রবিবার, ১ ডিসেম্বর, ২০১৯

মতুয়ার সম্ভাব্য উৎপত্তি।। ** দ্বিতীয় পর্ব **

শ্রীশ্রী হরিগুরুচাঁদ জয়তুঃ।।


তথাকথিত ভারতীয় উপমহাদেশে, যাহার মধ্যে পাকিস্তান, বাংলাদেশ, শ্রীলংকা, ইন্দোনেশিয়া, এমনকি চিনদেশটি ও আমার লেখার তথ্যের আওতা ভূক্ত।সেই সহ বর্তমান ভারতের বিভিন্ন অঙ্গ রাজ্য বা প্রদেশের মধ্যে বিভিন্ন জনজাতির বসবাস তেমনই বিভিন্ন ভাষা ভাষীর ও প্রচল ঘটে,ফলে বহু গোষ্ঠী বা সম্প্রদায়ের সৃষ্টি হয়।এটাই বাস্তব যাহার জলন্ত প্রমান ভারতীয় ইতিহাস।সেইসব সম্প্রদায়ের মধ্যেই যে যাহার মাতৃভাষাকেই প্রধান্য
দিয়ে থাকেন আর সেটা বলার অপেক্ষা রাখেনা। উল্লেখ রাখা ভালো( প্রাচিন ভারত বর্ষ তখন সরকারি শাসন ব্যাবস্থা ছিলনা, তখন আর্য্যদের ৪টি প্রধান মন্দির দ্বারাই ভারত বর্ষের সমাজ সংস্কার বা শাসন ভার নিয়ন্ত্রিত ছিল, সেই মন্দির ভারতবর্ষের প্রধান চারটি জায়গায় স্থাপিত যা আজও তার স্মৃতি চিহ্ন বহন করে চলছে, এবং নতুন আংগীকে উন্নত মানের কাঠামোয় আবৃত।) 'যাহোক কালক্রমে ঐ সম্প্রদায়ের মধ্যেই কোন কোন দেব দেবতাকে উপাস্য হিসাবে চিহ্নিত করে,এমনকি কোনও কোন  সম্প্রদায়ের মধ্যে থেকেই কোন ব্যাক্তি বিষেস কাউকে প্রধান্য দিয়ে তার দর্শন অনুযায়ী তার নামে সম্প্রদায় থেকে ধর্মীয় নামে ধর্ম শাখায় রুপান্তরিত করেন।এবং সেটা যার যার সীমানা ভিক্তীক, বর্তমান রাজ্য /প্রদেশ অনুশারেই স্বীকৃত অথবা বিদ্যমান হয়। এ-ই ধর্ম শাখা বা সম্প্রদায় গুলি সরকারী শাসন ব্যাবস্থা চালু হওয়ার পরে কিছু কিছু সরকারীভাবে তালিকা ভূক্ত করেন।এখানে জরুরি ভা
বে উল্লেখ রাখা দরকার**-
**--**,(শুধু ভারত বর্ষই নয় পৃথিবীর মধ্যে যত ধর্ম মত প্রচলিত হয় বা হবে তাহা কোন সরকার প্রাথমিক ভাবে স্বীকৃতি বা তালিকা ভূক্ত করেনা, সেই সম্প্রদায়/ধর্মকে, নিজেদের করেই প্রচলন করতে হয়।পরবর্তী পর্যায়ে জনসংখ্যা ও তার গুনা বলী বিচার করে সরকার স্বীকৃত বা তালিকা ভূক্ত করে নেয়)
*****------***-**-*-**
ভারতীয় পৌরানিক গ্রন্থাবলীতে ঐসব ধর্ম শাখার পরিমান প্রায় সারে চার হাজার থেকে সারে ছয় হাজারের মতো। পরবর্তী কালে ঐই ভারত বর্ষেই অন্য মহাদেশ বা অন্য দেশ থেকে জনজাতির বসবাস শুরু করেন। কেহ বানিজ্য হিসাবে কেহবা ভালো লাগার কারনে কেহবা প্রতিষ্ঠা পাওয়ার তাগিদে। মজার ব্যাপার হলো সেই সব মানুষ কাল ক্রমে ভারতের রাজ ক্ষমতাও এক সময় দখল করে নেয়, ফলে তাদের দেশে যে ধর্মীয় সাবজেক্টের উপর তারা ছিলেন,, সেই ধর্ম মত পথও ভারত বর্ষের মধ্যে বিস্তারিত হল,। ফলে ভারত বর্ষের রুপ নেয় বহু ভাষা বহু ধর্ম বহু সম্প্রদায়। যাহা কিনা বৈদেশিক শাসন ব্যাবস্থা চলে যাওয়ার পরও
ভারতের মানুষের হাতে রাজ শক্তির প্রভাব ঘটলেও
একক কোন ধর্ম শাখাকে রাষ্ট্রীয় ধর্ম হিসেবে স্বীকৃতি
প্রদান করতে পারেনি।(অবশ্য বিদেশীরাও পারতেন না) তাইতো ভারতীয় সংবিধানে দাঁড়িয়ে
বলতে হয় ভারত ভূমির বৈশিষ্ট্য হচ্ছে বহুত্ব্যের মধ্যে এককত্তা বা বৈচিত্রের ভারত যাহা (সীমার মাঝে অসীম)।। স্বামী বিবেকান্দের ভাষায় মানবতাবাদী ধর্ম।। কিছুটা ইতিহাস তুলে না ধরলে নয়, অবশ্য আমার পান্ডুলিপিতে বিভিন্ন বিষয়ের উপর সাধ্যানুসারে সংগ্রহ করে রেখেছি এবং ভারত বর্ষের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ সম্প্রদায়ের তথা তাদের কৃষ্টির বিষয় একটা জানার অদম্য আগ্রহ আমার ছিলো শুধু যে মতুয়াদের জন্য তা নয় ভারত বর্ষকে জানার জন্য।সেটা কতটুকু সমাপ্ত করতে পারব জানিনা। তবে একটা কথা জোর গলায় বলতে পারি ভারত বর্ষকে যে জানতে পারবে পৃথিবীর অন্য দেশের সম্পর্কে ও তার ধারনা বেশির ভাগই জন্ম নেবে,, এটা আমি মনে করি।। যা হোক নিজের প্রতিষ্ঠাকে আমি মান্যতা দিতে রাজী নই।।তাই যতটুকু ইতিহাস মতুয়া উৎপত্তির বিষয় প্রযোজ্য মনে করি সেটা প্রকাশ না করলে অসমাপ্ত থেকে যাবে।এমনকি গতানুগতিক পূর্বাপর না হলে ঐতিহাসিক ভাবে মতুয়া উৎপত্তি লেখার কোন মানেই হয়না।।যাহা হোক ঐসব প্রচলিত ধর্ম শাখার মধ্যে প্রধান্য হিসাবে উঠে আসে যথাক্রমে, আর্য, জৈন,শিক,বৌদ্ধ,সনাতন,হিন্দু ইসলাম, বৈদিক, খৃষ্টান ইত্যাদি।। লক্ষ্যনীয় হলো তৎকালীন বঙ্গবাসী বা বাংলা ভাষীদের মধ্যে উল্লেখ যোগ্য প্রধান ধর্ম শাখা গুলোর সবটি প্রচলন ঘটেনি,বিষেস করে বাংলা বলয়ের মধ্যে, সনাতন,হিন্দু, বৌদ্ধ,কিছু ইসলাম, এবং হাতে গনা কিছু কিছু খৃষ্টান ধর্মের মানুষ,।বৈষ্ষব  শব্দটির উৎপত্তি ভূত পূর্ব হলেও সেই নামে কোন সম্প্রদায় বা ধর্মের প্রচলন তখনও ঘটেনি।।কালক্রমে বৈদিক গন সনাতন ধর্মের মূল ধর্ম গ্রন্থ বেদকেই প্রধান্য দেয় যাহা কিনা তথাকথিত আর্য্য হিন্দুদেরও প্রধান গ্রন্থ
হিসাবে বিবেচিত,।। ধর্ম শাখার নাম ভিন্ন হলেও গ্রন্থে বা দর্শনের ব্যাপারটা এক। অবশ্য এ-ই সিদ্ধান্তে কিছু আর্যগণ বা বৈদিক গন এখনও দ্বিমত পোষন করেন। তবে তন্মধ্যে কিছু জ্ঞানী ব্যাক্তি বৃহত্তর ঐক্যের স্বার্থে হিন্দু ধর্মকে সামনে রেখে সনাতন হিন্দু ধর্ম বা সনাতনী হিন্দু ধর্ম হিসাবে চিহ্নিত করেছেন।। যা কিনা আপনি /আমি বাংলা ভাষীদের মধ্যে বলে থাকি।।তবে ঐসকল ধর্মের মধ্যে তখন বাংলার ভিতর কোন মহা পূরুষের আবির্ভাব ঘটেনি। পর্যাক্রমে সনাতন বা হিন্দু ধর্ম যেটাই আমরা বলিনা কেন বাংলায় বা তথাকথিত
বঙ্গে এক কালজয়ী, কিংবা মহাপূরুষ বা অবতার পূরুষ 
অথবা বঙ্গের হিন্দু বা সনাতনধর্মের ভাগ্য বিধাতা রুপে চৈতান্য মহাপ্রভু জন্ম গ্রহন করলেন।।
     ৷         (চলবে)পরবর্তী অংশের জন্য অপেক্ষা করুন।। যে কোন ভুল শোধরাতে আমার কৃতজ্ঞতা রইল।। হরিবোল।

কোন মন্তব্য নেই: