বুধবার, ১২ অক্টোবর, ২০২২

কিভাবে মালাউন শব্দটি এলো।

কপি-পেস্ট উত্তর। মূল লেখা

‘মালাউন’ শব্দটি সম্পর্কে আলোচনার পূর্বে প্রাসঙ্গিক কিছু কথা জেনে নেওয়া প্রয়োজন। বাংলা ভাষার গোটা বিশেক অভিধান ঘেটে ‘মালাউন’ শব্দটি পাওয়া গেছে মাত্র ৩টি অভিধানে। বলাবাহুল্য, এর সবগুলো অভিধানই বাংলাদেশ থেকে, আরো সুনির্দিষ্ট করে বলতে গেলে বলতে হয় বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত। আমার জানা মতে, বাংলা ভাষার প্রথম দিকের কোনো অভিধান থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত পশ্চিম বাংলা থেকে প্রকাশিত কোনো বাংলা ভাষার অভিধানেই ‘মালাউন’ শব্দটি নেই। তাদের ব্যবহারিক জীবনে শব্দটির তেমন প্রয়োগ নেই বলেই হয়তো তাদের অভিধানেও শব্দটি স্থান পায়নি। কিন্তু আমাদের দেশে ‘মালাউন’ শব্দটির বহুল প্রয়োগ এবং অপপ্রয়োগ শব্দটিকে করেছে তাৎপর্যপূর্ণ এবং গুরুত্বের সঙ্গে স্থান দিয়েছে অভিধানের পাতায়।

‘মালাউন’ শব্দটি এসেছে আরবি ভাষা থেকে। এদেশে ‘মালাউন’ শব্দটির ব্যবহার অনুসন্ধান করলে দেখা যায়, ১৯৪৭-এ ভারত বিভাগের পর থেকে আমাদের দেশের কিছু মানুষের মুখে ‘মালাউন’ শব্দটির ব্যবহার দ্রুতহারে বাড়তে থাকে। এর আগেও শব্দটির ব্যবহার ছিল, তবে তা ছিল অনুল্লেখযোগ্য কিন্তু যথাযথ। বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের কবিতায় এবং আধুনিক যুগের কারো কারো সাহিত্যকর্মে ‘মালাউন’ শব্দটি লক্ষ করা যায়। পাকিস্তান সৃষ্টির পর বেশিরভাগ উর্দুভাষী পাকিস্তানী হিন্দু শব্দের পরিবর্তে ‘মালাউন’ শব্দটি ব্যবহার করতে থাকে। এই অপব্যবহারের ব্যাপকতা চোখে পড়ে ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়। সে সময় হানাদার পাকিস্তানী বাহিনী এবং তাদের এদেশীয় সহযোগীরা ব্যাপকভাবে ‘মালাউন’ শব্দটি ব্যবহার করতে থাকে। হানাদার পাকিস্তানী বাহিনীর কোন সদস্য হিন্দুদেরকে কখনো ‘হিন্দু’ সম্বোধন করেছে এমন উদাহরণ বিরল। মুক্তিযুদ্ধের সময় তারা মুক্তিবাহিনীর সদস্য এবং তাদের ভাষায় ‘মালাউন’দের খোঁজ করতো, হিন্দুদেরকে নয়। ‘মালাউন’ শব্দটি এরা বৌদ্ধ বা খ্রিষ্টানদের প্রতি নয়; শুধু হিন্দুদের প্রতি ব্যাঙ্গার্থে বা তুচ্ছার্থে বা চরম ঘৃণা প্রকাশার্থে ব্যবহার করতে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী বাংলাদেশে মননে পাকিস্তানী কিছু সাম্প্রদায়িক মানুষ হিন্দুদেরকে শুধু ‘মালাউন’ই নয়; আরো ঘৃণার্থে ‘মালাউন’ শব্দটিকে তাদের মানসিকতার মতো বিকৃত করে ‘মালোয়ান’ এবং কোথাও তীব্রতম ঘৃণা ও ঈর্ষার প্রকাশ ঘটিয়ে ‘মালোয়ান’ শব্দকে সংক্ষিপ্ত করে ‘মালু’ শব্দটি চালু করেছে, যা একজন সামান্যতম হৃদয়বান ও ব্যক্তিত্ববান মানুষকে ব্যথিত না করে পারে না।

‘মালাউন’ শব্দটির অর্থ নিরূপণে অভিধানের শরণাপন্ন হওয়া যাক। প্রখ্যাত ভাষাতাত্ত্বিক, পণ্ডিত ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত ‘বাংলা একাডেমী বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভাষার অভিধান’-এ ‘মালাউন’ শব্দটির প্রথম অর্থ দেওয়া হয়েছে ‘বিধর্মী’ এবং দ্বিতীয় অর্থ ‘অভিশপ্ত’। কাজী রফিকুল হক সম্পাদিত বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত ‘বাংলা ভাষায় আরবী ফারসী তুর্কী হিন্দী উর্দু শব্দের অভিধান’ গ্রন্থে ‘মালাউন’ শব্দটিকে প্রথমত ‘মালউন’ বানানে দেওয়া হয়েছে, যার আরবি উচ্চারণ নির্ধারণ করা হয়েছে ‘মল্’ঊন’ এবং শব্দটির প্রথম অর্থ দেওয়া হয়েছে ‘অভিশপ্ত’; ‘বিতাড়িত’ এবং দ্বিতীয় অর্থ দেওয়া হয়েছে ‘শয়তান’। আর ডক্টর মুহম্মদ এনামুল হক এবং শিবপ্রসন্ন লাহিড়ী সম্পাদিত ‘বাংলা একাডেমী ব্যবহারিক বাংলা অভিধান’ গ্রন্থে ‘মালাউন’ শব্দটির প্রথম অর্থ দেওয়া হয়েছে লানতপ্রাপ্ত; অভিশপ্ত; বিতাড়িত; কাফের (উদ্ধৃতি: অনাচারে কার সরদার মুসলিম অভিমানে ছাড়িয়ে গেল চিরতরে মালাউনকে- শাহাদাত হোসেন), দ্বিতীয় অর্থ দেওয়া হয়েছে ‘শয়তান’, আর তৃতীয় অর্থ দেওয়া হয়েছে মুসলমান কর্তৃক ভিন্ন সম্প্রদায়ের লোককে দেওয়া গালিবিশেষ। এই অভিধানের অন্যত্র ‘মালাউন’ শব্দের ‘লানতপ্রাপ্ত’ অর্থে ‘লানত’ বা ‘লানৎ’ আরবি শব্দটির দুটি অর্থ দেওয়া আছে। প্রথমটি ‘অভিশাপ’ (উদ্ধৃতি: হাজার লানত যে এমন কাজ করে- সৈয়দ হামজা)। দ্বিতীয় অর্থ ‘অপমান’; ‘লাঞ্ছনা’; ‘ভর্ৎসনা’। তৃতীয় অর্থ ‘শাস্তি’ (উদ্ধৃতি: সে সবেরে লাহানতি দিবেক আল্লায়- সৈয়দ সুলতান)। অর্থাৎ অভিধানের আলোকে ‘মালাউন’ শব্দটির অর্থ ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহকৃত অর্থ ‘বিধর্মী’র মধ্যেই আজ আর সীমাবদ্ধ নেই। আজ অন্য কোনো ধর্মাবলম্বীকে না বুঝিয়ে ‘মালাউন’ শব্দটির অর্থ সংকুচিত করে বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক ভেদবুদ্ধিবিশিষ্ট কিছু মানুষ শুধু হিন্দুদেরকেই ‘মালাউন’ নামে অভিহিত করছে। শব্দটির অর্থ যদি ‘বিধর্মী’ অর্থাৎ অন্য ধর্মাবলম্বীকে বুঝাতো তাহলেও কথা ছিল। কিন্তু বর্তমানে ইসলাম ধর্মাবলম্বী ব্যতীত অন্য কোনো ধর্মাশ্রয়ীকে নয়; সুনির্দিষ্টভাবে তারা ‘মালাউন’ শব্দ দিয়ে শুধু হিন্দুদেরকেই বুঝাচ্ছে। ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ‘মালাউন’ শব্দটির প্রথম অর্থ ‘বিধর্মী’ জানালেও দ্বিতীয় অর্থ দিয়েছেন ‘অভিশপ্ত’। উল্লেখ্য, শহীদুল্লাহ ব্যতীত আর কোনো অভিধানকার শব্দটির অর্থ ‘বিধর্মী’ বলেননি। অন্যদের অভিধানে যে অর্থটি গুরুত্ব পেয়েছে সেটি হচ্ছে ‘অভিশপ্ত’ এবং ‘বিতাড়িত’। তাহলে কি ওইসব সাম্প্রদায়িকমনস্ক ব্যক্তির কথায় ধরে নেবো এদেশের হিন্দুরা অভিশপ্ত এবং বিতাড়িত? অভিশপ্ত হলে কখন, কোথায়, কীভাবে, কার দ্বারা অভিশপ্ত হলো; আর বিতাড়িত হলে কোন জায়গা থেকে, কখন তাদেরকে তাড়িয়ে দেওয়া হলো। এদেশের হিন্দুরা কি নিচ মনোভাবাপন্ন ওইসব ব্যক্তি কর্তৃক অভিশাপগ্রস্ত হলো এবং এই হিন্দুরা কি নিজ বাসভূম থেকে বিতাড়িত হলো? না। বাংলাদেশের হিন্দুরা বাংলাদেশের মাটির আদিসন্তান। এদেশে ইসলাম প্রচারের কয়েক সহস্র বছর আগে থেকে তারা এখানে আছে এবং ইসলাম প্রচারের পর থেকে হিন্দু ও মুসলমান ধর্মের অনুসারী সাধারণ মানুষ একে অন্যের সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে হাত ধরাধরি করে ভাই-ভাইয়ের মতো অংশগ্রহণ করে সুখে-শান্তিতে বসবাস করছে। ধর্মপালনটা যার যার ব্যক্তিগত হলেও তখন থেকেই ধর্মীয় উৎসবটা হয়ে উঠেছে সবার। সুতরাং ‘অভিশপ্ত’ বা ‘বিতাড়িত’-র মতো নিকৃষ্ট অর্থে হিন্দুদেরকে নয়; বরং ওই সাম্প্রদায়িক মনোভাবদুষ্ট সংকীর্ণ মানুষদেরকেই উল্টো ‘মালাউন’ অভিধায় চিহ্নিত করা যেতে পারে। কাজী রফিকুল হকের অভিধানে ‘মালাউন’ শব্দের অর্থ দেওয়া হয়েছে আরবি শব্দ ‘শয়তান’, যার অর্থ আল্লাহদ্রোহী ফেরেশতা, পাপাত্মা, অতিশয় দুর্বৃত্ত, বদমায়েশ ইত্যাদি। তবে কি এদেশের হিন্দুরা আজ ওই মানুষদের কাছে এসব নেতিবাচক বিশেষণের উপযুক্ত? নিশ্চয়ই নয়। আর ডক্টর মুহম্মদ এনামুল হকের অভিধানে ‘মালাউন’ শব্দের আর একটি উল্লেখযোগ্য অর্থ দেওয়া হয়েছে: ‘কাফের’ (আরবি শব্দ কাফির), যার অর্থ সত্য প্রত্যাখ্যানকারী, ইসলামধর্ম অস্বীকারকারী, ইসলাম-বিরোধী ইত্যাদি। এদেশের হিন্দুরা ইসলাম-বিরোধী বা অস্বীকারকারী তো নয়ই; সত্য প্রত্যাখ্যানকারীও নয়। কারণ হিন্দুর ধর্মই বহুমতে বিশ্বাসী ধর্ম, যেখানে প্রতিমা (মূর্তি) পূজার মধ্য দিয়ে যেমন প্রার্থনার পদ্ধতি আছে, তেমনি প্রতিমা ছাড়াই নিরাকারভাবে প্রার্থনার রীতিও আছে, যা বৈদিকযুগে ছিল এবং রাজা রামমোহন রায় কর্তৃক নবভাবে প্রবর্তিত ব্রাহ্মসমাজে এখনো প্রচলিত। আবার হিন্দুদের এক একজন এক এক দেবতাকে উপাস্য ভেবে প্রার্থনা করছে। কেউ এক দেবতাকে পুজো করলেও অন্য দেবতার প্রতি তার কোনোরূপ অবজ্ঞা বা অশ্রদ্ধা নেই। বরং ওই লোকদের সংখ্যাই হিন্দুদের মধ্যে বেশি, যারা বিভিন্ন দেবতাকেই সমান শ্রদ্ধায় পুজো করছে। অর্থাৎ হিন্দুধর্মের লোকদের রয়েছে অন্য ধর্মের প্রতি সমান শ্রদ্ধা। হিন্দুধর্মের আধুনিক ব্যাখ্যাকারী, রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের প্রতিষ্ঠাতা স্বামী বিবেকানন্দ রামকৃষ্ণদেবের উদ্ধৃতি দিয়ে এ কথাটি আরো চমৎকারভাবে বলেছেন এভাবে: ‘যত মত, তত পথ। ... হিন্দু শুধু অন্যের ধর্মকে শুধু স্বীকারই করে না, বিশ্বাসও করে।’ তাই হিন্দুদেরকে কোনোভাবেই ‘মালাউন’ বলা যায় না।

এতক্ষণের আলোচনা থেকে যুক্তি ও উদাহরণসহকারে একথাটি স্পষ্ট করার চেষ্টা করা হচ্ছে যে, বাংলাদেশের হিন্দু ধর্মালম্বীদের কোনো ক্রমেই ‘মালাউন’ বলা উচিত নয়। যাঁরা মননে কোনোরূপ সাম্প্রদায়িক বা হিন্দুবিরোধী না হয়েও শুধু অর্থ না জানার কারণে, না বুঝে, না ভেবে, অন্ধ অনুকরণকারীর মতো এতদিন ‘মালাউন’ শব্দটির অপপ্রয়োগ করে আসছিলেন, তাঁরা আশা করি পরবর্তী সময়ে অনুতপ্ত হয়ে শব্দটির ব্যবহারে সংযত হবেন। আর যারা সাম্প্রদায়িক চেতনাদুষ্ট, কুরুচি, অসংস্কৃত চেতনা, অবিকশিত বুদ্ধি এবং অপরিপক্ব মেধার অধিকারী কিংবা জ্ঞানপাপী, তাদের কাছে যতোভাবেই অর্থ, যুক্তি ও উদাহরণ উপস্থাপন করে ‘মালাউন’ শব্দটির অপব্যবহার থেকে তাদেরকে বিরত রাখার চেষ্টা করা হোক না কেন, তা শুধু অরণ্যে রোদনে পর্যবসিত হবে। শুধু ‘মালাউন’ শব্দই নয়; অন্য ধর্মাবলম্বীর বা যেকোন মানুষের হৃদয়ে ব্যথার উদ্রেক করে এমন কোন শব্দ ব্যবহার করা আমাদের কারোরই উচিত নয়।

যুগে যুগে শব্দের অর্থ বদলায়; বদলায় শব্দের ইমেজ, চিত্রকল্প। তাই যে শব্দটির অর্থ এক যুগে নন্দিত ছিল, পরবর্তী যুগে তা নিন্দিত বা পরিবর্তিত হতে পারে। উদাহরণ দিয়ে বিষয়টি স্পষ্ট করা যাক। ‘প্রবীণ’ শব্দের অর্থ আগে ছিল: প্রকৃষ্টরূপে অর্থাৎ চমৎকারভাবে বীণা বাজাতে পারেন যিনি। কিন্তু আজ শব্দটির অর্থ পরিবর্তিত হয়েছে ‘জ্ঞানী’ অর্থে। এমনিভাবে ‘পঙ্কজ’ শব্দের অর্থ ছিল পঙ্কে (কাদায়) জন্মে যা। ঝিনুক, শালুক, পদ্ম ইত্যাদি কাদায় জন্ম নিলেও আজ শুধু ‘পদ্ম’ অর্থেই পঙ্কজ শব্দটি ব্যবহৃত হচ্ছে। ‘রাজাকার’, আরবি ভাষার এই শব্দটির অর্থ স্বেচ্ছাসেবক। কিন্তু ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীকে সহায়তা এবং স্বাধীনতা সংগ্রামের বিরোধিতা ও ক্ষতিসাধন করে রাজাকার বাহিনী ‘রাজাকার’ শব্দটিকে কলঙ্কিত করেছে। যে-কারণে সেই সময় থেকে ‘রাজাকার’ শব্দটির চমৎকার অর্থের বদলে আমাদের দেশে গালি অর্থেই শব্দটির প্রয়োগ হচ্ছে। ‘আলবদর’ এবং ‘আলশামস’ শব্দ দুটির ক্ষেত্রেও অনুরূপ মন্তব্য করা যায়। তেমনিভাবে ‘মালাউন’ শব্দটির আক্ষরিক অর্থ যা-ই হোক না কেন, সাম্প্রদায়িক মনোভাবাপন্ন ব্যক্তিদের কিংবা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সদস্যদের মুখে ১৯৭১ সালে যে বীভৎসরূপে, তীব্রতম ঘৃণায়, রক্তলোলুপ জিঘাংসায় হিন্দুদের প্রতি ‘মালাউন’ শব্দটি উচ্চারিত হতো; সেই ‘মালাউন’ শব্দ শ্রবণে আমাদের সামনে এখনো এমন এক ঘৃণার্হ চিত্রকল্প ভেসে ওঠে, যা অনুভূতিসম্পন্ন, বিবেকবান যেকোনো মানুষের পক্ষে ভোলা সম্ভব নয়। আর এ কারণেই কোনো সংস্কৃতিবান, সুশিক্ষিত, অসাম্প্রদায়িক, মুক্ত চেতনার ধারক, আধুনিক মানুষের পক্ষে কোনোভাবেই ‘মালাউন’ শব্দের অপপ্রয়োগ শুধু অসম্ভবই নয়; অভাবনীয়ও বটে।

সোমবার, ১০ অক্টোবর, ২০২২

ইতিহাস পর্যালোচনায় নিম্নবর্গীয় জাতি বা উপজাতি

ইতিহাস পর্যালোচনায় নিম্নবর্গীয় জাতি এবং উপ জাতিগোষ্ঠী কে বা কাহারা? এদের উদ্ধার কর্তা হিসেবে কোন ভগবান এসেছে? কেন এসেছে।

ইতিহাস পর্যালোচনায় নিম্নবর্গীয় জাতি বা উপজাতি  গোষ্ঠীঃ-

বর্তমান বাংলাদেশ, ভারত সহ সমগ্র বিশ্বের বিভিন্ন তপশিলি জাতি এবং উপজাতি গোষ্ঠীরা বাস্তবিক অর্থে আজ-ও পর্যন্ত বিশ্বের কোনো ধর্মে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে নাই বা কাগজে কলমে মতুয়া মতাদর্শগত "সূক্ষ্ম সনাতন ধর্ম" বা "মতুয়া ধর্ম" ভিন্ন ধর্মীয় অধিকার পায় নাই। এদেরকে কতিত উচ্চবর্ণীয়রা বা ব্রাহ্মণ্যবাদীরা  নিম্নবর্গীয় তথা তপশিলি বা অন্ত্যজ (চন্ডাল সহ) জাতি এবং উপজাতি হিসেবে পরিগনিত করে আসছে। কিন্তু এই সকল ধর্মহীন তথাকথিত নিম্নবর্গীয় জাতিগোষ্ঠী মূল ইতিহাস না ঘেটে বা না বুঝে হুজুকেই বর্ণবৈষম্যভেদী, ছুৎমার্গ সহ উঁচু-নিচু জাত-পাত যুক্ত কুসংস্কারাচ্ছন্ন ব্রাহ্মণ্যবাদী হিন্দুধর্ম গ্রহণ করে চলছে বা হিন্দুধর্মে নাম লেখাতে চলেছে (মূল সনাতন ধর্মকে ছেড়ে) এবং ব্রাহ্মণ্যবাদীদের কুটচক্রে পরে ভয়ংকর  ভবিষ্যতের দিকে পা বাড়াচ্ছে। আর সেখানে কথিত উচ্চবর্ণীয় লোকেরা অত্যাধুনিক পদ্ধতিতে নবাগত ব্রাহ্মণ্যবাদ সৃষ্টি করে তথাকথিত নিম্নবর্গীয় অন্ত্যজ জাতিগোষ্ঠী বংশধরদের উপর শোষণ চালাবে যদি না এই সকল জাতি বা উপজাতি গোষ্ঠী সু-শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে মূল ইতিহাস জেনে এখনো সোচ্চার না হয়। নিম্নে ধর্মহীন সেই সকল নিম্নবর্গীয় জাতি এবং উপজাতি গোষ্ঠীর নাম তুলে ধরা হলো ---

১) নমঃশূদ্র ২) পৌণ্ড্রক্ষত্রিয় ৩) রাজপুত ৪) ঘাটোয়াল 

৫) তাঁতী ৬) শাখারী ৭) কর্মকার ৮) স্বর্ণকার ৯) কাঁশারী

১০) কুমোর  ১১) সদগোপ ১২) গোয়ালা ১৩) মালাকার

১৪) নাপিত ১৫) বারুই ১৬) বার্ণওয়ার  ১৭)তিলি ও তেলি ১৮) সদগোপ ১৯) গন্ধবনিক  ২০) সূত্রধর ২১) সুবর্ণবনিক  ২২) সাহা ২৩) কপালি ২৪)পাটিয়াল ২৫) পাটনি ২৬) চাষী কৈবর্ত ২৭) জালিয়া কৈবর্ত ২৮) ময়রা 

২৯) হালুই ৩০) কুণ্ডু ৩১) আগুরী ৩২) দলুই ৩৩) কুর্মি ৩৪) খেয়াতিলাম ৩৫) পরাশর দাস ৩৬) গরার  ৩৭) ধোপা ৩৮) স্যাকরা ৩৯) বৈষ্ণব ৪০) ডোম ৪১) যোগী ৪২) গাড়ওয়ারা ৪৩) চর্মকার ৪৪) কর্মকার ৪৫) সূত্রধর

৪৬) ভূইমালি ৪৭) কোচ ৪৮) রাজবংশী ৪৯) শূড়ী ৫০) খাটবা ৫১) বেলদার ৫২) কাচার ৫৩) কোইরি ৫৪) হানসি ৫৫) চুনরি ৫৬) মাটিয়াল ৫৭) তিয়র ৫৮) জালিয়া ৫৯) ঝাল ৬০) মল্ল ৬১) মাঝি ৬২) পাতুর ৬৩) বৈতি ৬৪) বাগদি ৬৫) দুলিয়া ৬৬) মুরিয়ারি ৬৭) লহেরি বা নুরি ৬৮) রাওয়ানী কাহার ৬৯) মাল-সাপুড়ে ৭০) রবি দাস ৭১) ঋষিদাস ৭২) বাঁশফোর ৭৩) বাল্মিকী ৭৪) হেলা ৭৫) হাড়ি ৭৬) মেথর ৭৭) লালবেগী ৭৮) বেদিয়া ৭৯) শিকারী ৮০) বাথুয়া ৮১) তেলেগু ৮২) তামিল ৮৩) নাগরচি ৮৪) বাহলিয়া ৮৫) বাউরি ৮৬) বিন্দ ৮৭) চাঁই ৮৮) দুসাদ ৮৯) পাসি ৯০) পান ৯১) পাহান ৯২) কাউরা ৯৩) মন্ডাই ৯৪) বুনো ৯৫) গারো ৯৬) শুড় ৯৭) ভুমিজ ৯৮) ভূইমালি ৯৯) নট ১০০) জেলে ১০১) শবর

এছাড়াও আরো কিছু জনজাতি আছে যার নাম আমার অজানা।


★ তপশিলি বা অন্ত্যজ জাতি (চন্ডাল সহ) এবং উপজাতি গোষ্ঠীর উদ্ধারকর্তা হিসেবে যে ভগবান এসেছে, যার জন্য এসেছেঃ--


উপরোল্লিখিত তপশিলি বা অন্ত্যজ জাতি এবং উপ জাতিগোষ্ঠীর জন্য এই বিশ্বে শ্রীশ্রীহরিচাঁদ ঠাকুরের পূর্বে প্রকৃতপক্ষে কোনো ভগবান বা মুক্তিদাতা আসছে বলে ইতিহাসের পাতায় সুস্পষ্টভাবে পরিলক্ষিত হয় না। এই নিম্নবর্গীয় তপশিলি বা অন্ত্যজ জাতি এবং উপজাতির ধর্মীয় ও মৌলিক অধিকার সহ সকল প্রকার অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য একমাত্র শ্রীশ্রীহরিচাঁদ ঠাকুর এই ধরাধামে আবির্ভূত হয়েছিলেন।


এবার পূর্নব্রহ্ম পূর্ণানন্দ শ্রীশ্রীহরিচাঁদ ঠাকুরের আসার কারন সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক----

                •তৎকালীন ভারতবর্ষ তথা বাংলার সমাজ ব্যবস্থায় ব্রাহ্মণ্যবাদীদের অত্যাচারে নিন্মবর্গের মানুষ যখন মানুষের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত, মন্দিরে গিয়ে ভগবানের আরাধনা থেকে বঞ্চিত, যেখানে নিন্মবর্গের মানুষের সংস্পর্শে মন্দির অপবিত্র হয়ে যেত ঠিক তখনই ঠাকুরের অবতীর্ণ হওয়ার প্রয়োজন দেখা দিল। তাইতো---দুনিয়ায় যারা উৎপীড়িত, যারা বঞ্চিত, যারা শোষিত, যারা লাঞ্ছিত, যারা উপেক্ষিত, যারা নির্যাতিত, যারা নিপীড়িত, যারা নিষ্পেষিত, যারা অবহেলিত, জীবনভর যারা শুধু দিলেই পেলেনা কিছুই, মানুষ যাদের চোঁখের জলের হিসেব নিলেনা; তাদের বেদনা তাদের করুন কান্নায় দ্যুলোক থেকে ভ্যূলোকে নেমে এনেছিল পতিতের পরিত্রাতা তথা তপশিলি বা অন্ত্যজ জাতি বা উপজাতি গোষ্ঠীর মুক্তিদাতা পূর্ণব্রহ্ম শ্রীশ্রীহরিচাঁদ ঠাকুর।

     ঠাকুর এসেছিলেন ---

              "অন্ধজনে দিতে আলো, অমানীকে মান,

                ওড়াকান্দী আবির্ভূত হল ভগবান ।

                হরিচাঁদ যেই আলো প্রথম জ্বালিল,

                 গুরুচাঁদ শতগুনে বর্ধিত করিল।।"

পূর্ণব্রহ্ম শ্রীশ্রীহরিচাঁদ ঠাকুর ও তৎপূত্র শ্রীশ্রীগুরুচাঁদ ঠাকুরের আগমনে ব্রাহ্মণ্যবাদের ধ্বংসের দামামা বেজে উঠল। শ্রীশ্রীহরিচাঁদ ঠাকুর এসে পতিতের মুক্তির জন্য প্রবর্তন করলেন মতুয়া মতবাদ, যেটা ব্রাহ্মণ্যবাদের বিরুদ্ধে এক মহা বিপ্লব। পতিত জাতির উদ্ধারের জন্য পূর্ণশক্তি ধারন করে পূর্ণব্রহ্ম শ্রীশ্রীহরিচাঁদ ঠাকুর এই পৃথিবীতে এসে ব্রাহ্মণ বা ব্রাহ্মণ্যবাদীদের সৃষ্ট সকল জাতপাতের জাতাকল থেকে নিম্নবর্গের মানুষের মুক্তির জন্য এবং তিনি বিশ্বের সকল মানব জাতিকে একত্রে মিলিত করার উদ্দেশ্যে বললেন--

            "নরাকারে ধরাপরে যতজন আছে।

          একজাতি বলে মান্য পাবে মোর কাছে।।"

তাইতো সূক্ষ্ম সনাতন ধর্ম বা মানবতাবাদী মতুয়া ধর্মের মূলনীতি হিসেবে শ্রীশ্রীহরিচাঁদ ঠাকুর বলেছেন --

           "জীবে দয়া নামে রুচি মানুষেতে নিষ্ঠা 

             ইহা ছাড়া আর যত সব ক্রিয়া ভ্রষ্টা।।"

এখানে শুধু গন্ডিবদ্ধ সম্প্রদায় ভূক্ত জাতিগোষ্ঠীর কথা উল্লেখ করা হয়নি। এখানে বিশ্বের সকল জীবের প্রতি সমজ্ঞানে দয়া, যার যার ইষ্ট দেবতার নাম বা হরিনামের প্রতি রুচি রাখা এবং বিশ্বের সকল মানুষ একে অপরের প্রতি সহযোগিতা, সহমর্মিতা পোষণ পূর্বক ভালবাসা, মানুষের প্রতি নিষ্ঠা রাখা ও প্রেমের কথা বলা হয়েছে।

                     

বুধবার, ৫ অক্টোবর, ২০২২

প্রাচীন ভারতের ইতিহাস

 প্রাচীন কালে ভারতকে বলা হত জম্বুদ্বীপ। আর্য শাসন কালে এর নাম হয় আর্যাবর্ত।  এই আর্যাবর্তের বিস্তার ছিল উত্তরে গান্ধার থেকে দক্ষিণে সৌরাষ্ট্র পূর্বে কাশী পশ্চিমে পাকিস্তানের পশ্চিম সীমানা আবধি। তবে বর্তমান মধ্য ভারতের বিন্ধ্যপর্বত আর্যরা অতিক্রম করে নি।

 পূর্বে বঙ্গদেশ সমগ্র মধ্য ভারতের আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকা এবং নেপাল ও পূর্বভারতের বর্তমানের অনেক রাজ্যই তৎকালীন বঙ্গদেশের মধ্যে ছিল। দক্ষিন ভারতের দ্রাবিড় মূল ভাষাভাষিদের বাসভুমি আলাদা ছিল। তখন এই তিনটি অঞ্চল কৃষ্টি জনগোষ্ঠী ভাষা ও শাসকের

সাথে আলাদা ভাবে পরিচিত ছিল। আর্যাবর্তের অনেক শাসক মূলভারতীয় ছিলেন এবং জনগোষ্ঠীও মূল ভারতীয় ছিল। আর্যাবর্তে বৈদিক প্রথা প্রচলিত ছিল। বাকি দুটি অংশে তা ছিল না।


    বঙ্গদেশ তখন মগধের সাথে অভিন্ন ছিল। এই দেশের অধিবাসীরা বোঙ্গার উপাসক হওয়াতে তারা নিজেদের বাসভূমির নাম বঙ্গ পরিচয় দেয়। আজও বোঙ্গার উপাষকরা ভারতে বিদ্যমান। মারাংবুরুও আদিবাসীদের নিকট বিশেষ সম্মানিত। আর্য সংস্কৃতির সাথে এইসব জনগোষ্ঠীর কোন সম্পর্ক নাই। অর্থাৎ এরা মূল নিবাসী ভারতীয়। গৌতমবুদ্ধ মূল ভারতীয়দের ধর্ম বা সংস্কৃতিতে কোন পরিবর্তন করার পক্ষপাতি ছিলেন না। তিনি মানুষের চরিত্র গঠনে তথা  সংশোধন করার শিক্ষা দেন। তাই সমগ্র মূলনিবাসী তার শিক্ষা গ্রহণ করে। বৈদিক সংস্কৃতিতে বিশ্বাসী আর্যাবর্ত নিবাসীরা তাঁর যুক্তিবাদী মতবাদের কাছে নিজেদেরকে "ভ্রান্ত মতে"র বলে বুঝতে পারে এবং নিজেদের সংশোধনের জন্য তারা বুদ্ধের অনুগামী হন। কট্টর আর্যরা দেশ ছেড়ে দ্রাবিড় অঞ্চলের জঙ্গলে চলে যায়। বর্তমান কেরলে তাদের অস্তিত্ব প্রমাণ করে। ঐ গোষ্ঠীর ব্রাহ্মণেরা বর্তমানে ভারতের সমস্ত বড় বড় মন্দিরের পুরোহিত। তাদের সংস্কৃত ভাষা কেরলের একটি মাত্র গোষ্ঠীর কথ্যভাষা। শেষ 2011 সালের লোকগনণায় তাদের সংখ্যা 16 হাজারের একটু বেশী জানা গেছে, যা অনুমান করা যেতে পারে বুদ্ধের সময়কার একটি মাত্র পরিবার হলেও হতে পারে।


   বর্তমান ভারত 1947 সালে খন্ডিত হয়।  বৃটিশ ইন্ডিয়ার যে অংশে পাকিস্তান গঠন করা হয় তা প্রকৃতপক্ষে আর্যাবর্তের অংশ। এই আর্যাবর্তের নাম হস্তিনাপুরের রাজা  শান্তনু ও শকুন্তলার পুত্র ভরতের নামানুসারে ভারত রাখা হয়েছিল। অর্থাৎ আজকের ভারত বা ইন্ডিয়া সে ভারত নয়। ইন্ডিয়ার অধীনস্থ দ্রাবিড় ভূমি এবং মগধ বা পরবর্তীতে বঙ্গালই বর্তমান ভারত। এর সমস্ত বসবাসকারী মূলনিবাসী ছিল ( ব্যতীত স্বল্পসংখ্যক বৈদিক যারা মন্দিরে পুরোহিত মাত্র)। 1192 খৃ. মুসলমান ধর্মের যোদ্ধারা ভারতের কান্দাহার হয়ে সিন্ধু নদের পশ্চিমপাড় দখল করে নেয় এবং হিন্দুস্থান নামক রাজ্য স্থাপনার সূচনা ঘটায়। ক্রমে তারা দিল্লীতে রাজধানী স্থাপন করে ও হিন্দুস্থানে মুসলমান রাজত্বের ইতিহাস তৈরী করে। চাতুরবর্ণ ব্যবস্থার শাসকরা তাদের কাছে হার স্বীকার করে। পরে তারা মুসলমানদের শাসনে সহায়তা করে এবং পাকাপোক্ত মুসলমান রাজত্বের প্রশাসনে অংশ গ্রহণ করে। 1757 সালে পলাশীর যুদ্ধে সিরাজদ্দৌলাকে হারিয়ে ভারতে ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর রজত্ব শুরু হয়। পরে কোম্পানীর হাত থেকে বৃটিশ সরকার শাসন ক্ষমতা অধিগ্রহণ করে। 1947 সালে ভারত স্বাধীনতা লাভ করে। শাসন ক্ষমতা হস্তান্তর হয় আর্যাবর্তের দুই নেতা জিন্নাহ ও জওহরলালের হাতে। ভারতকে খন্ডিত করা হয়। তবে তামিলনাড়ুর পেরিয়ার যিনি আলাদা স্বাধীন  দ্রাবিড়ভূমি চেয়েছিলেন তার দাবি মানা হয় নি। তেমনি অবিভক্ত স্বাধীন বাংলার দাবি জানান বাংলার সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষদের প্রতিনিধিরা। তাদের মধ্যে হিন্দু মুসলমান দুইই ছিল। ছিলনা ব্রাহ্মণ দলের প্রতিনিধিরা। ফলে বাংলা শুধু যে শাস্তি পেল তাই নয়, বাংলা বলে আর কিছু থাকল না । দু'টুকরো করে বেশীটা দিল পাকিস্তানকে একটুকরো রাখা হল হিন্দুস্তানে। বাঙ্গালী কেউ থাকল না- হয় ভারতীয়, নয় পাকিস্তানি হল।

 তাহলে স্বাধীনতা কারা পেল? যারা আর্যাবর্তের লোক তারা লাভবান হল দুভাবে। এক, তাদের আলাদা দেশ তারা পেল। দুই , তারা পুরস্কৃত হল বাকি ইন্ডিয়ার শাসন ক্ষমতার দখল পেয়ে। এরাই একসময় বিদেশ থেকে ভারতে এসে ভারতকে শাসন ও শোষণ করত। আজও করছে। তাহলে বৃটিশ কাকে ক্ষমতা হস্তান্তর করল? যারা নিজদেশে পরাধীন তারা স্বাধীনতা চাইতেই পারে। আমার প্রশ্ন হল কবে তারা নিজেদের শাসন ক্ষমতা দখল করতে চাইবে?