রবিবার, ১ ডিসেম্বর, ২০১৯

মতুয়ার সম্ভাব্য উৎপত্তি।। ** ষষ্ঠ পর্ব **

শ্রীশ্রীহরিগুরুচাঁদ জয়তুঃ।।

পঞ্চম পর্বের সঙ্গে থাকা সবাইকে প্রনাম ভালো বাসা জানিয়ে শুরু করছি
     ***-****-----****   
শ্রী কৃষ্ণকে মহা প্রভু অন্য রুপে তুলে ধরলেন।।আমরা যদি মহাভারতের দিগে লক্ষ্য করি,,  সেখানে দেখবেন- শ্রী কৃষ্ণ এবং অর্জনের বাদানুবাদ।। এবং এক ধর্মরাজ্য বা সামরাজ্য প্রতিষ্ঠা গড়ার লক্ষ্যে,, যুদ্ধ বিগ্রহে যে যাহার মত তৈরী হচ্ছে ও যুদ্ধ করছে।। লক্ষ্যনিয় বিষয় হলো
মহা ভারতের মধ্যে মুনিঋৃষী সহ দেব দেবী এমনকি দেবতা উপদেবতার,, চরিত্রের শেষ নেই।। তেমনই তাদের কৌশলগত রন নিতীরও শেষ নেই।। অতএব যুদ্ধেরও শেষ নেই,, মজার ব্যাপার হলো --ঐ মহা ভারতের  চরিত্রের মধ্যে যার সাথে যার,,বা যে গ্রুপের সংগে,, যে গ্রপের যুদ্ধ হোকনা কেন কৃষ্ণই তার চালিকা শক্তি।।যাকে এক কথায় পরিচালক ও প্রযজোক বলা হয়।।আরও একটি বিষয়,, মহাভারতেই একাধিক কৃষ্ণকে দেখা যায়।। কখনও দ্বিভুজ,,কখনও  চতুর্ভুজ, ইত্যাদি এবং এ-ই কৃষ্ণদের বর্ন  (গায়ের রং)অতি উজ্জ্বল ও রাজকীয় আভারনে আবৃত।। এ-র যথার্থ সত্যতা চলমান বৈদুতিন টি ভি সিরিয়ালে।। মহাভারতকে উদৃত করে কৃষ্ণকে নিয়ে দীর্ঘ মেয়াদি সিরিয়াল,, দেখলেই বুঝতে আর অসুবিধা হবেনা।সর্বশেষ মহাভারতের গ্রন্থে যত কৃষ্ণই হোক।। তারা শুধু ঐশ্বর্য,, প্রায়ুর্য্য, রাজ ক্ষমতা, শৌর্য, শৌর্যবীর্য যুদ্ধং দেহি,, এবং জাতীত্ব্যের গৌরবের ছোয়া বেরিয়েছে।।সেটা কখনও ঘোষিত কখনও অঘোষিত।। আরও যেটা লক্ষ্যনীয় মহাভারতের কৃষ্ণের চরিত্রের মধ্যে শ্রী মতি রাধিকার বিস্তার বা প্রভাব ঘটেনি। তাহলে প্রশ্ন আসতেই পারে,,আমরা  বঙ্গ বা বাংলা ভাষীদের মধ্যে,, যে কৃষ্ণের ধর্মীয় ভাবে যুগলপ্রেমে বন্দী মনের মাধুরী মিলিয়ে রাধা কৃষ্ণকে-দেখি।। (রাধারুপে তনু পোড়া  বৈষ্ণবীয় ভাষা) বঙ্গীয় বৈষ্ণবদের এবং বাংলা ভাষী সনাতন বা হিন্দু ধর্মের।। প্রতি গৃহে গৃহে যার ছবি রেখে পুজা করা হয়, সে কোন কৃষ্ণ-?বৈষ্ণবীয় একশ্রেনীর মতবাদ মথুরা জেলার বৃন্দাবনে শ্রীকৃষ্ণ,, লীলা করতেন বিভিন্ন সখা সখীরা তার সহিত মিলিত হতেন।। বিষেশ করে রাধা সখী কৃষ্ণের বিভিন্ন সখীদের চেয়ে,, বেশি কষ্ট বা ত্যাগ স্বীকার করেই কৃষ্ণের লীলা সংগীনি হতে পেরেছেন। তবে আরও একটি বিষয় প্রাচিন ঐতিহাসিক নিদর্শনে দ্বারকায় রাজত্ব করতেন এক কৃষ্ণ।।উল্লেখ রাখা ভাল দ্বারকার কৃষ্ণের বাস্তবতার সঙ্গে বৃন্দাবনের কৃষ্ণের তথ্যের ভিত্তিতে কোন মিল নেই।। সুতরাং মহা ভারতের কৃষ্ণ একাধিক,, তথা বাস্তবের মাটিতে দাড়িয়েও কৃষ্ণ একাধিক।। উল্লেখিত সকল কৃষ্ণের বিষয় -ই- চৈতান্য মহাপ্রভু জানতেন।।চৈতন্য মহা প্রভু তন্নধ্যে কৃষ্ণকে কি রুপে দাড় করালেন।। কি সেই নামের ব্যাখা। সেই সূত্রপাত  থেকে মতুয়ারা যে মূল মন্ত্র উচ্চারণ করে সেটিকি আবিষ্কার হয়েছে -? না বেদ পুরান গ্রন্থে যাকে ইশ্বরঃ বলে নির্ণয় করেছে।। তাকেই মূলাধার বা মহা মন্ত্র উচ্চারণ (নাম রুপে) হরিগুরুচাঁদ ঠাকুরের বাস্তব মুখী মতুয়া ধর্মের উন্নয়নের কর্ম যজ্ঞকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে -? তার আগে চৈতন্য দেবের কর্মকাণ্ডের কিছু কথা না লিখলে অসম্পূর্ণ থেকেই যাবে।।**-********--****
চৈতন্য দেব একজন দার্শনিক, একজন গবেষক, একজন সমাজ সংস্কারক(সেকালের) ইহাতে সন্দেহের অবকাশ নেই,, এটা আমি মনে করি।।  এখানে আরও একটি বিষয় লক্ষ্য করবেন, লেখার মাধ্যমে স্পষ্ট করছি।। চৈতন্য দেব মানুষের মধ্যে যখন নগরে বেরিয়ে হরিনাম,, প্রচার করতে করতে বক্ষালিঙ্গন দিয়ে মানুষকে জরিয়ে ধরতেন।। সেই মানুষটি কি হিন্দু, মুসলিম, কি উচু কিংবা নিচু এটা তিনি কখনও ভাবতেন না।। এবিষয়টা যেমন চৈতন্য দেবকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় বই পুস্তকে নিদর্শন আছে।। ঠিক একই ভাবে ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী তাহা সু নির্দিষ্ট ভাবে ও  প্রমানিত।।আজকের দিনে অনেকে মনুবাদের বা ব্রাহ্মন্য বাদের বিরুদ্ধাচারন, করি বা করে থাকেন।।এটায় আমিও একমত।। তবে ব্রাহ্মন্য বাদের নিতীর বিরোধীতা করতে গিয়ে ব্যাক্তি ব্রাহ্মনদের বিরোধিতা করায়,, আমি সম্পূর্ণ বিপরীতে।। কারন ঠাকুর হরি গুরু চাঁদের সু শিক্ষা অবলম্বন করে হিংসা দিয়ে, হিংসা উৎখাত করা যায়না।। তাহলে তো বিগত দিনের শাস্ত্রীয় দর্শনে যে ভাবে মানুষকে পদ দলিত করে- দাস,দাসী,ব্রাহ্মন,চন্ডাল করে রেখেছে,, সেটারই পূনঃ উৎথাপিত করা হয়।।
আমরা খাটি মতুয়ারা এ-ই বিভেদ পছন্দ করি না।। আশাকরি আমার সাথে অনেকে এক মত হবেন।।কারন ঐ শাস্ত্রীয় রোষানলে যে মানুষ গুলো বিভক্ত হয়েছে হরি গুরু চাঁদ তাদেরকেই নিয়ে এক মহা জাতি গঠন করেছে।। যেটা তার উত্তরশুরি হয়ে মতুয়ারা দিন দিন করে চলছে।। যাহোক চৈতান্য দেবের কর্মকাণ্ডের দিগটা,,বা নাম প্রচারের ভেদা ভেদ কে না মানাটা।  তৎকালীন ব্রাহ্মন্য বাদী সমাজ সংস্কারকেরা মেনে নিতে পারেনি
।। কারন চৈতন্য দেবের তৎকালীন জাতিভেদ প্রথার উর্ধে উঠে হরিনাম প্রচার করাটা ই ব্রাহ্মন্য বাদী সমাজ ব্যাবস্থার উপর চরম ভাবে কুঠার আঘাত হানা হয়েছে।। সেই কুঠার আঘাতের প্রত্যাঘাত চৈতন্য দেবকে কতটা বিপাকে,, ফেলেছে।। নাকিনা সেটাকে টপকে গিয়ে চৈতন্য দেব রাজ ক্ষমতা অর্জন করে গৌড়ের সাম রাজ্য বিস্তার করেন।।যাহার মধ্যেও  লুকিয়ে থাকতে পারে মতুয়া উৎপত্তির ইতিহাস।। সংগে থাকুন আগামী পর্বে।। ********
যে কোন ভুলের জন্য ক্ষমা প্রার্থী।।**********সবাই ভালো থাকবেন।। হরিবোল।।

কোন মন্তব্য নেই: