গত কয়েকদিন পূর্বে পড়েছেন বান্দা বাহাদুর সিং এর পূর্ব জীবন। অতঃপর তাঁর শিখ ধর্ম গ্রহণ এবং খালসা বাহিনীতে যোগদান।
যারা পড়েন নি, তারা পড়ে নিন।
আজ দ্বিতীয় পর্ব...
আওরঙ্গজেবের মৃত্যু হল।
অতঃপর বাদশা হলেন বাহাদুর শাহ। গুরু গোবিন্দ সিংকে সম্মান প্রদর্শন করলেন তিনি।
আপাতত সব শান্ত হল।
ততদিনে শিখ সাম্রাজ্য বিস্তার হয়ে গেছে অনেকটা। বান্দা বাহাদুর সিং প্রবলভাবে সফল হয়েছিলেন।
এই সময় তিনি এক যুদ্ধক্ষেত্রে একটি ছোট্ট বাচ্চাকে দেখতে পান, তিনি তাকে কোলে তুলে নিয়েছিলেন।
পরে খোঁজ নিয়ে জেনেছিলেন সেই বাচ্চার পিতামাতা দুজনেই মুঘল আক্রমনে মারা গিয়েছেন। তিনি তখন সেই বাচ্চাটিকে দত্তক নিয়েছিলেন।
কিন্তু কিছুদিন পর বাদশা হলেন ফারুখ শিয়র।
এদিকে দেশ জুড়ে মুঘল প্রভাব প্রায় তলানিতে।
বাড়ছে শিখ প্রভাব।
এরকম অবস্থায় বাদশা ফারুখ শিয়র সিদ্ধান্ত নিলেন যে, বান্দা বাহাদুর সিংকে যেভাবে হোক ধরতে হবে। এবং শিখ সাম্রাজ্য ধ্বংস করে পুনরায় মুঘল প্রভাব ফিরিয়ে নিয়ে আসতে হবে।
এমন এক ভয়ানক পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে যে এর পরবর্তীতে আর কেউ মুঘলদের বিরুদ্ধে যাবে না।
বলাবাহুল্য এই কাজের জন্যে তিনি তার আদর্শ ঠাকুরদা আওরঙ্গজেবের আদর্শ সামনে রেখে চলবেন বলে স্থির করলেন।
এদিকে বান্দা বাহাদুর সিং মুঘল সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে দিলেন এবং পাঞ্জাব অঞ্চলে মুঘল শাসনের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তুললেন। বান্দা বাহাদুর সিংয়ের বিদ্রোহ মুঘল সাম্রাজ্যের জন্য একটি বড় বাধা হয়ে উঠেছিল, কারণ তিনি একের পর এক যুদ্ধে মুঘল বাহিনীকে পরাজিত করে পাঞ্জাব অঞ্চলের একটি বড় অংশ দখল করে নিয়েছিলেন।
বান্দা বাহাদুর সিংএর উদ্দেশে একদল মুঘল রওনা দেয়। প্রায় লাখ খানেক সেনা ছিল সেই দলে।
বন্দী সিংহ:
তখন উপায়ান্তর না পেয়ে বান্দা সিং বাহাদুর এবং তার সঙ্গীরা গুরদাস নাঙ্গালের দুর্গে প্রবেশ করেন। এই সুযোগে মুঘল বাহিনী দুর্গ ঘিরে ধরে। সেখানে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন বান্দা এবং তাঁর সঙ্গীরা। একনাগাড়ে আট মাস ধরে চলে এই অবরোধ।
দুর্গ মধ্যে অবরুদ্ধ থাকা কালীন তাদের অবস্থা হয়ে শোচনীয়। অত্যন্ত কঠিন এবং নিষ্ঠুর পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে প্রতিটি দিন অতিবাহিত হত। দুর্গের ভেতর খাদ্য ও জল সরবরাহ করা হয় না। যাতে তারা দুর্বল হয়ে পড়ে।
দুর্গের অবস্থা ছিল এমনিতেই অত্যন্ত খারাপ, যেখানে তারা বসবাস করছিলেন।
বান্দা সিং বাহাদুর এবং তার সঙ্গীদের অবস্থা ছিল নিম্নরূপ:
খাদ্য ও জল সংকট তাদেরকে কাহিল করে তোলে। তারা দুর্বল হয়ে পড়েন।
এই কঠিন সময়ে বেঁচে থাকার জন্য সকল শিখ গাছের পাতা ও ছাল খেয়ে কোনক্রমে দিন অতিবাহিত করছিলেন।
তাদের সম্পর্কে রতন সিং তার কবিতায় লিখেছেন,
রੋਟੀ ਸ਼ੋ ਉਨ ਚੰਦ ਦਿਸ ਪਾਵੇ |
ਹੱਥ ਉਠਾਵੇੰ ਹੱਥ ਨੀਹਂ ਆਵੇ |
পূর্ণিমার রাতে, শিখ সিংহেরা, এত ক্ষুধার্ত হয়ে পড়তেন যে চাঁদকে রুটি ভেবে সেটা নেবার জন্য হাত বাড়াতেন কিন্তু হাত আর ওপরে উঠত না।
রতন সিং আরও বর্ণনা করেছেন, শিখ সিংহদের শরীর খুব দুর্বল হয়ে পড়েছিল।
ਓਪਰ ਹਡ ਨੀਹਂ ਦੀਸੈ ਮਾਸ |
।ਜਨ ਏ ਮੁਏ ਭਰਤ ਹੈ ਸਾਸ |
তাদের শরীরের প্রতিটি হাড় দেখা যাচ্ছিল, যেন মৃতদেহগুলি শ্বাস নেওয়ার জন্য সংগ্রাম করছে।
দুর্গের অবস্থা ছিল অত্যন্ত খারাপ, আসলে এটি এক প্রায় পরিত্যক্ত দুর্গ ছিল। বসবাসের অযোগ্য ছিল তবুও তারা সেখানে অধিষ্ঠান করছিলেন।
অস্বাস্থ্যকর স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশে থাকার জন্যে অনেকেই রোগ-ব্যাধিগ্রস্থ হয়ে পড়েন। ফলে তাদের অবস্থা আরও খারাপ হয়।
এদিকে মুঘল বাহিনী দুর্গের উপর উপর্যুপরি আক্রমণ চালায়, এর ফলে অবস্থানকারীদের অনেকে আহত হন। কিন্তু তারা কোনরূপ চিকিৎসার সুযোগ পেলেন না।
তখন বান্দা বাহাদুর সিং সিদ্ধান্ত নেন যে তিনি ছিনিয়ে নিয়ে আসবেন। সেই হিসেবে তিনি একটি ছোট দল নিয়ে বেরোতেন, আক্রমন করে খাদ্য ঔষধ ছিনিয়ে নিয়ে চলে আসতেন।
মুঘলেরা কিছু বুঝবার আগেই এই কাজ হয়ে যেত।
ক্রমে ক্রমে তারাও সচেতন হয়ে উঠল। এবং আগের মত সহজে খাদ্য ঔষধ সংগ্রহ করা মুশকিল হয়ে উঠছিল।
মুঘল বাহিনীর এই নিষ্ঠুর আচরণ শিখদের মধ্যে তাদের প্রতি আরও প্রবল বিদ্বেষ সৃষ্টি করে।
ঝুটা জুবান:
অতঃপর ফারুখ সিয়র বলেন, বান্দা বাহাদুর সিং যদি আত্মসমর্পণ করেন, তবে তাকে ছেড়ে দেওয়া হবে।
কিন্তু বান্দা বাহাদুর সিং রাজি হলেন না।
এদিকে জল এবং খাদ্যের অভাব তাদের মধ্যে দিনদিন বেড়ে চলে। সামান্য একটি রুটি এবং অল্প জল তাদের একদিনের জন্য বরাদ্দ হতে থাকে।
এইসময় কয়েকজন অকালী সঙ্গী বান্দা বাহাদুর সিং এর দল ছেড়ে চলে যেতে চায়। বান্দা বাহাদুর সিং তাদের সানন্দে যেতে দেন।
অতঃপর ফারুখ প্রয়োগ করেন তার দাদুর কায়দা। শান্তির কিতাবের শপথ করে বলেন বান্দা বাহাদুর সিংকে পাঞ্জাব ছেড়ে চলে যেতে অনুমতি দিচ্ছেন তিনি।
সেই বার্তা নিয়ে যায় আব্দুস খান। কিন্তু বান্দা বাহাদুর সিং আব্দুস খানকে শপথ করতে বলেন। আব্দুস খান শপথ গ্রহণ করে বলে, "শান্তির কিতাবের শপথ করে বলছি, দুর্গ দরজা খুলে দিলে আমরা আপনাদের যেতে দেবো।"
শৃঙ্খলবদ্ধ সিংহ:
অতঃপর ১৭১৫ সালের ৭ই ডিসেম্বর দুর্গের দরজা খুলে দেওয়া হয়।
তখন ঝড়ের গতিতে মুঘলরা দুর্গে প্রবেশ করে এবং অতর্কিত আক্রমন করে প্রায় ২০০ জন শিখদের হত্যা করে।
তাদের সংখ্যা কমে আসার পর বেশ কয়েকজনকে বন্দী করে তারা।
তখন বান্দা সিং বাহাদুর ও তার সঙ্গী আত্মসমর্পণ করেন।
সকলকে বন্দী করা হয়।
ততক্ষণে সংঘর্ষে মারা গিয়েছেন আরও ১০০ শিখ।
বান্দা সিং বাহাদুরকে তারপর শৃঙ্খলিত অবস্থায় হাতির পিঠে চাপিয়ে লাহোর নিয়ে যাওয়া হয়। তার দুইহাতে গলায় শরীরে পায়ে সর্বত্র শিকল বাঁধা থাকে।
সেই হাতির দুইপাশে তার ২০০ সঙ্গীদের বেঁধে নিয়ে যাওয়া হয়।
সমস্ত বন্দী শিখদের দুইপাশে মুঘল সেনারা যাত্রা করে উঁচু উঁচু বল্লমের মাথায় হত ৩০০ শিখসেনাদের কাটা মাথা গেঁথে নিয়ে।
পথে যত শিখ গ্রাম পড়ে সেখানে হত্যাকাণ্ড চালানো হয়। তাদের কাটা মাথা বল্লমের মাথায় গেঁথে নিয়ে যাওয়া হয়।
যখন লাহোর পৌঁছয় সেই বাহিনী। বল্লমের মাথায় কাটা মাথা সংখ্যা বেড়ে হয় ৩০০০।
এই সময় বান্দা বাহাদুর সিং এবং পুরোনো সঙ্গীদের দেখে দল ছেড়ে যাওয়া অকালি সদস্যরা হা হুতাশ করে।
লাহোর পৌঁছনোর পরে ফারুখ নির্দেশ দেন আব্দুস খানকে, লাহোর দেখাশোনা করতে, এবং বান্দা বাহাদুর সিংকে দিল্লি পাঠিয়ে দিতে।
দিল্লির পথে যাত্রা শুরু হল, এখন নেতা জাকারিয়া খান। আব্দুস খান এর পুত্র।
পথে শুরু হয় পুনরায় শিখ গ্রামে হত্যা এবং লুঠ।
এবং গ্রামের পর গ্রাম জুড়ে গাছে গাছে ঝুলিয়ে দেওয়া হয় শিখদের দেহ। ত্রাস সৃষ্টির জন্যে সবকিছু করা হয় অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায়....
আরও ৭৫০ জন খালসা বাহিনীর সদস্যদের বন্দী করে দিল্লি নিয়ে আসা হয়।
ধর্ম পরিবর্তন:
অতঃপর শুরু হয় ধর্ম পরিবর্তনের জন্য চাপ।
কিন্তু বান্দা বাহাদুর সিং অনড়। অনড় তার খালসা সঙ্গীদের দল।
১৭১৬ সালের মার্চ মাস, শিখদের জন্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা শুরু হয়। প্রতিদিন, ১০০ জন শিখ কারাগার থেকে বের করে নিয়ে আসা হয়, তাদের এক সারিতে বসানো হত এবং একে একে তাদের শিরশ্ছেদ করা হত।
সেই মৃত্যুদণ্ড এত ভয়ানক ছিল যে জল্লাদদের তলোয়ার শান দেওয়ার জন্য একদল কামার পাশে দাঁড়িয়ে থাকত।
তবুও একজনও শিখ তার ধর্মত্যাগ করেননি।
"সর জাভে তা জাভে মেরা শিখি সিদক না জাভে।।"
অর্থাৎ
যদি আমাকে আমার মাথা ত্যাগ করে দিতে হয়, তবে তাই হোক, তবে মাথার পাগড়ি (শিখি) ত্যাগ করব না।
শিখরা তাদের ঠোঁটে ' বাহেগুরু' মন্ত্র নিয়ে জল্লাদদের স্বাগত জানাতো। তাদের মুখের হাসি অম্লান ছিল।
তারা প্রতিদিন ঝগড়া করতো, হুড়োহুড়ি করত, তাদের মধ্যে কে আগে প্রাণ দেবে এই নিয়ে।
আর তাদের এই অদ্ভুত কাজ দেখে প্রতিটি শান্তির ছেলে ভয়ে শিউরে উঠত। এমনকি জল্লাদের দল পর্যন্ত নিজেদের চোখ বন্ধ করে দিত। তারাও বিশ্বাস করতে পারতো না। বাস্তবে এমন হয় বলে!
ওদিকে ফারুখ সিয়র সব দেখে হতাশায় নিমজ্জিত হতো, তার শান্তির বইয়ের ব্যর্থতা অনুধাবন করে ...
গুরু নানকদেবজি প্রদত্ত সেই মন্ত্রের এমনই শক্তি, জীবনের যে কোনও বাধা হাসিমুখে অতিক্রম করার শক্তি সঞ্চারিত করে দেহে ও মনে।
এক্ষেত্রেও তাই হয়েছিল। আনন্দের সঙ্গে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করার মনোবল প্রদান করেছিল। তারা জল্লাদদের 'মুক্তিদাতা' বলে সম্বোধন করত।
জাকারিয়া খান বারেবারে তাদের জিজ্ঞাসা করত, "ইসলাম গ্রহন করো। প্রাণভিক্ষা নাও।"
আর শিখেরা হাসতে হাসতে বলতো, "আজ অবধি এমন কোন শিখ দেখেছো যে ধর্ম ত্যাগ করেছে?
তাহলে কেন জিজ্ঞাসা করছ তুমি?"
আবারো একই প্রশ্ন জিজ্ঞেস করতো জাকারিয়া খান।
তখন তারা হাসতে হাসতে বলতো, "এসো তুমি শিখ হয়ে যাও। খালসার অমৃৎ পান করো। এরপর আর তুমি ধর্ম পরিবর্তনের কথা আর কখনো মুখে আনবে না..."
ইতিমধ্যে এক যুবক শিখয়ের মাতা একটি আবেদন নিয়ে আসেন ফারুখ এর কাছে।
তিনি বলেন, "আমার পুত্র এই শিখ খালসা বাহিনীতে যোগ দিয়েছে। ওর সঙ্গে কোন সংযোগ নেই এইসব ঘটনার।"
ফারুখ সেই শিখ যুবকটিকে দেখলেন, ঠিক মত দাঁড়ি গোঁফ বেরোয়নি তাঁর। তিনি তখন তাকে যেতে দিলেন।
এই সংবাদ যখন সেই শিখ যুবকটি শুনল, সে তখন সেই স্থান ত্যাগ করে যেতে রাজি হল না। পরিষ্কার বলল, "আমি সব জেনে, শুনে, সব বুঝে অমৃত পান করেছি। খালসা হয়েছি স্ব-ইচ্ছেতে। আমি যদি খালসা না হই, আমি আমার গুরুরও থাকব না।"
তারপর যখন শুনল সেই যুবক তার মায়ের কথা, সে বলল, " আমার মা ঠিকমতো জানেন না তাই এই কথা বলছেন।
আমি সকলের সঙ্গে সমান। একই দোষে দোষী। তাই সকলের সঙ্গে শহীদি প্রাপ্ত হব আমিও।"
তার মাতা অনেক কান্নাকাটি করেন, অনেকে অনেক কিছু বলেন। কিন্তু সেই যুবক অনড়।
বলাবাহুল্য,
সেদিনের শেষে তার মাথা গড়াগড়ি খায় অন্য সকল শিখদের সঙ্গে।
সেদিন কি জল্লাদের হাত কেঁপে উঠেছিল? কে জানে।।।
সাতদিন ধরে চলে শিখ হত্যা।
একের পর এক জন করে সঙ্গী মারা পড়েন।
রইল শুধু ২৬ জন।
এদের উপর শুরু হল অন্য ধরনের অত্যাচার।
" লুকোনো সম্পদ কোথায় আছে?"
না। কোন উত্তর নেই।
প্রচণ্ড অত্যাচারের পর তারা একে একে মারা গেলেন।
অতঃপর বান্দা বাহাদুর সিং একলা। তাঁকে সেদিন রাজা সাজিয়ে দিল্লি ঘুরিয়ে নিয়ে আসা হল। একরকম মজা করা হলো তাঁর সঙ্গে।
সেদিন দিল্লির শান্তি অধিবাসীগণ থুতু ঢিল ছুঁড়ে তাদের মনের জ্বালা মেটালো।
কিন্তু বান্দা বাহাদুর সিং স্থির রইলেন। মুখে তার বাহেগুরু।
অতঃপর তাকে নিয়ে আসা হল লালকেল্লার সামনের এক চকে।
তার কোলে তার দত্তক শিশু পুত্রকে বসানো হয়। বলা হয়, "একে হত্যা করো। তোমার তো দত্তক পুত্র। তোমায় ছেড়ে দেবো। প্রাণে বেঁচে যাবে।"
বান্দা বাহাদুর সিং বললেন, "কিভাবে ভাবলে তোমরা এটা?
যাকে পুত্র বলেছি, তার প্রাণ নেবো? হোক না সে আমার দত্তক পুত্র। তবুও যখন বলেছি, তখন তাকে পুত্র হিসেবে আপন করে নিয়েছি।"
অতঃপর সেই পুত্রের বুকে ছুরি বসানো হলো। তার স্পন্দিত হৃদপিন্ড তুলে বান্দা বাহাদুর সিং এর মুখে চেপে ধরা হলো।
তিনি মুখ চেপে রইলেন।
এর পর শুরু হল অত্যাচার।
একটু একটু করে চামড়া তুলে নেওয়া। একটু একটু করে গরম সিক দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া। সাঁড়াশি দিয়ে টেনে মাংস কেটে নেওয়া। খুব ঠাণ্ডা মাথায় এইসব অত্যাচার চলল।
তাতেও যখন কিছু লাভ হলো না তখন তার দুই চোখে গরম লোহা ঢুকিয়ে দেওয়া হলো।
বান্দা বাহাদুর সিংকে ১৭১৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ১৭১৬ সালের জুন পর্যন্ত প্রায় ৬ মাস ধরে অত্যাচার করা হয়েছিল। অবশেষে, ১৭১৬ সালের ৯ই জুন তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। অতঃপর তার মাথা কেটে হত্যা করা হলো।
✍️Prithwis Sen
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন