🚩🌹চরণধূলি🌹🚩
লক্ষ্মীখালির পরম সাধু,গোপাল সাধু। হরিচাঁদ ঠাকুরের নামে প্রেমে মাতোয়ারা।তাই তো তিনি ছিলেন "মতুয়া"। একনিষ্ঠ "মতুয়া"। তাঁর এই মতুয়া হওয়া তৎকালীন সময় কিছু কুচক্রী ব্রাহ্মণ লোকেরা পছন্দ করতেন না। কুচক্রী লোকেরা""কাঁটা দিয়ে কাঁটা তুলতে খুবই পারদর্শী। কুচক্রী ব্রাহ্মণেরা তাদের গ্রামের সহজ সরল পরম ধার্মীক,ধর্ম প্রাণ,হ্যাঁদাভোঁদা শ্রীমান "প্রসন্ন সুতর"কে বেছে নিলেন "গোপাল সাধুকে জব্দ করবার তাগিদে।।
ঐ সকল কুচক্রী ব্রাহ্মণেরা "গোপাল সাধুকে জব্দ করার জন্য নানান মতলব বা কৌশল আটতে লাগলেন।কিছুতেই কোন সুযোগ আসছিল না,গোপাল সাধুকে জব্দ করার।
অগত্যা প্রসন্ন সুতরের স্ত্রী মারা গেলেন।কুচক্রী ব্রাহ্মণেরা মনে মনে স্থীর করলেন এই বার একটা সুযোগ এসেছে গোপাল সাধুকে জব্দ করার।গ্রামের সহজ সরল ধর্মপ্রাণ প্রসন্ন সুতর কে, কুচক্রী ব্রাহ্মণেরা গোপাল সাধুকে প্রসন্নসুতরের বাড়িতে ডেকে আনবার নির্দেশ দিলেন।আর তারা বললেন, গোপাল সাধু যখন দল বল নিয়ে প্রসন্ন সুতরের বাড়িতে প্রবেশ করে হরিনামে মত্ত থাকবেন, তখন লোকের অলক্ষ্যে যেন প্রসন্ন সুতর নিজ স্ত্রী "অলোকাকে" ঐ কীর্ত্তণ খোলায় এনে রাখবেন।তখন ঐ কুচক্রী ব্রাহ্মণেরা মতুয়া ভক্তদের পদপৃষ্ঠ হয়ে মারা গিয়েছেন বলে গোপাল সাধু এবং তাঁর দল বল দের নামে দোষারোপ করবেন।গোপাল সাধুকে জব্দ করার এই একটি রাস্তা কুচক্রী ব্রাহ্মণেরা বেছে নিলেন।
যেই কথা সেই কাজ। কুচক্রী ব্রাহ্মণেরা,প্রসন্ন সুতরের স্ত্রী যে পৃর্বেই মারা গিয়েছে তাহা কাউকে জানাতে নিষেধ করলেন।সরল প্রাণ প্রসন্ন সুতর,
মৃত্যা স্ত্রীকে ঘরে লুকিয়ে রেখে গোপাল সাধুকে আমন্ত্রণ করবার উদ্দেশ্যে বাহির হলেন।কুচক্রী ব্রাহ্মণেরা খুবই আনন্দিত হলে।
প্রসন্ন সুতার গোপাল সাধুর বাড়ির সামনে গিয়ে গোপাল সাধুকে ডাকতে লাগলেন-----।
"গোপাল,---গোপাল---ও গোপাল বাড়ি আছো নেকি---?।
--"হ্যাঁ বাবু বাড়ি আছি"। গোপাল বাড়ির ভিতর থেকে উত্তর দিলেন।
---"গোপাল, তোমার যে আমার বাড়িতে গিয়ে একটু হরিনাম করতে হবে।"
--"কখন যেতে হবে বাবু?"
---"এখনই।
---"ঠিক আছে বাবু, আপনি বাড়ি যান, আমরা আসছি।
প্রসন্ন সুতর বাড়ি চলে গেলেন।
কিছুক্ষণের মধ্যে গোপাল সাধু দল বল,ডংঙ্কা, কাঁশি বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র সহ,হরিবলো,হরিবোল,বলতে বলতে গোপাল সাধু প্রসন্নসুতরের বাড়ির অভিমুখে রওনা দিলেন।
বাদ্যযন্ত্রসহ হরিনাম উচ্চারণ যেন চারিদিকে মুখোরিত করে তুলল।
পথের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা লোকজন এই দৃশ্য দেখতে লাগলেন। এ, এক অনাবিল আনন্দ।
বাড়ির নিকটে গোপাল সাধুর দল আসতেই,প্রসন্ন সুতর ঘরের মধ্য থেকে মৃত্যা স্ত্রীকে উঠানে বাহির করে সাদা কাপড় দিয়ে ঢেকে দিলেন।নিজ স্ত্রী যে মারা গিয়েছে,যেন কেউ না জানে।
গোপাল সাধুর দল হরিনাম করতে করতে মেদিনী কম্পিত করে নৃত্য করতে লাগলেন।প্রসন্ন সুতর নিজ স্ত্রী "অলোকা "যে মারা গিয়েছে,সে কথা ভুলে গিয়ে ভক্তদের সঙ্গে হরিনামে বিভোর হয়ে গেলেন। প্রসন্ন সুতরের ----------
""হরিনামে বহে অশ্রুধারা
হলেন আত্মহারা।
মত্ত মাতাল হয়ে তখন
নামে মাতোয়ারা।।
ভক্তগনের সঙ্গে মাতাম দিতে দিতে জ্ঞানশূন্য হয়ে গেলেন।
প্রসন্ন সুতর এমনি ভাবে ইতি পূর্বে কোন দিন হরিনাম করেন নি।
গোপাল সাধুর দলের মাতাম চলছে অনবরত, অবিরাম, অবিশ্রাম গতিতে।যেন অনন্তকাল ধরে এই হরিনাম চলুক।প্রসন্নসুতর বারে বারে মাটিতে পড়ে যাচ্ছে,আবার উঠে নৃত্য করছেন।
হঠাৎ প্রসন্নসুতরের মনে পড়ল মৃত্যা স্ত্রী "অলোকার কথা!
প্রসন্নসুতর দৌড়ে গিয়ে অলোকার হাত ধরে বলতে লাগলেন----". অলোকা-------অলোকা----ওগো অলোকা ----উঠে পড়,দেখো কারা এসেছে আমাদের বাড়ি।দেখো। কাঁদতে কাঁদতে বলতে লাগলেন।
হরি নামের গুণে মৃত্যা অলোকা উঠে বসলেন।এওকি সম্ভব!ঠাকুরের কি লীলা।ঠাকুরের কৃপা গুণে অসাধ্য কিছু নাই।মনে মনে প্রসন্নসুতর ভাবছেন আর কাঁদছেন। অলোকাকে জড়িয়ে ধরে আপুস নয়নে বক্ষ প্লাবিত করছেন,---""অলোকা জান--! এই গোপাল সাধুর ভক্তবৃন্দের কৃপায় তুমি মৃত্যা হয়েও বেঁচে ওঠেছো?!
তুমি এই ভক্তবৃন্দের জন্য আহারের ব্যাবস্তা কর শ্রীঘ্রই।
অলোকা তৎক্ষণাৎ উঠে ঘরের মধ্যে গিয়ে দেখল,তন্ডুল নাস্তি,।একথা স্বামীকে এসে জানালেন।
প্রসন্নসুতর কিংকতব্যবিমূঢ় হয়ে গেলেন।
মাতাল খোলায় গড়া গড়ি দিচ্ছেন আর ভক্তদের ""চরণধূলি""অলোকার শাড়ির আঁচলে তুলে দিচ্ছেন
কাকড় সহ।
""যাও---- অলোকা-- যাও---,তাড়াতাড়ি ---রন্ধনের আয়োজন করো,।
অলোকা স্বামীর আজ্ঞা শীর্ধায্য মনে করে রন্ধনে ব্রতী হলেন।অলোকার চোখের জলে বস্ত্র সিক্ত হয়ে যাচ্ছে।
হাঁড়িতে ভক্তদের " চরণধূলি" বসিয়ে অগ্নি প্রজ্জ্বলিত করে অঝোর নয়নে কাঁদছেন আর রান্না করছেন।
কিছুক্ষনের মধ্যে গোপাল সাধুর দলের ভক্তদের"" অন্ন প্রসাদ""রন্ধন হলো।
ভক্তগন মাতাম শেষে প্রসন্ন সুতরের বাড়ির "ভক্তের চরণধূলির থেকে উৎপন্ন "অন্ন প্রসাদ""পরম তৃপ্তী সহকারে সমস্ত ভক্তগন এবং পাড়ার অন্যান্য সকলে প্রসাদ খেয়ে শেষ করতে পারলেন না।
আপনারা বুঝুন, এই হলো প্রসন্নসুতর এবং এই হলো লক্ষ্মীখালীর গোপাল সাধু।সে দিন কুচক্রী ব্রাহ্মণদের মুখে ঝাঁমা ঘসে দিয়ে জলন্ত দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন গোপাল সাধু।
তাই আমি অধম রিপন বিশ্বাস আপনাদের ""চরণধূলির আশায় যত দিন জীবিত থাকি যেন একটু ""ভক্ত চরণধূলি" পাই।এই কৃপা করবেন এবং আশীর্বাদ করবেন।জয় হরিবোল।👏👏👏🚩🚩🚩😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন