রবিবার, ১ ডিসেম্বর, ২০১৯

মতুয়ার সম্ভাব্য উৎপত্তি।। ** দ্বিতীয় পর্ব **

শ্রীশ্রী হরিগুরুচাঁদ জয়তুঃ।।


তথাকথিত ভারতীয় উপমহাদেশে, যাহার মধ্যে পাকিস্তান, বাংলাদেশ, শ্রীলংকা, ইন্দোনেশিয়া, এমনকি চিনদেশটি ও আমার লেখার তথ্যের আওতা ভূক্ত।সেই সহ বর্তমান ভারতের বিভিন্ন অঙ্গ রাজ্য বা প্রদেশের মধ্যে বিভিন্ন জনজাতির বসবাস তেমনই বিভিন্ন ভাষা ভাষীর ও প্রচল ঘটে,ফলে বহু গোষ্ঠী বা সম্প্রদায়ের সৃষ্টি হয়।এটাই বাস্তব যাহার জলন্ত প্রমান ভারতীয় ইতিহাস।সেইসব সম্প্রদায়ের মধ্যেই যে যাহার মাতৃভাষাকেই প্রধান্য
দিয়ে থাকেন আর সেটা বলার অপেক্ষা রাখেনা। উল্লেখ রাখা ভালো( প্রাচিন ভারত বর্ষ তখন সরকারি শাসন ব্যাবস্থা ছিলনা, তখন আর্য্যদের ৪টি প্রধান মন্দির দ্বারাই ভারত বর্ষের সমাজ সংস্কার বা শাসন ভার নিয়ন্ত্রিত ছিল, সেই মন্দির ভারতবর্ষের প্রধান চারটি জায়গায় স্থাপিত যা আজও তার স্মৃতি চিহ্ন বহন করে চলছে, এবং নতুন আংগীকে উন্নত মানের কাঠামোয় আবৃত।) 'যাহোক কালক্রমে ঐ সম্প্রদায়ের মধ্যেই কোন কোন দেব দেবতাকে উপাস্য হিসাবে চিহ্নিত করে,এমনকি কোনও কোন  সম্প্রদায়ের মধ্যে থেকেই কোন ব্যাক্তি বিষেস কাউকে প্রধান্য দিয়ে তার দর্শন অনুযায়ী তার নামে সম্প্রদায় থেকে ধর্মীয় নামে ধর্ম শাখায় রুপান্তরিত করেন।এবং সেটা যার যার সীমানা ভিক্তীক, বর্তমান রাজ্য /প্রদেশ অনুশারেই স্বীকৃত অথবা বিদ্যমান হয়। এ-ই ধর্ম শাখা বা সম্প্রদায় গুলি সরকারী শাসন ব্যাবস্থা চালু হওয়ার পরে কিছু কিছু সরকারীভাবে তালিকা ভূক্ত করেন।এখানে জরুরি ভা
বে উল্লেখ রাখা দরকার**-
**--**,(শুধু ভারত বর্ষই নয় পৃথিবীর মধ্যে যত ধর্ম মত প্রচলিত হয় বা হবে তাহা কোন সরকার প্রাথমিক ভাবে স্বীকৃতি বা তালিকা ভূক্ত করেনা, সেই সম্প্রদায়/ধর্মকে, নিজেদের করেই প্রচলন করতে হয়।পরবর্তী পর্যায়ে জনসংখ্যা ও তার গুনা বলী বিচার করে সরকার স্বীকৃত বা তালিকা ভূক্ত করে নেয়)
*****------***-**-*-**
ভারতীয় পৌরানিক গ্রন্থাবলীতে ঐসব ধর্ম শাখার পরিমান প্রায় সারে চার হাজার থেকে সারে ছয় হাজারের মতো। পরবর্তী কালে ঐই ভারত বর্ষেই অন্য মহাদেশ বা অন্য দেশ থেকে জনজাতির বসবাস শুরু করেন। কেহ বানিজ্য হিসাবে কেহবা ভালো লাগার কারনে কেহবা প্রতিষ্ঠা পাওয়ার তাগিদে। মজার ব্যাপার হলো সেই সব মানুষ কাল ক্রমে ভারতের রাজ ক্ষমতাও এক সময় দখল করে নেয়, ফলে তাদের দেশে যে ধর্মীয় সাবজেক্টের উপর তারা ছিলেন,, সেই ধর্ম মত পথও ভারত বর্ষের মধ্যে বিস্তারিত হল,। ফলে ভারত বর্ষের রুপ নেয় বহু ভাষা বহু ধর্ম বহু সম্প্রদায়। যাহা কিনা বৈদেশিক শাসন ব্যাবস্থা চলে যাওয়ার পরও
ভারতের মানুষের হাতে রাজ শক্তির প্রভাব ঘটলেও
একক কোন ধর্ম শাখাকে রাষ্ট্রীয় ধর্ম হিসেবে স্বীকৃতি
প্রদান করতে পারেনি।(অবশ্য বিদেশীরাও পারতেন না) তাইতো ভারতীয় সংবিধানে দাঁড়িয়ে
বলতে হয় ভারত ভূমির বৈশিষ্ট্য হচ্ছে বহুত্ব্যের মধ্যে এককত্তা বা বৈচিত্রের ভারত যাহা (সীমার মাঝে অসীম)।। স্বামী বিবেকান্দের ভাষায় মানবতাবাদী ধর্ম।। কিছুটা ইতিহাস তুলে না ধরলে নয়, অবশ্য আমার পান্ডুলিপিতে বিভিন্ন বিষয়ের উপর সাধ্যানুসারে সংগ্রহ করে রেখেছি এবং ভারত বর্ষের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ সম্প্রদায়ের তথা তাদের কৃষ্টির বিষয় একটা জানার অদম্য আগ্রহ আমার ছিলো শুধু যে মতুয়াদের জন্য তা নয় ভারত বর্ষকে জানার জন্য।সেটা কতটুকু সমাপ্ত করতে পারব জানিনা। তবে একটা কথা জোর গলায় বলতে পারি ভারত বর্ষকে যে জানতে পারবে পৃথিবীর অন্য দেশের সম্পর্কে ও তার ধারনা বেশির ভাগই জন্ম নেবে,, এটা আমি মনে করি।। যা হোক নিজের প্রতিষ্ঠাকে আমি মান্যতা দিতে রাজী নই।।তাই যতটুকু ইতিহাস মতুয়া উৎপত্তির বিষয় প্রযোজ্য মনে করি সেটা প্রকাশ না করলে অসমাপ্ত থেকে যাবে।এমনকি গতানুগতিক পূর্বাপর না হলে ঐতিহাসিক ভাবে মতুয়া উৎপত্তি লেখার কোন মানেই হয়না।।যাহা হোক ঐসব প্রচলিত ধর্ম শাখার মধ্যে প্রধান্য হিসাবে উঠে আসে যথাক্রমে, আর্য, জৈন,শিক,বৌদ্ধ,সনাতন,হিন্দু ইসলাম, বৈদিক, খৃষ্টান ইত্যাদি।। লক্ষ্যনীয় হলো তৎকালীন বঙ্গবাসী বা বাংলা ভাষীদের মধ্যে উল্লেখ যোগ্য প্রধান ধর্ম শাখা গুলোর সবটি প্রচলন ঘটেনি,বিষেস করে বাংলা বলয়ের মধ্যে, সনাতন,হিন্দু, বৌদ্ধ,কিছু ইসলাম, এবং হাতে গনা কিছু কিছু খৃষ্টান ধর্মের মানুষ,।বৈষ্ষব  শব্দটির উৎপত্তি ভূত পূর্ব হলেও সেই নামে কোন সম্প্রদায় বা ধর্মের প্রচলন তখনও ঘটেনি।।কালক্রমে বৈদিক গন সনাতন ধর্মের মূল ধর্ম গ্রন্থ বেদকেই প্রধান্য দেয় যাহা কিনা তথাকথিত আর্য্য হিন্দুদেরও প্রধান গ্রন্থ
হিসাবে বিবেচিত,।। ধর্ম শাখার নাম ভিন্ন হলেও গ্রন্থে বা দর্শনের ব্যাপারটা এক। অবশ্য এ-ই সিদ্ধান্তে কিছু আর্যগণ বা বৈদিক গন এখনও দ্বিমত পোষন করেন। তবে তন্মধ্যে কিছু জ্ঞানী ব্যাক্তি বৃহত্তর ঐক্যের স্বার্থে হিন্দু ধর্মকে সামনে রেখে সনাতন হিন্দু ধর্ম বা সনাতনী হিন্দু ধর্ম হিসাবে চিহ্নিত করেছেন।। যা কিনা আপনি /আমি বাংলা ভাষীদের মধ্যে বলে থাকি।।তবে ঐসকল ধর্মের মধ্যে তখন বাংলার ভিতর কোন মহা পূরুষের আবির্ভাব ঘটেনি। পর্যাক্রমে সনাতন বা হিন্দু ধর্ম যেটাই আমরা বলিনা কেন বাংলায় বা তথাকথিত
বঙ্গে এক কালজয়ী, কিংবা মহাপূরুষ বা অবতার পূরুষ 
অথবা বঙ্গের হিন্দু বা সনাতনধর্মের ভাগ্য বিধাতা রুপে চৈতান্য মহাপ্রভু জন্ম গ্রহন করলেন।।
     ৷         (চলবে)পরবর্তী অংশের জন্য অপেক্ষা করুন।। যে কোন ভুল শোধরাতে আমার কৃতজ্ঞতা রইল।। হরিবোল।

মতুয়ার সম্ভাব্য উৎপত্তি।। ** তৃতীয় পর্ব **

শ্রী শ্রী হরিগুরচাঁদ জয়তুঃ।

দ্বীতিয় পর্বের উল্লেখিত বিষয় সমুহের মধ্যে দেখতে পেলাম। বৈদিক, আর্য্য,  সনাতন,বৃহত্তর স্বার্থে প্রবল মতানৈক্য /মতান্তর থাকা সত্ব্যেও (সনাতন হিন্দু ধর্ম) নামে চলতে থাকলেন বা এখনো সেই নামেই বেশির ভাগ চলে,, তবে কিছু মানুষ   এখনো তারা আদি ধর্ম সনাতন ধর্ম বলেই জানেন, তারা সোনাতনের সংগে কোন রুপ মিশ্রন দেখতে পছন্দ করেন না। সেটা তাদের ভালো লাগা হোক, একনিষ্ঠতা হোক,আস্থা বিশ্বাস হোক, তাদের কাছে সনাতনধর্মই সার কথা।দুঃখের বিষয় সেই দাবীটা যারা জোরের সহিত করেছেন তারা একটা জায়গায় মকরশার জালের মত বন্দী, সেই সংগে সনাতন ধর্ম বলে যারা জোর দাবী করেন তারা বেশির ভাগই বঙ্গবাসী বা বাঙালি,।।,যখনই দেখলেন সনাতন ধর্মের নাম আছে তার (মুলধর্ম গ্রন্থ নেই) যে দর্শন তাহা বৈদিক, আর্য্য,বা হিন্দু ধর্মের নামেই খ্যাত, বলার অপেক্ষা রাখেনা( মকরশার জাল)একটা কথা না বললে নয়,, যারা  সনাতনধর্ম আদি ধর্ম জেনে আসছেন তাদের বিশ্বাস ভারতের আদি সভ্যতা দ্রাবিড় সভ্যতা, এটা ঐতিহাসিক সত্য,,এ-ই সভ্যতার মধ্যে থেকেই আর্য্য সভ্যতায় রুপান্তরিত হয়।। তথাকথিত আর্য্যরাই ভারতবর্ষের শিক্ষীত জাতী, এবং তাদের মত করে তারা  তাদের যাবতীয় দর্শন তৈরী করেন,,।। ফলে দ্রাবিড় সভ্যতার কম শিক্ষিতরা (আর্য্যরা) যেভাবে চালিয়েছে সেই ভাবেই চলতে হয়েছে।।এবং সেখান থেকে ই তাদের আদি মানুষ, আদি ধর্ম সনাতন, আদি ভারতবাসী,, এ-ই ধারনাটা পোষন করে আসছে।। এবং সেখানেই জাতি ভেদের বিজ বপন করা হয়েছে,,।।  একই সভ্যতার মানুষ হয়ে কাল ক্রমে একাধিক সভ্যতা বা একাধিক ধর্ম শাখার রুপ নেয়। বর্তমানে ভারতের আদিবাসী বলে আমরা যাদের চিহ্নিত করি বা এসটি, এস সি, কিংবা ওবিসি সম্প্রদায়ের মানুষ তাদেরই উত্তরশূরি।।এ-ই জন্য হরিচাঁদ ঠাকুর  বলেছিলেন,, আমি প্রচারিব গূঢ়গম্য সূক্ষ্মসনাতন ধর্ম (এ একটি কারন উল্লেখ রাখা হল পষ্চাতে বলব)যে কথায় যাব চৈতন্য দেব ছোট বেলার নাম নিমু, নিমাই মিশ্র, পিতা জগন্নাথ মিশ্র,গৌরাঙ্গ, গৌড় সুন্দর,মহা প্রভু,ও চৈতান্য দেব। কেউ বা ভগবান, কেহ বা ইশ্বরঃ, কেহ বা অবতার তাকে আখ্যা দিয়েছেন।।আমি তাদের সাথে একমত,, তবে আমার লেখার মাধ্যমে (ইশ্বর বা ইশ্বরঃ পূরুষ) বাদেই বর্ণনা করব কারন যতদুর পারি ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী চেষ্টা করছি,,।। তবে আমার ভাষায় গৌড় সুন্দরকে কি বলব তার যে কতগুন কি নামে ডাকব তার অনন্ত কর্মপন্থা , তাই তিনি আমার দৃষ্টিতে মানব সুন্দর বললে কম হয়।। তিনি মানব মহা সুন্দর।। তথাকথিত বঙ্গবাসী বঙ্গভাষী দের বা সনাতন ধর্মের প্রতি যাদের আজও একনিষ্ঠ আস্থা বিশ্বাস তারা কালজয়ী, বলেন, মহাপুরুষ বলেন,ত্রাতা কিংবা কান্ডারি বলেন  সকল গুনের অধিকার অর্জন করে মানুষের পাশে দাড়াতে লাগলেন গৌড়সুন্দর প্রথমেই তিনি অল্প বয়স থেকেই বেদ বেদান্তের বিষয়ে পারদর্শিতার চরম উচ্চ পর্যায়ে লক্ষ্য ভেদ করেন।। এবং যে যে ভাষায়  বেদ লেখা ছিল সেই ভাষাকে রপ্ত করেন। যাহা কিনা ঐ সম সাময়িক কোন ব্রাহ্মন পন্ডিত, কিংবা কোন আর্য্য পন্ডিত গন ঐ বয়সে কেহ অর্জন করতে পারেনি।। ঐ সময় পালা করে শাস্ত্রীয় তর্ক যুদ্ধ হতে,,কোন এক সময় তার প্রতিভা দেশ দেশান্তরে ছড়িয়ে পড়ায়,, তর্কযুদ্ধের পন্ডিতদের মধ্যে একটি প্রতিহিংসার সৃষ্টি হয়।এ-ই বালক যা শাস্ত্রীয় ব্যাখা দিয়ে মানুষকে তার পক্ষে নিচ্ছে আমরা সেই শাস্ত্রের রচনা কারী বা প্রনেতা হয়েও নিমাই এ-র কাছে হারতে হচ্ছে।। তারা নিমাইকে সর্বোচ্চ জবাব দেওয়ার জন্য,, আরও একটি শাস্ত্রীয় বিতর্ক সভা করলেন,, বিপক্ষে তৎকালীন মহা পন্ডিতজ্ঞ শ্রী হাড়াই পন্ডিত মহাশয়।। তার কাছে সকল পন্ডিত গন হেরে যেতে তাই তার নাম করন হাড়াই পন্ডিত।। সেখানে নিমাই হেরে যাবে ধরে নিয়েই, তাকে শাস্ত্রীয় দর্শন থেকে অবসর নিতে হবে এব্যাবস্থা তারা পাকা পোক্ত  ভাবেই করে রেখে ছিলেন।। কিন্তু সেটি নিমাই এ-র প্রতিটির শ্লোকের ব্যাখায় বিপক্ষের পন্ডিত মহাশয় হেরে যায়।। কি ছিল সেই ব্যাখায়,, আগামী পর্বে।। কেহ ভাবছেন মতুয়ার উৎপত্তিতে নিমাই বা গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর এতটা না টেনে সহজে,,কিছু লিখে ভালো হতোনা। না হতেনা গৌড় সুন্দরের ব্যাখার মমার্থেই মতুয়া দের সূচনার বেশ কিছু ইঙ্গিত বহন করবে।।পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন।।জয় হরিবোল।। যে কোন ত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।।

মতুয়ার সম্ভাব্য উৎপত্তি।। ** চতুর্থ পর্ব **

শ্রীশ্রী হরিগুরুচাঁদ জয়তুঃ।।

গৌড় সুন্দরের আলচনায়, যাওয়ার পূর্বে একটি বিষয়ে,স্মরন করার জন্য উত্থাপিত করে নিতেই হবে।। তথা কথিত সনাতন ভারতবর্ষ বা এখনো আদি সনাতন ধর্মে বিশ্বাসী মানুষের মধ্যে ধারনা, বৌদ্ধ ধর্মের মানুষ এরা সনাতন ধর্মেরই মানুষ।। এবং এ-ই ধারনার সংগে আশা করি বেশির ভাগই একমত হবেন।। এবং এর যথেষ্ট যুক্তি আছে,, ভূতাত্ত্বিক গনের বিশ্লেষণ বা ঐতিহাসিক গনের একশ্রেনীর তথ্য তাই ইঙ্গিত করে।। বৌদ্ধ নিদর্শনের অনেক পূর্বেই দ্রাবিড় সভ্যতার বিকাশ এ-র আগে কোন সভ্যতা ছিল বলে এখনো কোন স্পষ্ট ধারনা পাওয়া যায়নি।।তৃতীয় পর্বের আলচনায়,, আর্যের বিষয়টা উল্লেখিত রেখেছি।।তাই আর্যরা বাদে দ্রাবিড় সভ্যতার বাকী অংশ।। যুক্তিতে আদি সনাতন ধর্মের মানুষ বলে ধরে নিতেই পারে।।এবিষয় নিয়ে প্রসংগ ক্রমে পরে বিস্তারিত তুলে ধরার চেষ্টা করব।। তা না হলে মতুয়ার উৎপত্তির দিকে পূর্ণাঙ্গ ভাবে রুপ দান করা হবেনা।।কারন বুদ্ধের অহিংসা নিতী ও সাম্য দর্শনের, মর্মার্থের বাস্তবতা কর্মের মাধ্যমেই,, এক মাত্র হরিগুরুচাঁদ ঠাকুরই, বঙ্গভাষীদের তথা বাঙালির মধ্যে নিপুনতার সহিত পালন করে দেখিয়েছেন।।আরও একটি বিষয় গোড়া হিন্দুদের বা আর্য হিন্দুদের মধ্যে।। বুদ্ধ ধর্মালম্বীদের সংগে মতানৈক্য এক ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত।। সেই মতান্তর এমন এক পর্যায়ে পৌছায় ধর্ম দন্দকে সামনে রেখে।। যাহা অঘোষিত হলেও ভারতবর্ষ বিভক্ত হওয়ার অন্তরায়।।আমি১৯ ৪৭সালের পাক ভারত বিভক্তের কথা বলছিনা।। তবে ইঙ্গিত সেই ধর্মদন্দ জাতি তত্ব্য।।আমার ইঙ্গিত চিনদেশ। অবশ্য বিভক্ত হওয়ার  ঐতিহাসিক আরও ব্যাখা আছে। আমি এই জন্যই শব্দটি লিখে ছি( অঘোষিত)
চিনের সংগে ভারতের যুদ্ধের কারনের মধ্যে তথাকথিত একটি ধর্ম যুদ্ধও কারন।। (অঘোষিত) এমন কি আছে দুটিদেশ আলাদা স্বাধীন হওয়ার পরেও প্রতিনিয়ত এখনও কুট নৈতিক যুদ্ধ করে যেতে হবে।। এ-ই সভ্যতার যুগে দুটি দেশই পৃথিবীতে উন্নয়নশীল দেশ হিসাবে নজির গড়েছে।। চোখের দেখা যে সমস্থ চিন ভারতের সিমান্ত সমস্যা এটা বৃহত্তর দেশ হিসাবে কোন সমস্যা হওয়ার কথা নয়।। অমি মনে করি এ-ও ধর্ম দন্দ বা মতান্তর, (অঘোষিত) অনেক ইতিহাস লিখে যেতে পারেনা,, প্রেক্ষাপট বিবেচনায় ও বাস্তব অনুভূতির মধ্যে জেনে নিতে হয়।। এ-ই কথা গুলো তুলে ধরার কারন আজও যারা খাটি বা আদি সনাতন ধর্ম বলে বিশ্বাসী তাদের মনে দাগ কাটে,, এই সব মানুষ গুলোতো আমার সনাতন ধর্মেরই মানুষ।। আজ আলাদা ধর্ম কেন -? তাহলে কি আর্য্য হিন্দু বা গোড়া হিন্দু অথবা বেদ নামক সেই শ্লোকের কোন ব্যাখায় জাতি ভেদের রোষানলে পড়েনিতো-?এরাকি তারাই যারা তথাকথিত বড় বড় হিন্দু, বা আর্য বা বৈদিক গনের প্রতিষ্ঠীত মন্দিরে উপাষনা করতে পারতনা -?এরা কি তারা যারা বেদ পুরান পরতে পারতনা বা দিতনা পাঠ করার অধিকার -?এরা-ইত সোনাতনের খাটি মানুষ।। কেন বুদ্ধনামেই ধর্মীয় পরিচিতি নিলেন-?এভাবে চলতে থাকলে সনাতন বলি,, হিন্দু বলি, আর্য্য বলি,, কতটা ধর্মের বৃদ্ধি পাবে।। উল্লেখিত ধারনা কিছু মানুষের মধ্যে তখন থেকেই চলে আসে।।
************-------******
যাচ্ছি গৌড় সুন্দরের কর্ম প্রতিভায়।।বিতর্ক সভার শ্লোক একাধিক যাহার প্রতিটির অংশ বা যতটুকু সেই দর্শনের মাধ্যমে পাওয়া যায়,, সেটা পুর্নাঙ্গ অনুবাদ করা ফেসবুকে সম্ভব নয়।। কিন্তু কিছুটা মর্মার্থ তুলে ধরতেই হয়।।বেদ শাস্ত্রের শ্লোকের মধ্যেই তথাকথিত সমাজ ব্যাবস্থার
পরিচালনা করার,, একটা শাসন পদ্ধতি সূক্ষ্মাকারে নিরুপন করা ছিল ।। যাতে করে ঐ নিতী পদ্ধতির ধারক বাহক যারা রচনা করেছেন তারাই।। এবং এটা যারা উপেক্ষা করবে তারা তাদের হাতেই সমাজচ্যুত হবেন।। এবং সেই বেদ নামক শাস্ত্র তাহা ছিল সংস্কৃত ভাষায়।। যাহার অর্থ সাধারণ মানুষের পক্ষে বোঝা সম্ভব নয়।। পরে অবশ্য বিভিন্ন নাম দিয়ে বাংলায় বেদশাস্ত্র অনুবাদ করেছে।। তবে উল্লেখ রাখা ভালো বাংলায় অনুবাদ কারিরা,, কিছুটা বুদ্ধিমত্তার সহিত অনেকাংশে, কঠোর সিদ্ধান্তের কিছু অংশ যাহাতে,, একেবারে দৃষ্টি কটু না হয়, সেভাবেই তুলে ধরার চেষ্টা করছেন।।বেদ শব্দের অর্থের মর্মার্থে যা বুঝায়,, বেদ মানে অপরিসীম জ্ঞানের ভান্ডার।। এটাকেই বর্তমান শিক্ষিত সমাজের মানুষেরা বলে থাকে।। এবং ছোট বেলায় পাঠশালায় পড়ানো হতে চারি বেদ।। সাম, ঋৃগ্ব,যজু অথর্ব। বর্তমানে দেখবেন, সাম মনুসংহিতা, ঋৃগ্বমনুসংহিতা, যজুর মনুসংহিতা, ইত্যাদি মনুসংহিতাকে সংযোজন করা হয়েছে।। এগুলো লেখার কারন বেদ একটি শব্দ,, বেদশাস্ত্র একটিশব্দ, বেদকে উদৃত করে যাহা কিছু পান্ডুলিপি, বা বইয়াকারে মুদ্রিত করা হয়। তাকে বেদশাস্ত্র বলে, ক্ষেত্র বিষেশ আখ্যা দেওয়া হয়েছে।। প্রথমে বলা হয়েছে বেদের শ্লোকের মধ্যে লুকাইত ছিল তথাকথিত সমজব্যাবস্থা বা সেই সময়কার শাসন ব্যাবস্থা।। কি নাম সেই বেদশাস্ত্রের বা এখনো সেই আইনের ক্ষুরধার অস্ত্রের রোষানলে  অঘোষিত ভাবে আদি সনাতন ধর্ম বলে যারা জেনে আসছে তাদের বহু ভাগে বিভক্ত করছেনাত-?সেই আইনের বীজ নিয়ে যারা রাজ ক্ষমতায় বর্তমানেও আছে। তারাকি অঘোষিত ভাবে সেই শাসন তন্ত্রকে প্রযোগ করছেনাত-?সেই বেদশাস্ত্রটির নাম হল,, পুরহিত তন্ত্র /পুরোহিত দর্শন /ব্রহ্মপুরান ইত্যাদি।। সবাই বেদকেই উদৃত করে লিখেছেন।।যাহা হোক ঐ সকল  শাস্ত্রের বিষয় ও নিমাই পন্ডিত ভালো করে রপ্ত করেছেন।।হাড়াই পন্ডিতেরা, জানতেন সেই শাসন তন্ত্রে বিধানের বাহিরে নিমাই  পন্ডিতের আচরন বা চালচলন।। অর্থাৎ নিমাই ছোট বেলা থেকেই মানুষকে সমদয়া,,তার প্রতি নিষ্ঠা, সাম্যবাদ,জাতিভেদ এসব তিনি মানতেনা।।এবং যাহা কিনা ঐ শাসন তন্ত্রের সম্পূর্ণ বিপরীতে।।, ঠিক নিমাই এ-র এই দুর্বল জায়গাটা দুর্বল ভেবে বিপক্ষে পন্ডিতেরা প্রশ্নবানে বিদ্ধ করতে লাগলেন।। কিন্তুু নিমাই সকল প্রশ্নকে হাসি মুখে গ্রহন করে তার উত্তর দিতে লাগলেন।।কি তার উত্তর ছিল যার জন্য বিজ্ঞ পন্ডিত দের হারতে হলো।। কি এমন বিষয় বস্তুু ছিল যাহা মতুয়ার উৎপত্তি সহায়ক হলো।। অপেক্ষা করুন আগামী পর্বের জন্য।। যে কোন ত্রুটির জন্য ক্ষমার চোখে দেখবেন।। সবাই ভালো থাকুন জয়হরিবল।।

মতুয়ার সম্ভাব্য উৎপত্তি।। ** পঞ্চম পর্ব **

শ্রী শ্রী হরিগুরুচাঁদ জয়তুঃ।

চতুর্থ পর্বে আমার সংগে থাকা সবাইকে শ্রেনীনুযায়ী প্রনাম ভালো বাসা জানিয়ে শুরু করছি।। **********-মহাপ্রভু পন্ডিতদের সেই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার প্রস্তুতি নিলেন। সেক্ষেত্রে পূুর্বেই মহা প্রভু অবগত ছিলেন।। তাকে পন্ডিত বর্গের শাস্ত্রীয় রোষানলে পরতে হচ্ছেই। সেই সকল প্রশ্ন মুলুক শ্লোক বা তার প্রতি উত্তর ফেসবুকে সব তুলে ধরা সম্ভব না।। আগেই বলেছি,, এবং যারা ফেসবুকে আছেন তারা এত লেখা ধৈর্য্য ধরে পড়ার সময়ও নেই,,তাই শুধু মাত্র মর্মার্থই তুলে ধরেছি।।
****--********---******-*মহাপ্রভু বললেন,হে আমার পূজ্যপাদ মহা পন্ডিত গন-বেদ,পুরান, শাস্ত্র দর্শন এ-র সর্বা মুলাধারকে-?এবং আমরা-- যে ধর্ম পালন করি তারইবা স্রষ্ঠা কে -?আমরা যে দর্শন শাস্ত্রনুযায়ী সংস্কারে  চলছি কিই বা  তার সঠিক পদ্ধতি -?
**----*****-***--****
বাংলা অনুবাদে,এবং ঐতিহাসিক সু যুক্তির বিধানে বা পর বর্তী কালের মহা প্রভুর জীবনালেখ্য,, যে সকল গ্রন্থাকারে পূস্তক বেরিয়েছে,, যথা ক্রমে নিমাই সন্যাস,,অমিয় নিমাই চরিত,, চৈতান্য চরিতামৃত,, চৈতান্য ভগবৎ, ইত্যাদি গ্রন্থ।।তৎ সহ নিমাই এ-র জন্ম ভিটায় আজও কিছু ভূতপূর্ব নিদর্শন আছে।। যাহা ঐ সমাজের এখনও বেশ কিছু মানুষ,, ঐ এলেকায় যে কোন গৌড় সুন্দরকে কেন্দ্র করে মঠ মন্দিরে তারা থাকেনা।। অথচ মহাপ্রভুকে নিয়ে তার ঐতিহাসিক কিছু সত্যতা লোক কথার  ন্যায় তারা বলে থাকেন।।আরও একটি বিষয় বর্তমান মায়াপুরে বা নবদ্বীপে। মহা প্রভুকে কেন্দ্র করে বহু মঠ মন্দির গড়ে উঠেছে সবাই পরম সত্যটা স্বীকার না করলেও।। অনেকেই জানেন মহা প্রভুর জীবনে কতটাই,, ঐ শাস্ত্র যুদ্ধের নামে--ব্রাহ্মন পন্ডিত গনের সংগে-।।- ধর্ম যুদ্ধকে অগ্রভাগে রেখে জীবন যুদ্ধ করতে হয়েছে।।
অবশ্য উল্লেখিত বেশির ভাগ গ্রন্থের মধ্যে মহাপ্রভুর ঐতিহাসিক পটভূমিকার কথা লেখার ধরনটা খুবই কম।।  অনেকে প্রথমে আমার কথা বুঝতে সময় লাগতে পারে।।তবে পরবর্তীতে ভক্তি মার্গের শ্রতাদের অনেক ধোঁয়াসা কেটে যাবে।।
********------******-***
সুতরাং ধর্মীয়ী তর্ক যুদ্ধের কারনেই তার সারাংশ ধরে প্রশ্নের মালায়,, ধর্মের মূলা ধারকে,, বেদশাস্ত্রে মূলে কে,,ও সংস্কার কি বা কেন-এটা আমাকে লিখতে হয়েছে।।মহা প্রভু তাদেরই উদ্দেশ্য বেদশাস্ত্রের ভক্তিবাদের তত্ব্যকে দাড় করিয়ে বললেন,।। হে পন্ডিত গন শুনুন আপনি/আমি এমনকি জগতের সবকিছুর মূলে রয়েছেন একজন স্রষ্ঠা।।*** ধর্মমূলহিঃ ভগবান, স্বর্ব বেদময়ঃহরি।।******ধর্মের মূলে হরি,বেদের মূলে হরি সংস্কারে হরি,আপনার আমার মধ্যে হরি, জগৎটাই হরিময়।তর্কে হরি, হরিকে কি কখনও হারানো যায় -?ভক্তি বাদের ব্যাখায় পন্ডিত গন চৈতান্য দেবের উদারতা,মহানুভবতা,, সততা,এবং সর্বোপরি সাম্যবাদ বেরিয়ে আসায় তাদের বাক শক্তি রহিত হয়ে যায়।। এবং এভাবেই ভক্তিবাদের গতিবৃদ্ধি পেতে শুরু করেন।। এবং সেটার নিদর্শন চৈতান্য মহাপ্রভু নিজেই।। পরবর্তী কালে মানুষের মধ্যে হরিনাম বিতরন করার কাজে নিজেকে নিয়জিত করেন।। এবং  তার কর্মময় জীবনে ভগবান কৃষ্ণকে,, তুলে ধরলেন অন্য মাত্রায়।। এখানে অন্য মাত্রায় কৃষ্ণকে বলা হলো কেন-? তবে একোন কৃষ্ণ -? এ-র ব্যাখায় মতুয়া উৎপত্তির কতটুকুই বা সহায়তা পেতে পারে।।চোখ  রাখুন ও সংগে থাকুন।। আগামী পর্বের অপেক্ষায়।।
**********-------******--*
যে কোন ভুলের জন্য ক্ষমা প্রার্থী।।জয়হরিবল।।

মতুয়ার সম্ভাব্য উৎপত্তি।। ** ষষ্ঠ পর্ব **

শ্রীশ্রীহরিগুরুচাঁদ জয়তুঃ।।

পঞ্চম পর্বের সঙ্গে থাকা সবাইকে প্রনাম ভালো বাসা জানিয়ে শুরু করছি
     ***-****-----****   
শ্রী কৃষ্ণকে মহা প্রভু অন্য রুপে তুলে ধরলেন।।আমরা যদি মহাভারতের দিগে লক্ষ্য করি,,  সেখানে দেখবেন- শ্রী কৃষ্ণ এবং অর্জনের বাদানুবাদ।। এবং এক ধর্মরাজ্য বা সামরাজ্য প্রতিষ্ঠা গড়ার লক্ষ্যে,, যুদ্ধ বিগ্রহে যে যাহার মত তৈরী হচ্ছে ও যুদ্ধ করছে।। লক্ষ্যনিয় বিষয় হলো
মহা ভারতের মধ্যে মুনিঋৃষী সহ দেব দেবী এমনকি দেবতা উপদেবতার,, চরিত্রের শেষ নেই।। তেমনই তাদের কৌশলগত রন নিতীরও শেষ নেই।। অতএব যুদ্ধেরও শেষ নেই,, মজার ব্যাপার হলো --ঐ মহা ভারতের  চরিত্রের মধ্যে যার সাথে যার,,বা যে গ্রুপের সংগে,, যে গ্রপের যুদ্ধ হোকনা কেন কৃষ্ণই তার চালিকা শক্তি।।যাকে এক কথায় পরিচালক ও প্রযজোক বলা হয়।।আরও একটি বিষয়,, মহাভারতেই একাধিক কৃষ্ণকে দেখা যায়।। কখনও দ্বিভুজ,,কখনও  চতুর্ভুজ, ইত্যাদি এবং এ-ই কৃষ্ণদের বর্ন  (গায়ের রং)অতি উজ্জ্বল ও রাজকীয় আভারনে আবৃত।। এ-র যথার্থ সত্যতা চলমান বৈদুতিন টি ভি সিরিয়ালে।। মহাভারতকে উদৃত করে কৃষ্ণকে নিয়ে দীর্ঘ মেয়াদি সিরিয়াল,, দেখলেই বুঝতে আর অসুবিধা হবেনা।সর্বশেষ মহাভারতের গ্রন্থে যত কৃষ্ণই হোক।। তারা শুধু ঐশ্বর্য,, প্রায়ুর্য্য, রাজ ক্ষমতা, শৌর্য, শৌর্যবীর্য যুদ্ধং দেহি,, এবং জাতীত্ব্যের গৌরবের ছোয়া বেরিয়েছে।।সেটা কখনও ঘোষিত কখনও অঘোষিত।। আরও যেটা লক্ষ্যনীয় মহাভারতের কৃষ্ণের চরিত্রের মধ্যে শ্রী মতি রাধিকার বিস্তার বা প্রভাব ঘটেনি। তাহলে প্রশ্ন আসতেই পারে,,আমরা  বঙ্গ বা বাংলা ভাষীদের মধ্যে,, যে কৃষ্ণের ধর্মীয় ভাবে যুগলপ্রেমে বন্দী মনের মাধুরী মিলিয়ে রাধা কৃষ্ণকে-দেখি।। (রাধারুপে তনু পোড়া  বৈষ্ণবীয় ভাষা) বঙ্গীয় বৈষ্ণবদের এবং বাংলা ভাষী সনাতন বা হিন্দু ধর্মের।। প্রতি গৃহে গৃহে যার ছবি রেখে পুজা করা হয়, সে কোন কৃষ্ণ-?বৈষ্ণবীয় একশ্রেনীর মতবাদ মথুরা জেলার বৃন্দাবনে শ্রীকৃষ্ণ,, লীলা করতেন বিভিন্ন সখা সখীরা তার সহিত মিলিত হতেন।। বিষেশ করে রাধা সখী কৃষ্ণের বিভিন্ন সখীদের চেয়ে,, বেশি কষ্ট বা ত্যাগ স্বীকার করেই কৃষ্ণের লীলা সংগীনি হতে পেরেছেন। তবে আরও একটি বিষয় প্রাচিন ঐতিহাসিক নিদর্শনে দ্বারকায় রাজত্ব করতেন এক কৃষ্ণ।।উল্লেখ রাখা ভাল দ্বারকার কৃষ্ণের বাস্তবতার সঙ্গে বৃন্দাবনের কৃষ্ণের তথ্যের ভিত্তিতে কোন মিল নেই।। সুতরাং মহা ভারতের কৃষ্ণ একাধিক,, তথা বাস্তবের মাটিতে দাড়িয়েও কৃষ্ণ একাধিক।। উল্লেখিত সকল কৃষ্ণের বিষয় -ই- চৈতান্য মহাপ্রভু জানতেন।।চৈতন্য মহা প্রভু তন্নধ্যে কৃষ্ণকে কি রুপে দাড় করালেন।। কি সেই নামের ব্যাখা। সেই সূত্রপাত  থেকে মতুয়ারা যে মূল মন্ত্র উচ্চারণ করে সেটিকি আবিষ্কার হয়েছে -? না বেদ পুরান গ্রন্থে যাকে ইশ্বরঃ বলে নির্ণয় করেছে।। তাকেই মূলাধার বা মহা মন্ত্র উচ্চারণ (নাম রুপে) হরিগুরুচাঁদ ঠাকুরের বাস্তব মুখী মতুয়া ধর্মের উন্নয়নের কর্ম যজ্ঞকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে -? তার আগে চৈতন্য দেবের কর্মকাণ্ডের কিছু কথা না লিখলে অসম্পূর্ণ থেকেই যাবে।।**-********--****
চৈতন্য দেব একজন দার্শনিক, একজন গবেষক, একজন সমাজ সংস্কারক(সেকালের) ইহাতে সন্দেহের অবকাশ নেই,, এটা আমি মনে করি।।  এখানে আরও একটি বিষয় লক্ষ্য করবেন, লেখার মাধ্যমে স্পষ্ট করছি।। চৈতন্য দেব মানুষের মধ্যে যখন নগরে বেরিয়ে হরিনাম,, প্রচার করতে করতে বক্ষালিঙ্গন দিয়ে মানুষকে জরিয়ে ধরতেন।। সেই মানুষটি কি হিন্দু, মুসলিম, কি উচু কিংবা নিচু এটা তিনি কখনও ভাবতেন না।। এবিষয়টা যেমন চৈতন্য দেবকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় বই পুস্তকে নিদর্শন আছে।। ঠিক একই ভাবে ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী তাহা সু নির্দিষ্ট ভাবে ও  প্রমানিত।।আজকের দিনে অনেকে মনুবাদের বা ব্রাহ্মন্য বাদের বিরুদ্ধাচারন, করি বা করে থাকেন।।এটায় আমিও একমত।। তবে ব্রাহ্মন্য বাদের নিতীর বিরোধীতা করতে গিয়ে ব্যাক্তি ব্রাহ্মনদের বিরোধিতা করায়,, আমি সম্পূর্ণ বিপরীতে।। কারন ঠাকুর হরি গুরু চাঁদের সু শিক্ষা অবলম্বন করে হিংসা দিয়ে, হিংসা উৎখাত করা যায়না।। তাহলে তো বিগত দিনের শাস্ত্রীয় দর্শনে যে ভাবে মানুষকে পদ দলিত করে- দাস,দাসী,ব্রাহ্মন,চন্ডাল করে রেখেছে,, সেটারই পূনঃ উৎথাপিত করা হয়।।
আমরা খাটি মতুয়ারা এ-ই বিভেদ পছন্দ করি না।। আশাকরি আমার সাথে অনেকে এক মত হবেন।।কারন ঐ শাস্ত্রীয় রোষানলে যে মানুষ গুলো বিভক্ত হয়েছে হরি গুরু চাঁদ তাদেরকেই নিয়ে এক মহা জাতি গঠন করেছে।। যেটা তার উত্তরশুরি হয়ে মতুয়ারা দিন দিন করে চলছে।। যাহোক চৈতান্য দেবের কর্মকাণ্ডের দিগটা,,বা নাম প্রচারের ভেদা ভেদ কে না মানাটা।  তৎকালীন ব্রাহ্মন্য বাদী সমাজ সংস্কারকেরা মেনে নিতে পারেনি
।। কারন চৈতন্য দেবের তৎকালীন জাতিভেদ প্রথার উর্ধে উঠে হরিনাম প্রচার করাটা ই ব্রাহ্মন্য বাদী সমাজ ব্যাবস্থার উপর চরম ভাবে কুঠার আঘাত হানা হয়েছে।। সেই কুঠার আঘাতের প্রত্যাঘাত চৈতন্য দেবকে কতটা বিপাকে,, ফেলেছে।। নাকিনা সেটাকে টপকে গিয়ে চৈতন্য দেব রাজ ক্ষমতা অর্জন করে গৌড়ের সাম রাজ্য বিস্তার করেন।।যাহার মধ্যেও  লুকিয়ে থাকতে পারে মতুয়া উৎপত্তির ইতিহাস।। সংগে থাকুন আগামী পর্বে।। ********
যে কোন ভুলের জন্য ক্ষমা প্রার্থী।।**********সবাই ভালো থাকবেন।। হরিবোল।।