রবিবার, ১ ডিসেম্বর, ২০১৯

মতুয়ার সম্ভাব্য উৎপত্তি।। ** তৃতীয় পর্ব **

শ্রী শ্রী হরিগুরচাঁদ জয়তুঃ।

দ্বীতিয় পর্বের উল্লেখিত বিষয় সমুহের মধ্যে দেখতে পেলাম। বৈদিক, আর্য্য,  সনাতন,বৃহত্তর স্বার্থে প্রবল মতানৈক্য /মতান্তর থাকা সত্ব্যেও (সনাতন হিন্দু ধর্ম) নামে চলতে থাকলেন বা এখনো সেই নামেই বেশির ভাগ চলে,, তবে কিছু মানুষ   এখনো তারা আদি ধর্ম সনাতন ধর্ম বলেই জানেন, তারা সোনাতনের সংগে কোন রুপ মিশ্রন দেখতে পছন্দ করেন না। সেটা তাদের ভালো লাগা হোক, একনিষ্ঠতা হোক,আস্থা বিশ্বাস হোক, তাদের কাছে সনাতনধর্মই সার কথা।দুঃখের বিষয় সেই দাবীটা যারা জোরের সহিত করেছেন তারা একটা জায়গায় মকরশার জালের মত বন্দী, সেই সংগে সনাতন ধর্ম বলে যারা জোর দাবী করেন তারা বেশির ভাগই বঙ্গবাসী বা বাঙালি,।।,যখনই দেখলেন সনাতন ধর্মের নাম আছে তার (মুলধর্ম গ্রন্থ নেই) যে দর্শন তাহা বৈদিক, আর্য্য,বা হিন্দু ধর্মের নামেই খ্যাত, বলার অপেক্ষা রাখেনা( মকরশার জাল)একটা কথা না বললে নয়,, যারা  সনাতনধর্ম আদি ধর্ম জেনে আসছেন তাদের বিশ্বাস ভারতের আদি সভ্যতা দ্রাবিড় সভ্যতা, এটা ঐতিহাসিক সত্য,,এ-ই সভ্যতার মধ্যে থেকেই আর্য্য সভ্যতায় রুপান্তরিত হয়।। তথাকথিত আর্য্যরাই ভারতবর্ষের শিক্ষীত জাতী, এবং তাদের মত করে তারা  তাদের যাবতীয় দর্শন তৈরী করেন,,।। ফলে দ্রাবিড় সভ্যতার কম শিক্ষিতরা (আর্য্যরা) যেভাবে চালিয়েছে সেই ভাবেই চলতে হয়েছে।।এবং সেখান থেকে ই তাদের আদি মানুষ, আদি ধর্ম সনাতন, আদি ভারতবাসী,, এ-ই ধারনাটা পোষন করে আসছে।। এবং সেখানেই জাতি ভেদের বিজ বপন করা হয়েছে,,।।  একই সভ্যতার মানুষ হয়ে কাল ক্রমে একাধিক সভ্যতা বা একাধিক ধর্ম শাখার রুপ নেয়। বর্তমানে ভারতের আদিবাসী বলে আমরা যাদের চিহ্নিত করি বা এসটি, এস সি, কিংবা ওবিসি সম্প্রদায়ের মানুষ তাদেরই উত্তরশূরি।।এ-ই জন্য হরিচাঁদ ঠাকুর  বলেছিলেন,, আমি প্রচারিব গূঢ়গম্য সূক্ষ্মসনাতন ধর্ম (এ একটি কারন উল্লেখ রাখা হল পষ্চাতে বলব)যে কথায় যাব চৈতন্য দেব ছোট বেলার নাম নিমু, নিমাই মিশ্র, পিতা জগন্নাথ মিশ্র,গৌরাঙ্গ, গৌড় সুন্দর,মহা প্রভু,ও চৈতান্য দেব। কেউ বা ভগবান, কেহ বা ইশ্বরঃ, কেহ বা অবতার তাকে আখ্যা দিয়েছেন।।আমি তাদের সাথে একমত,, তবে আমার লেখার মাধ্যমে (ইশ্বর বা ইশ্বরঃ পূরুষ) বাদেই বর্ণনা করব কারন যতদুর পারি ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী চেষ্টা করছি,,।। তবে আমার ভাষায় গৌড় সুন্দরকে কি বলব তার যে কতগুন কি নামে ডাকব তার অনন্ত কর্মপন্থা , তাই তিনি আমার দৃষ্টিতে মানব সুন্দর বললে কম হয়।। তিনি মানব মহা সুন্দর।। তথাকথিত বঙ্গবাসী বঙ্গভাষী দের বা সনাতন ধর্মের প্রতি যাদের আজও একনিষ্ঠ আস্থা বিশ্বাস তারা কালজয়ী, বলেন, মহাপুরুষ বলেন,ত্রাতা কিংবা কান্ডারি বলেন  সকল গুনের অধিকার অর্জন করে মানুষের পাশে দাড়াতে লাগলেন গৌড়সুন্দর প্রথমেই তিনি অল্প বয়স থেকেই বেদ বেদান্তের বিষয়ে পারদর্শিতার চরম উচ্চ পর্যায়ে লক্ষ্য ভেদ করেন।। এবং যে যে ভাষায়  বেদ লেখা ছিল সেই ভাষাকে রপ্ত করেন। যাহা কিনা ঐ সম সাময়িক কোন ব্রাহ্মন পন্ডিত, কিংবা কোন আর্য্য পন্ডিত গন ঐ বয়সে কেহ অর্জন করতে পারেনি।। ঐ সময় পালা করে শাস্ত্রীয় তর্ক যুদ্ধ হতে,,কোন এক সময় তার প্রতিভা দেশ দেশান্তরে ছড়িয়ে পড়ায়,, তর্কযুদ্ধের পন্ডিতদের মধ্যে একটি প্রতিহিংসার সৃষ্টি হয়।এ-ই বালক যা শাস্ত্রীয় ব্যাখা দিয়ে মানুষকে তার পক্ষে নিচ্ছে আমরা সেই শাস্ত্রের রচনা কারী বা প্রনেতা হয়েও নিমাই এ-র কাছে হারতে হচ্ছে।। তারা নিমাইকে সর্বোচ্চ জবাব দেওয়ার জন্য,, আরও একটি শাস্ত্রীয় বিতর্ক সভা করলেন,, বিপক্ষে তৎকালীন মহা পন্ডিতজ্ঞ শ্রী হাড়াই পন্ডিত মহাশয়।। তার কাছে সকল পন্ডিত গন হেরে যেতে তাই তার নাম করন হাড়াই পন্ডিত।। সেখানে নিমাই হেরে যাবে ধরে নিয়েই, তাকে শাস্ত্রীয় দর্শন থেকে অবসর নিতে হবে এব্যাবস্থা তারা পাকা পোক্ত  ভাবেই করে রেখে ছিলেন।। কিন্তু সেটি নিমাই এ-র প্রতিটির শ্লোকের ব্যাখায় বিপক্ষের পন্ডিত মহাশয় হেরে যায়।। কি ছিল সেই ব্যাখায়,, আগামী পর্বে।। কেহ ভাবছেন মতুয়ার উৎপত্তিতে নিমাই বা গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর এতটা না টেনে সহজে,,কিছু লিখে ভালো হতোনা। না হতেনা গৌড় সুন্দরের ব্যাখার মমার্থেই মতুয়া দের সূচনার বেশ কিছু ইঙ্গিত বহন করবে।।পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন।।জয় হরিবোল।। যে কোন ত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।।

কোন মন্তব্য নেই: