির আধুনিক হিন্দুধর্মে আত্মাহুতি দেওয়ার আবেদনপত্র সেন্সাস দপ্তরে এতই বেশি সংখ্যক জমা পড়েছিল যে,- আবেদনপত্রের সংখ্যা অঙ্কের হিসাব না কষে দাঁড়িপাল্লার মাপকাঠিতে ওজন করা হয়েছিল। পরিমাপে দেড়মণ ওজন হয়েছিল {-1911, সেনসাস রিপোর্ট} !  বহুবিভক্ত বাংলার আদি জাতিগুলী উন্নত জাতে উঠতে - নমঃগণ- নমঃব্রাহ্মণ, পৌঁন্ড্রগণ-  ক্ষত্রিয়, রাজবংশীগণ ক্ষত্রিয়,  চাষীকৈবর্তগণ- কায়স্থ ইত্যাদি দাবী করেছিলেন। ব্রাহ্মণ্য ধর্মিদের 'আমরা সবাই হিন্দু' এবং পাশাপাশি আরও লোভনীয় প্রস্তাব (অফার) সর্বজাতি সমন্বয়ে হিন্দুদের সহিত পংক্তি ভোজনের সুব্যবস্থার অপকৌশলও অবলম্বন করে ছিলেন! (1920 /21 সাল)।

       মূল ভারতীয় সনাতন ধর্মের বহুজন সমাজের মানুষদের আর্য ব্রাহ্মণ্যধর্মে উন্নীত হওয়ার নামে  হিন্দুধর্ম রূপ আকর্ষণীয় পুরস্কার তাঁরা সাতশত বৎসরের মধ্যে লাভ করতে পারেন নাই।  যাঁরা, আদিশুর ও বল্লাল সেনের ব্রাহ্মণ্য ধর্মের হাজার অত্যাচার সহ্য করেও বনজঙ্গল বিল বাদাড়ে লুকায়ে নিজস্ব কৃষ্টি সংস্কৃতি ভাষা ঐতিহ্য ইতিহাস এবং ধর্ম ফল্গু ধারার মত বহন করে চলে আসছে, তাঁদেরই স্মরণীয় শিক্ষিত ব্যক্তিগণ 1905 সাল হতে "আমরা সবাই হিন্দু" এই মৌখিক শ্লোগানে আকৃষ্ট হয়ে হিন্দুত্বের মোহে ব্রাহ্মণ্যধর্মে ডুবে নম'জাতির পরিবর্তে "নমঃব্রাহ্মণ" নামে উন্নত জাতে উঠতে একপ্রকার পাগল হয়ে উঠলেন। এমনকি, গুরুচাঁদ ঠাকুরের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও গুরুচাঁদ ঠাকুরের হাতে গড়া সেই সব শিক্ষিত ব্যক্তিবর্গ হিন্দু হওয়ার আবেদন পত্রে নম'দের আচার আচরণ ব্রাহ্মণের মত দাবি করে ১০টি বিধি সংযুক্ত করে ব্রিটিশ সেনসাস বিভাগে আবেদনপত্রে জমা দিয়েছিলেন। আমাদের সমাজের অধিকাংশ স্মরণীয় শিক্ষিত ব্যক্তিগণ হয়ে উঠলেন এই আধুনিক হিন্দুধর্মের কট্টর সমর্থক! মহাত্মা শশিবাবুও ব্যতিক্রমী ছিলেন না! তাঁকে সংযত করতে স্বয়ং গুরুচাঁদ ঠাকুরকেও আসরে নামতে বাধ্য করা হয়েছিল!  কিন্তু, জাতির জনক গুরুচাঁদ ঠাকুর কতজনকে নিরস্ত করবেন? যেখানে সমস্ত  শিক্ষিত সমাজ, গণ্যমান্য মাতুব্বর গোছের বাবুরা হিন্দুত্বের কট্টর সমর্থক হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেছিলেন ? বলে রাখা ভালো শ্রীধাম ওড়াকান্দি ঠাকুর বাড়িতে ব্রাহ্মণ্য ধর্মের দেবদেবতা পূজা এবং বৈদিক সংস্কৃতির অনুপ্রবেশ হিন্দুধর্মে আত্মাহুতি দেওয়ার পরিণাম।

      তদানীন্তন বেশকিছু আক্ষরিক শিক্ষায় শিক্ষিত, স্বশিক্ষিত গণ্যমান্য মাতুব্বর গোছের বাবু মানুষের ঐতিহাসিক ভুলে- সেই যে বাংলার মূল ভারতীয় সনাতন ধর্মের জাতিগুলী ব্রাহ্মণ্য তন্ত্রের ষড়যন্ত্রে আধুনিক হিন্দুধর্মের হিন্দুত্বে ডুবে ব্রাহ্মণ্য ধর্মের খোয়াড়ে ঢুকে গেল- আর, সেই মহাশৃংখলের বন্ধন খুলে মুক্তির পথ চিরতরে এই মূল ভারতীয় সমাজ হারিয়ে ফেলে! ব্রাহ্মণ্য ধর্মের জাতিবিদ্বেষ বর্ণবাদের শাসন শোষণ নিপীড়ন নির্যাতন অত্যাচার সবাই জ্ঞাত, কিন্তু, হিন্দুধর্মের নামে লোভনীয় প্রস্তাবে জাতে ওঠার পরিণাম যে আরো মারাত্মক ভয়ানক তা, সেসব শিক্ষিত মস্তিষ্ক স্থানীয় ব্যক্তিদের ভাবনায় আসেনি। ব্রাহ্মণ্য ধর্মের ঘাতকরা মূল ভারতীয়দের সরাসরি আঘাত হানতো, আর, হিন্দুত্বের ঘাতকরা পরমবান্ধব সেজে আদর করে কোলে তুলে হত্যা করার সুব্যবস্থা পাকাপাকিভাবে বন্দোবস্ত করে রেখেছে! এই প্রণালীতে সমস্ত মূল ভারতীয় বহুজন সমাজের বিভিন্ন জাতিগুলি সংরক্ষণের ব্যবস্থায় পাকাপাকি ভাবে গোলাম পরিণত হচ্ছে।  সেই থেকে মূল ভারতীয় সনাতন ধর্মের সর্বস্তরের মানুষেরা হিন্দুত্বের মারাত্মক অন্ধবিশ্বাসে ব্রাহ্মণ্যধর্মে এতই আত্মবিস্মৃত এবং আত্মনিমজ্জিত যে- কাউকে যদি প্রশ্ন করা হয়-  তুমি কি হিন্দু,  তিনি উল্টা প্রশ্ন করে বসেন- তা'হলে আমি কি মুসলমান-? বর্তমানে হিন্দু ধর্ম বলে যাকে মনেপ্রাণে গ্রহণ করে চলেছি তা মূলতঃ হিন্দুধর্ম নয় ব্রাহ্মণ্যধর্ম ! হিন্দুধর্মের বস্তায় ব্রাহ্মণ্য ধর্মের চাউল! 


               কঠিন সত্য এই যে- সেই হিন্দুত্বের প্রভায় প্রভাবিত হয়ে শ্রীশ্রী হরি লীলামৃত গ্রন্থও নতুনরূপে পুরাণ সাহিত্যের আলোকে আলোকিত হয়ে উঠেছিল তা, আর বলার অপেক্ষা রাখেনা। 1912 সালে হরিবর সরকার মহাশয় কতৃক শ্রীমৎ তারক চন্দ্রের লিখিত বৈদিকবাদ বিরোধী শ্রীশ্রী হরিচাঁদ ঠাকুরের জীবন চরিত "শ্রীশ্রী হরিচাঁদ লীলাগীতি'র" সংস্কার বিন্যাস বিয়োজনকৃত সংযোজন প্রাক্কালে বৈদিক ব্রাহ্মণ্যতন্ত্রের পুরাণ সাহিত্যের অবতারবাদ অবতারণায় শ্রীশ্রী হরি লীলামৃত গ্রন্থ ব্রাহ্মণ্য তন্ত্রের পুরাণ সাহিত্যের আদলে রূপান্তরিত হয়ে উঠল !  দীর্ঘ তিন বৎসর কঠোর পরিশ্রম করে হরিবর সরকার মহাশয় শ্রীমৎ দশরথ বিশ্বাস মহাশয়ের সহযোগিতায় 1915 সালের মাঝামাঝি নিষ্ঠার সাথে সংস্কার কার্য সমাধান করেছিলেন! লীলামৃত গ্রন্থ ব্রাহ্মণ্য ধর্মের পুরাণ সাহিত্যের প্রায় সমকক্ষ হয়ে উঠল। এর পেছনের মৌলিক কারণ যে,- নম'জাতির স্মরণীয় শিক্ষিত সমাজ তাদের পূর্বের সনাতনধর্ম এবং শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুরের প্রদত্ত সনাতন ধারার সূক্ষ্ম তত্ত্বে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ব মানবতাবাদী মতুয়া ধর্ম চিরতরে বিসর্জন দিয়ে হিন্দুধর্মে আত্মাহুতি দেওয়ার ফলশ্রুতি, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এই হিন্দুত্বের খোলা দরজা দিয়ে মূল ভারতীয় বহুজন সমাজ ও নম'জাতির মস্তিস্কস্থানীয় স্মরণীয় শিক্ষিত ব্যক্তিবর্গ জাতির স্বতন্ত্র সংস্কৃতি, ভাষা, ঐতিহ্য, ইতিহাস, ধর্মীয় পরিচয় এবং জাতির পরিচয় (আইডেন্টিটি) চিরতরে  হারিয়ে ফেলে ! সেই হিন্দুত্বের প্রভাবে প্রভাবিত হয়ে ও স্মরণীয় শিক্ষিত ব্যক্তিবর্গের ঐকান্তিক ইচ্ছায় এবং শাস্ত্র প্রচার সমিতি নির্দেশ অনুসারে শ্রী হরিবর সরকার মহাশয় কতৃক শ্রীশ্রী হরি লীলামৃত মহা গ্রন্থখানি স্ববিরোধী তত্ত্ব তথ্যে হিন্দু মতুয়া মতবাদ প্রতিষ্ঠিত হয়ে উঠল। কত গোঁজামিল উপসর্গ লক্ষনীয়- বৈশ্য দস্যুর উপাখ্যান শিরোনামের অধ্যায়টি ব্রাহ্মণ দস্যুর বৃত্তান্ত থাকলেও শিরোনামে বৈশ্য দস্যুর উপাখ্যান বলে নামাঙ্কিত হল! হিন্দুত্বে ডুবে যাওয়ার প্রবণতায় পরবর্তীকালের শ্রীশ্রী হরি-গুরুচাঁদ চরিত্র সুধাও অলৌকিক অবতারতত্ত্বে প্রবলভাবে প্রকট হয়ে উঠল!  শ্রীশ্রী গুরুচাঁদ মাহাত্ম্য এবং শ্রীশ্রী গুরুচাঁদ চরিত গ্রন্থও হিন্দুত্বের অবতারতত্ত্ব প্রতিষ্ঠায় একেবারে বঞ্চিত করে নাই ! লক্ষ্য করা যায়- এর কিছু পরে পরে শ্রীশ্রী হরি লীলামৃত গ্রন্থ পুনঃ মুদ্রণ প্রাক্কালে রাঢ়দেশীয় রামদাসও মৈথিলী ব্রাহ্মণে পরিণত হল!  রাঢ়দেশ আর মিথিলা যে এক নয়- এই কাণ্ডজ্ঞানটুকুও হারিয়ে ফেলে বসে আছে ! এসব অশুদ্ধ বিকৃত মস্তিষ্কপ্রসূত অনৈতিহাসিক তথ্য সংস্কারবাদী পণ্ডিত লোককবি শ্রীমৎ তারকচন্দ্র সরকার মহাশয়ের নামে চালানো হয়!

           জ্ঞাতব্য বিষয় হল-  নিরক্ষর সমাজ ভুল করলেও তার দ্বারা সমাজের বড় কোনো ক্ষতিসাধন সম্ভবতঃ হয় না।  কিন্তু, পরিতাপের বিষয় এই যে - আক্ষরিক জ্ঞানসমৃদ্ধে শিক্ষিত সমাজ ভুল করলে তার মাশুল যুগ যুগ ধরে সমগ্র জাতিকেই গুনতে হয়। নম'সমাজের মতুয়া আদর্শে সুশিক্ষিত স্মরণীয় ব্যক্তিবর্গ নিজস্ব সনাতন ধারার ঐতিহ্য, শ্রীশ্রী হরিচাঁদ ঠাকুরের মানবতাবাদী মতুয়া মতাদর্শ চিরতরে বিসর্জন দিয়া ব্রাহ্মণ্য ধর্মের উন্নত জাতে উন্নীত হওয়ার নামে নিজেদের জাতির পরিচয়, ধর্মীয় পরিচয় (আইডেন্টিটি) খোয়ায়ে আগত প্রজন্মকে মাঝিহীন তরীর ন্যায় উত্তাল সমুদ্রে ডুবায়ে মারিবার পথ প্রশস্ত করে রেখে গেছেন। হয়তোবা, একশ্রেণীর প্রিয় আমাত্ব-বর্গ এই অপ্রিয় সত্যকথা প্রকাশে সঠিক দুঃসাহসিক পদক্ষেপ না বলে আমার মুন্ডপাত করতে পিছপা হবেন না!  

       শিক্ষিত সমাজের কিয়দাংশ- যাদের নিরক্ষর অর্ধশিক্ষিত গামছা পরা সাধু গোসাই পাগল মনুবাদী বলিয়া স্বল্পবিস্তর তিরস্কার করে থাকেন- তাঁরা, নিজের জাতির পরিচয় ধর্মীয় পরিচয় বোঝার চেষ্টা করে ছিলেন, মতুয়াধর্ম ও নম'সমাজের উন্নতিতে নীরবে নিভৃতে কাজ করে ছিলেন এবং বর্তমানেও চলেছেন। তাঁরা সরল সহজ ভক্তি বিশ্বাসে শিক্ষিত মানুষদের কথা মেনে নেন। কিন্তু, শিক্ষিত সমাজ পূর্বে এবং বর্তমানেও অর্ধহিন্দু তালিকায় নাম নথিভুক্ত করে হিন্দুধর্মের দলিত দাস শূদ্র অস্পৃশ্য পতিত হয়েই অধিকার ফলাতে ব্যস্ত আছেন।  স্বতন্ত্র ধর্ম, স্বতন্ত্র পরিচয়, স্বাধীনতা, আত্মমর্যাদা, আত্মসম্মান, ন্যায্য অধিকারবোধ হারিয়ে ফেলছে। আর, তার মাশুল গুনতে গুনতে সমাজ আর শিরদাঁড়া সোজা করে দাঁড়ানোর শক্তিসাহস কোনোদিন দেখাতে পারে নাই। সরল সহজ সাধারণ মতুয়া নম'সমাজের জাতির পরিচয়, ধর্মীয় পরিচয়, ভাষা, কৃষ্টি, সংস্কৃতি, ইতিহাস বিস্মৃতির অতলে হারানোর দায়ভার গণ্যমান্য মাতুব্বর শিক্ষিত সমাজকেই বহন করতে হবে। এবং, বর্তমানে যেসব শিক্ষিত স্বশিক্ষিত মতুয়াচার্য সংঘাধিপতি বিভিন্ন নামধারী ব্যক্তিবর্গ শ্রীমৎ তারক চন্দ্রের যুগান্তকারী সৃষ্টির পদক্ষেপে বৈদিকবাদ ব্রাহ্মণ্যবাদ বৈষ্ণববাদ বিরোধী শ্রীশ্রী হরিচাঁদ ঠাকুরের বিশ্ব মানবতাবাদী সুক্ষ্ম সনাতনে আশ্রিত স্বাধীন স্বতন্ত্র মতুয়া ধর্মকে হিন্দুধর্মের শাখা, শুদ্ধবৈষ্ণব মতবাদ বলে কালিমালিপ্ত করে চলেছেন - আগত শিক্ষিত সমাজ তাদের ক্ষমা করলে মূল ভারতীয় মানুষদের সনাতন ধর্ম  এবং মতুয়া ধর্মের ইতিহাসের সলিল সমাধি ঘটবে।

মঙ্গলবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৩

বিকৃত ইতিহাসে নাম নেই বাংলার প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দিন এর নাম।

 ইতিহাস বিকৃত হয়েছে? তাহলে নিচে দেয়া ছবিটা দেখুন l মাত্র ৮০ বছর আগে আমাদের অবিভক্ত বাংলার নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ছিলেন এই ব্যক্তি| কেউ চেনেন?


যারা মুঘলদের ইতিহাস বাদ যাচ্ছে বলে কান্নাকাটি করছেন, তাদের জিজ্ঞাসা করছি, অবিভক্ত বাংলার তিনজন প্রধানমন্ত্রীর নাম জানেন? শুনে ৯৯% লোক আকাশ থেকে পড়ছেন l প্রধানমন্ত্রী? বাংলায়? কবে ছিল? বললাম, ১৯৩৭ থেকে ১৯৪৭ l পরের প্রশ্ন, তখন তো দেশ পরাধীন ছিল? ওঁদের বলতে হল, 'নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী l যেমন দেশবন্ধু, নেতাজীরা নির্বাচিত মেয়র ছিলেন কলকাতার বা সেই জঙ্গিপুর পুরসভা কং জং মিং( ভানুবন্দোপাধ্যায়) তেমনি l' তিন প্রধানমন্ত্রী নাম বললাম l দুজনের নাম তাও শুনেছে l কিন্তু ১৯৪২ এ মানে আজ থেকে ৮০ বছর আগে, আমাদের রাজ্যে খাজা নাজিমুদ্দিন নামে একজন প্রধানমন্ত্রী ছিল, তার নাম কেউ শোনেন নি আর এটাই নুরুল হাসানদের ইতিহাস 


কিন্তু যারা 'বাবার হল আবার জ্বর: শোনাতে এতো ব্যাস্ত, তারা এই তিন প্রধানমন্ত্রীর ইতিহাস কেন পুরো সিলেবাসের বাইরে রাখলেন? কারণ এখনো অনেকের বাবা, ঠাকুরদা বেঁচে আছেন, যারা ওই অত্যাচারের দিন ভোলেন নি l ধরা যাক খাজা l ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ৩০ লক্ষ বাঙালীকে না খাইয়ে হত্যা করেছে এই খাজা নাজিমুদ্দিন l না সত্যজিতের সিনেমা( অশনি সংকেত) না অমর্ত্য সেনের তত্ব, কোথাও খাজার নাম উল্লেখ নেই l অমর্ত্য সেন দুর্ভিক্ষের দায় পুরোটাই দিয়েছেন চার্চিলকে, কিন্তু  চার্চিলের এজেন্ট তথা বাংলার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বাদ? আসলে, এই ইতিহাস জানলে যে বাংলার সিলেবাস থেকে বাদ দিতে হবে 'এক বৃন্তে দুটি কুসুম'কবিতা l বাচ্চারা প্রশ্ন করবে নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বোস থাকতে কেন হক বা খাজাকে প্রধানমন্ত্রী করা হল? কারা ভোট দিল খাজাদের ? কেন পরাধীন অবিভক্ত বাংলায় একবারও কংগ্রেস জিততে পারেননি? স্বাধীনতার পরে যদি বাংলাদেশ অবিভক্ত হয়ে থাকতো , তবে কংগ্রেস একবারও ক্ষমতায় আসতে পারতো? বিধান রায়, জ্যোতি বসু কিংবা মমতা ব্যানার্জী এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী আদৌ হতে পারতেন? বঙ্গভঙ্গ না হলে কি দিল্লিতে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের পাশে, বাঙালী মূর্খদেরও  ক্যাম্প বানাতে হত কেন্দ্রকে? এই প্রশ্নের যাতে সম্মুখীন না হতে হয়, সেই জন্যই কি ইতিহাস থেকে বাদ এই দশ বছরের কলঙ্কিত অধ্যায়?


                    - ক্রমশঃ


কৃতজ্ঞতাঃ সুবীর গুহ

সোমবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৩

ব্রাহ্মন্যবাদ বনাম ইংরেজ

 মাননীয় দাদা ভাই ও মাননীয়া দিদি ভাইয়েরা নমস্কার ,, 

        হিন্দু রাষ্ট্রতন্ত্রের ছলনার নামে ব্রাহ্মন্যবাদী রাষ্ট্রতন্ত্রের পুনরাবৃত্তি বা পুন:উত্থান না হয়ে যায় সেই বিষয়ে আপনাদের চিন্তা ভাবনার জন্য এখানে বেশ কিছু তথ্যাদি প্রভৃতিকে  তুলে ধরেছি ,, 

        আপনাদের বিচার বিশ্লেষণের ফলাফলের হিসাবে দিশা নির্দেশনার এবং সেই হিসাবে আপনাদের সকলের এগিয়ে চলার দায় দায়িত্বতা ও আপনাদের সকলের বলে মনে করি ,,

         আমাদের এই  ভারতবর্ষের জন্য জাতপাতের উঁচু নীচুর ছুঁয়া ছুঁতের অস্পৃশ্যতার কুসংস্কারাচ্ছন্ন ভেদাভেদের বিষাক্ততার বিরুদ্ধে আমরা চাই ,, 

           জাত পাতের ভেদাভেদের বিষাক্ততা হীন , আমাদের  অতীতের সেই চিরন্তনী চিরস্মরণীয় ভ্রাতৃত্ব্যবোধের সনাতনী সমাজের সেই সনাতনীত্বতার  রাষ্ট্রতন্ত্রতা,,, 


           সনাতনীত্বতার ভারতবর্ষের বুকে হিংস্র আক্রমণ কারি শরীয়তী মৌলবাদী , ব্রাহ্মন্যবাদী , এবং আক্রমন কারি ইংরেজদের  সময়ে জাতপাতের ছোট বড়োর উঁচু নীচুর অস্পৃশ্যতার ভেদাভেদের বাঁধন হীন সনাতনীত্বতার অবস্থার কিছু স্থিতি তুলে ধরছি ,,,,

          আমাদের মহান সনাতনীত্বতার ভারতবর্ষের বুকে হিংস্র মুসলিম আক্রান্তা এবং দুষ্ট পাপিষ্ঠ ব্রাহ্মন্যবাদী চক্রান্তের  বিষাক্ততায় , 

         সনাতনীত্বাকেই শেষ করে দিয়ে  জাতপাতের অস্পৃশ্যতার সৃষ্টি কারি অতি অহংকারী ব্রাহ্মন্যবাদী মানুষের মিলিত চক্রান্তের ফলাফলে ইসলামী সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে 1000 বছরের গোলামীর বা পরাধীন ভারতবর্ষের বুকে মুসলিম এবং ব্রাহ্মন্যবাদী মানুষের মিলিত শাসন কালের কিছু পরিচয় ,,,


(1) মিরকাসিম 712 ইসবি , (2)মেহেমুদ গজনবী, (3) মহম্মদ ঘোরী, (4) চেঙ্গিস খাঁন, (5) কুতুবুদ্দিন আইবক, (6) গোলাম বংশ , (7) তুঘলক বংশ , (8) খিলজী বংশ, (9) লোদী বংশ (10) মুঘল বংশ ,,,,,  

( 11)  এবং ব্যাবসার নামে এদেশে আসা বৃটিশ রাজ্যত্ব্যের শুরু,  (British) রাজ্যত্ব কাল প্রায় 150 বৎসরের মতো ছিল ,,, 

       ইংরেজরাও আমাদের শত্রুই ছিল ,তারা ও আমাদের অনেক অনেক ক্ষয়ক্ষতি করে অনেক অনেক ধন সম্পত্তি প্রত্নতাত্ত্বিক অনেক অনেক কিছুই লুটপাট করে নিয়ে গিয়েছে ,, 

          কিন্তু  তারা যে তাদের রাজত্ব্য কালে ভারত বর্ষের বুকে আমাদের সনাতনী সমাজের মানুষের জন্য সামান্য কিছু কিছু কাজ হলে ও আগেকার তুলনায় সেগুলি ভালো , করে গিয়েছে এতে কোন ও ভুল হতে পারে না ,,

           মানবতার প্রতি যদি শত্রুর দ্বারা ও কখনও কোনও ভালো কাজ হয়ে থাকে, তাহলে সেটাকে উল্লেখ করে তুলে ধরা ও মানবতার প্রতি একটি বিশেষ বড়ো কাজ বলে মনে করি ,

         যেমন ভগবানের পূজার নামে ভগবান কে খুশী করার নামে , মন্দিরে মন্দিরে পূজারী  ব্রাহ্মন্যবাদী মানুষের কাম বাসনার ভোগের জন্য গরীব মানুষের সুন্দরী মেয়েদের দুষ্ট পাপিষ্ঠ চক্রের দ্বারা নিয়ে দেবদাসীদের নামে মন্দিরের ঘরেই যত দিন পর্যন্ত তাদের রুপ যৌবনের সুন্দরতা থাকে , 

         দেবদাসী প্রথার নামে তাদের সেই যৌবনাদীপ্ততা সময় কাল পর্যন্ত রেখে বংশোদ্ভূতের বাবা ছেলের পরম্পরায় তাদেরকে ভোগের পরে ভোগ করে চলা , তার পরে  বৃদ্ধা বয়সে হাতে ভিক্ষার বাটি দিয়ে পথে বের করে দেওয়া, 

         মনুসংহিতার বা মনুস্মৃতির নামে হাজার হাজার বৎসরের পর বৎসর ধরে হয়ে থাকা এই দুষ্ট পাপিষ্ঠ ঘৃনিত প্রথার বিরুদ্ধে ইংরেজদের সময়েই আইনের নিয়ম কানুন করে এগুলি কে বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিলো , 

             দুষ্ট পাপিষ্ঠ ব্রাহ্মন্যবাদী মানুষের চক্রান্তের এই রকমেরই আরও একটি দুষ্ট পাপিষ্ঠ চক্রিয় প্রথা দক্ষিণ ভারতবর্ষের কিছু কিছু জায়গায় প্রচলিত ছিল , 

        হিংস্র মৌলবাদী মুসলিম ধর্মাবলম্বী এবং ব্রাহ্মন্যবাদী সমাজের মহিলাদের ছাড়া বা ভিন্ন সনাতনী  সমাজেরই  অন্য কোনও যুবতী মহিলা দের ক্ষেত্রে বুকের উপরে কাপড় দিয়ে স্তন ঢেকে রাখা প্রচন্ড ভাবে বড়ো দন্ডনীয় অপরাধ হিসাবে গন্য করা হোতো , এবং তাদের পরিবারের লোকজনদের প্রচন্ড ভাবে হেনেস্তা করে তাদেরকে জরিমানা হিসাবে স্তন কর দিতে হোতো ,,,

           এমনকি ভেদাভেদের অস্পৃশ্যতার বা ছোট বড়োর উঁচু নীচুর নামে আমাদের সনাতনী সম্প্রদায়ের অনেক সুন্দরী সুন্দরী মহিলাদেরই প্রচন্ড ভাবে যৌন নির্যাতনের শিকার হতে হোতো ,,

         উক্ত সমস্ত অত্যাচার গুলি ও ইংরেজরাই আইন প্রনয়ন করে শক্ত শাসন প্রশাসনের দ্বারাই বন্ধ করে ছিল ,, 

          নীচে এই রকমের ই আরও কিছু তথ্যাদি তুলে ধরছি , যার দ্বারা বুঝতে সুবিধা হবে ,, 

       আমরা কেন বলছি ,, হিন্দু রাষ্ট্রের নামে শেষ পর্যন্ত সেটা ব্রাহ্মন্যবাদী মানুষের শোষনের তন্ত্রে পরিনত না হতে পারে ,, 

         সেই জন্যই আমরা সকলে চাই , সনাতনীত্বতার রাষ্ট্রতন্ত্র , যে সনাতনীত্বতায় মানুষে মানুষে ছোট বড়োর কোন ও ভেদাভেদ নেই , জাতপাতের উঁচু নীচুর ছুঁয়া ছুঁতের অস্পৃশ্যতার কুসংস্কারাচ্ছন্নতা নেই ,, 

           মানুষে মানুষে সকলে এক সমান , আমরা সকলে চিরন্তনী চিরস্মরণীয় সেই সনাতনীত্বতার রাষ্ট্রতন্ত্রতা চাই ,, ব্রাহ্মন্যবাদী মানুষের শোষনের তন্ত্রের বিরুদ্ধে সেই জন্যই আমাদের মহা অভিযান ,,, 

        * 1795 সালে.. অধিনিয়ম 11 দ্বারা " শূদ্র " দের সম্পত্তি রাখার আইন তৈরি করে। 

        * 1773 সালে.. ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী রেগুলেটিং অ্যাক্ট পাস করে , 

         ন্যায় এবং সমানতা মূলক এই আইনের অনৈতিক সাহায্যে  এবং  অনান্য কিছু দুষ্ট প্রকৃতির মানুষের সহায়তায়  1775 সালে ,  এই বাংলার সামন্ত ব্রাহ্মণ সে নিজেকে বার বার দাবী করা সত্ত্বেও শুধুমাত্র ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর চেষ্টা করার জন্য মহারাজা নন্দকুমারের ফাঁসি হয় ,,

          এই অন্যায় অবিচারের ফাঁসির ফলে পরবর্তী সময়ে অবশ্য ব্রাহ্মন্যবাদী মানুষের মনে ইংরেজদের শাষন প্রশাসনের প্রতি কিছু টা ভয় ধরে গিয়ে , গরীব মানুষের প্রতি তাদের অন্যায় অত্যাচারের মাত্রা কিছুটা কমে গিয়ে সেই ক্ষোভ ইংরেজ শাসনের প্রতি গিয়ে দাঁড়ায় ,,

       * 1804 সাল অধিনিয়ম 3 দ্বারা ইংরেজরাই কন্যা ভ্রুন হত্যা বন্ধ করে ,, তা না হলে কন্যা সন্তান জন্ম হলে তালুতে আফিম লাগিয়ে মায়ের স্থনে ধুতরা রস মাখিয়ে  এবং গর্ত বানিয়ে তাহাতে চুবিয়ে সেই সমস্ত সদ্য জাত কন্যা সন্তান কে মেরে ফেলার বিধান ও ব্রাহ্মন্যবাদী মানুষেরাই করে ছিল,, 

         * 1813 সালে ইংরেজ আইন তৈরি করে সকলের জন্য লেখাপড়ার অধিকার দেয় ,,

         * 1813 সাল ইংরেজরাই এদেশের মাটিতে প্রথম মানুষ ক্রয় বিক্রয়ের দাস প্রথা বন্ধের আইন তৈরি করে ,

        * 1817 সালে এই দেশের বুকে সমান নাগরিক আইন তৈরি করে ইংরেজরাই , 

        এর আগে সম পরিমাণ দোষের জন্য ও শুধুমাত্র ব্রাহ্মন্য সমাজের মানুষ হবার জন্য ই  ব্রাহ্মণ সমাজের মানুষের কোনো সাজা হতো না,  

         শুধুমাত্র অস্পৃশ্যতার নামে শূদ্রের প্রতি কঠোর সাজার প্রাবধান বা বিধান ছিল ,,  

        * 1819 সালে অধিনিয়ম 7 এর দ্বারা অস্পৃশ্যতাবাদের নামে  শূদ্রদের নব বধু স্ত্রী দের শুদ্ধিকরণ ব্যবস্থা বন্ধ করে ইংরেজরাই ,

         এর আগে ব্রাহ্মন্যবাদী সমাজের মানুষের ভোগের পরে ভোগের জন্য অশৌচ তাকে শৌচ বা শুদ্ধতার নামে শূদ্র মানুষের নব বিবাহিতা নববধূকে বিয়ের পর আগে স্বামীর ঘরে না গিয়ে ,

           প্রথমে পূজারী ব্রাহ্মণের ঘরে গিয়ে তিন দিন তিন রাত থেকে সারাটা গ্রামের ব্রাহ্মন্যবাদী মানুষের চাহিদার খোরাকি হয়ে তাদের সুন্দর দেহের শারীরিক সেবা দিতে হতো ,,

         * 1830 সালে ভগবানের দালাল ব্রাহ্মণ্য বাদী মানুষের দ্বারা  ভগবানের রুষ্ট হবার বাহানায় , ভগবানের তুষ্টি করার নামে , 

        অসহায় অস্পৃতার দূস্থ্য: গরীব শূদ্রতার অপরাধে , তাদের ছোট বড়ো ছেলে মেয়েদের ধরে নিয়ে অন্যায় নরবলি প্রথা বন্ধের আইন ও ইংরেজরাই প্রথম তৈরি করেছিল ,, 

          দেব দেবীদের প্রসন্ন্য করার নামে ছল চাতুরী তে পরিপূর্ণ ব্রাহ্মণ্য সমাজের মানুষের দ্বারা অনেক সময়েই শূদ্র স্ত্রী ও পুরুষদের এমনকি তাদের ছোট ছোট ছেলে মেয়েদের ও মন্দিরের পাথরে মাথা ঠুকে ঠুকে হত্যা করতো ,, 

       * 1833 সালে অধিনিয়ম 87 দ্বারা সরকারি সেবায় বর্ণ বৈষম্য বন্ধ করা হয় , 

       অর্থাৎ শারীরিক যোগ্যতাই  মাপ দন্ড করা হয়ে থাকে ,  

        সরকারি কাজে সেবার অধিকার কোম্পানীর আদেশে জন্ম,স্থান,ধর্ম, রং জাতির হিসাবে কোনো পদ থেকে বঞ্চিত করা যাবে না , ইংরেজরাই চালু করে,,

       * 1834 সালে প্রথম ভারতীয় বিধি আয়োগ গঠন করে ইংরেজরা , 

        এই আইনের ব্যবস্থাপনা  হলো.. জাতি,বর্ণ, ধর্ম ক্ষেত্রের উপরে এই আইন ব্যবস্থার উদ্দেশ্যতা থাকবে,,

        * 1835 সালে অস্পৃশ্যতার নামে শূদ্র সমাজের মানুষের প্রথম পুত্র সন্তান কে গঙ্গা'য় দান করা বন্ধ করে ইংরেজরাই ,,

        * 1835 সালে ইংরেজরাই নিজেদের মতো করে শিক্ষা নীতি ও রাজ্যের অধীন বিষয়ক আইন প্রনয়নের নীতি তৈরি করে এবং উচ্চশিক্ষাকে ইংরেজি মাধ্যম করে 

         * 1835 সালে আইন তৈরি করে ইংরেজরাই ধর্মের নামে  অস্পৃশ্য শূদ্র করে রাখা সমাজের মানুষদেরকে চেয়ারে বসার অধিকার দেয় ,,

       * 1829 সালে ডিসেম্বর নিয়ম 17 দ্বারা রাজা রামমোহন রায়ের জন আন্দোলনের ফলে অসহায় বিধবা মহিলাদের পুড়িয়ে মারার ব্রাহ্মন্যবাদী মানুষের অবৈধ অমানুষিক প্রথা অর্থাৎ সতীদাহ প্রথা বন্ধ করে ইংরেজরাই ,,

       ভগবানের দালাল স্বর্গ নরকের ঠেকেদার দুষ্ট পাপিষ্ঠ ব্রাহ্মণ্যবাদী সমাজের মানুষের কথায় , 

          শূদ্ররা তাদের নিজেদের সুন্দরী সুন্দরী মেয়েদেরকে নিজেরাই মন্দিরে সেবার জন্য দান করে যেতো ,,

          মন্দিরের পূজারীরা সেই সুন্দরী সুন্দরী বালিকা/নাবালিকাদের শারীরিক শোষণ করে যে বাচ্চার জন্ম হতো , 

      তাদের কে রাস্তায় ফেলে দিয়ে হরির জন বা হরিজন নাম দিয়ে ব্রাহ্মণ পুরোহিতরা নিজেদের পাপ ঢেকে রাখার চেষ্টা করতো,,

       * 1921 সালে জাতীবাদ জনগণনা সংখ্যা অনুযায়ী শুধু মাদ্রাজে 4 কোটি 23 লক্ষ মানুষের মধ্যে প্রায় 2 লক্ষের মতো দেবদাসী মহিলারা সেখানকার বিভিন্ন মন্দিরে ছিল ,,

         এই প্রথার কিছু কিছু প্রমাণ  এখনো দক্ষিণ ভারতে রয়েছে বললেও ভুল হয় না ,,

         * 1837 সালে অধিনিয়ম দ্বারা "ঠগ" প্রথা , মানে ভগবানের প্রয়োজনের নামে ব্রাহ্মন্যবাদী সমাজের মানুষের দ্বারা যার কাছ থেকে যা কিছু হোক জোর করে ছিনিয়ে নেওয়ার প্রথা বন্ধ করে ইংরেজরাই ,, 

         * 1849 সালে কলকাতার বুকে সর্ব প্রথম বালিকা বিদ্যালয় একজন ইংরেজ জে ই ডি বেটন , প্রতিষ্ঠা করেন,

       * 1854 সালে ইংরেজরা  কলকাতা, মাদ্রাজ, বম্বে , তিনটি বিশ্ব বিদ্যালয় তৈরী করে ,,

         * 1902 সালে বিশ্ববিদ্যালয় আয়োগ নিজুক্ত করেন ইংরেজরাই ,,

        * 1860 সালে 6 অক্টোবর ইংরেজ  শাসনের কালে ইন্ডিয়ান প্যানেল কোড  তৈরি করা হয় ,

            ইংরেজরাই নতুন শাষনের তন্ত্রে শূদ্র নামের অস্পৃশ্যতার শিকল কেটে  ভারতের জাতি, বর্ণ, ধর্ম নির্বিশেষে সকলের জন্য একই ক্রিমিনাল-ল কোর্টের আইন  ব্যাবস্থ্যাপনা চালু করেন ,,

        * 1863 সালে ইংরেজ আইন তৈরি করে পশু বলি প্রথা পূজা বন্ধের নির্দেশ দেয় ,, 

          এবং বিভিন্ন ধনী মানী ব্রাহ্মন্যবাদী মানুষের বিলাস বহুল ভবন এবং বাড়ি বানানোর সময়ে সেই বাড়ির বেশী দিনের  স্থায়ীত্বতা ও সুরক্ষিত থাকার জন্য   "শুদ্র সমাজের ছোট বড়ো ছেলে মেয়েদের বেছে-বেছে আহুতি দিতো ,,

         * 1866 সালে ইংরেজ শাসন প্রশাসন বহু বিবাহ প্রথা বন্ধ করার জন্য বিশেষ একটি কমিটি তৈরি করে ,

       * 1871 সালে ইংরেজ ভারতের জাতি বাদ জন গননা শুরু করে * 1941 সালে শেষ করে।

        * 1872 সালে " সিভিল ম্যারেজ অ্যাক্ট " দ্বারা 14 বছরের কম বয়সী মেয়েদের এবং 18 বছরের কম বয়সী ছেলেদের.. বাল্যবিবাহ বন্ধ করে দেয় ইংরেজরা , 

          ইংরেজরাই প্রথম  " মাহার এবং চামার " রেজিমেন্ট তৈরী করে এই জাতি সূচক সমাজের মানুষদের কে সেনা বাহিনীতে চাকরি দেয় ,,

          কিন্তু * 1892 সালে "ব্রাহ্মণবাদী মানুষের " চাপে অচ্ছুৎ মানুষের নামে পরিচিত দের সেনাবাহিনীতে চাকরি বন্ধ হয়ে যায় , 

         * 1918 সালে ভারতের সব জাতিকে বিধিমন্ডলে অংশগ্রহণ করার জন্য ইংরেজরা ই প্রথম চেষ্টা করে , এবং সাউজী মহারাজের কথায় পিছিয়ে পড়া নেতা ভাষ্কর রাও যাদব এবং অচ্ছুত দের নেতা.. ড. আম্বেদকর নিচু জাতের লোকদের বিধিমন্ডলে যোগ দেওয়ার জন্য মেমোরান্ডাম বা বিজ্ঞাপন ইংরেজরা ই প্রথম দেয়,, 

          * 1919 সালে ইংরেজরাই প্রথম ভারত সরকার অধিনিয়ম এর-গঠন করে ,, 

        * 1919 সালে ইংরেজরাই ব্রাহ্মণ্য সমাজের মানুষের জন্য  জজ বা বিচারক হওয়া বন্ধ করে দেয় , এবং ইংরেজরা বলে যে "ব্রাহ্মণদের" মধ্যে ন্যায় চরিত্রতা বলে বিশেষ কিছুই নেই ,,

        * 1927 সালে ইংরেজদের রাজ্যত্ব্য থাকাকালীন ই 25 সে ডিসেম্বর বাবা সাহেব ড.আম্বেদকর " মনুস্মৃতি (মনুসংহিতা) " দহন করেন ,, 

        এই মনুস্মৃতি (মনুসংহিতা) শুদ্র এবং মহিলাদের গোলাম তথা ভোগের বস্তু হিসেবে মানতেন, এক পুরুষের অগনিত বিবাহ করার ধর্মীয় অধিকার এবং মহিলা অধিকার বিহীন তথা দাসী হিসেবে মান্যতা পেতেন ,, 

         এক-এক মহিলাদের অগনিত সতীন থাকতো , মহিলা এবং শুদ্র দের শুধু গোলাম হয়ে থাকতে হতো, এই ব্যবস্থাকে ব্রাহ্মণবাদী মানুষেরা  "মনু ধর্মের " নাম দিয়েছিল ,, 

            1 লা মার্চ * 1930 সালে ড. আম্বেদকর দ্বারা কালা রাম মন্দির নাসিক প্রবেশ এর আন্দোলন চালায় ,,

       * 1927 সালে ইংরেজরাই  আইন বানিয়ে অস্পৃশ্য শুদ্র সমাজের বানিয়ে রাখা মানুষ দেরকে সার্বজনীন স্থানে যাওয়ার অধিকার দেয় ,,

          * 1927 সাল নভেম্বরে  "সাইমন কমিশন" নিযুক্ত হয়ে ,,

        * 1928 সালে ভারতীয় মূলনিবাসী সমাজের মানুষদের কে  অচ্ছুৎ বানিয়ে রাখার পরিস্থিতি সার্ভে করে তাদের অতিরিক্ত অধিকার দেওয়ার জন্য  ,,

        * 1932 সাল 24 সে সেপ্টেম্বর ইংরেজ কমিউনাল অ্যাওয়ার্ড ঘোষণা করে অচ্ছূৎ বা শূদ্র করে রাখা মানুষের ক্ষেত্রে অনেক অনেক প্রমূখ অধিকার প্রভৃতি দেয় ,,

       * 1928 সাল 19 মার্চ ব্রাহ্মন্যবাদী মানুষের তৈরী বেবারি প্রথার বিরোধে ড.আম্বেদকর মুম্বাই বিধান পরিষদে অভিযোগ করেন , এর পরে ইংরেজরা এই প্রথাকে ও বন্ধ করে দেয় ,, 

        * 1942 সালে 1 লা জুলাই থেকে 10 সেপ্টেম্বর * 1946 সাল পর্যন্ত ড.আম্বেদকরকে ভাইসরায় এর কার্য্য সাধন বা লেবার কাউন্সিলের মেম্বার করেন ,  শ্রমিক বা লেবারদের 8.3 শতাংশ প্রতিনিধিত্বের  ব্যবস্তা করেন ,, 

        * 1937 সালে ইংরেজ ভারতে প্রবেন্সিয়াল গভর্নমেন্ট এর নির্বাচন করায় , ইংরেজ শাসন প্রশাসনে ব্রাহ্মণদের 100% শতাংশ থেকে অনেক অনেক কমে মাত্র 2% দুই তিন শতাংশের  মতো দাড় করিয়ে দেয় ,, 

         উক্ত সমস্ত বিভিন্ন কারনাদির ফলেই ব্রাহ্মণ্যবাদী সমাজের বিভিন্ন মানুষেরা দেশের স্বাধীনতার নামে ইংরেজদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামে , 

         দেশ স্বাধীনের নামে ইংরেজ হাঁটাও নামে দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের নামে " বর্ণবাদী/বর্ণহিন্দু ব্রাহ্মণে'রা " ভারতের মূলনিবাসী দের বোকা বানিয়ে ইংরেজ কে হাঁটিয়ে ভারতবাসীকে চিরো গোলাম বানিয়ে রাখার জন্য বৎসরের পরে বৎসর ধরে চেষ্টা করে গিয়েছে  ,, 

         আর এখনও সেই রকমের অনেক অনেক ফন্দি ফিকির ক্রমবর্ধমানভাবে করেই চলেছে ,, 


অনেক অনেক মানুষের সংগৃহীত ও বিভিন্ন সময়ে পরিবেশিত বিভিন্ন তথ্যাদির অনুকরনীয় উপস্থিতি মুলক অবস্থানের ছোট্ট একটা প্রচেষ্টা মাত্র  ,,

         এর মধ্যে জানা অজানা অচেনা অপরিচিত অনেক অনেক মানুষের বিভিন্ন সময়ে দেওয়া বিভিন্ন তথ্যাদিকে সাজিয়ে লিখেছি , তাদের সকলের প্রতি আমার বিনম্র নিবেদন জনিত প্রনাম ও নমস্কার জানিয়ে আজ তবে এখানেই শেষ করছি ,,,

        ডা, এস কে মণ্ডল দা, এ জি কলোনী, হাবড়া অশোক নগর,, ও