বুধবার, ৫ অক্টোবর, ২০২২

প্রাচীন ভারতের ইতিহাস

 প্রাচীন কালে ভারতকে বলা হত জম্বুদ্বীপ। আর্য শাসন কালে এর নাম হয় আর্যাবর্ত।  এই আর্যাবর্তের বিস্তার ছিল উত্তরে গান্ধার থেকে দক্ষিণে সৌরাষ্ট্র পূর্বে কাশী পশ্চিমে পাকিস্তানের পশ্চিম সীমানা আবধি। তবে বর্তমান মধ্য ভারতের বিন্ধ্যপর্বত আর্যরা অতিক্রম করে নি।

 পূর্বে বঙ্গদেশ সমগ্র মধ্য ভারতের আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকা এবং নেপাল ও পূর্বভারতের বর্তমানের অনেক রাজ্যই তৎকালীন বঙ্গদেশের মধ্যে ছিল। দক্ষিন ভারতের দ্রাবিড় মূল ভাষাভাষিদের বাসভুমি আলাদা ছিল। তখন এই তিনটি অঞ্চল কৃষ্টি জনগোষ্ঠী ভাষা ও শাসকের

সাথে আলাদা ভাবে পরিচিত ছিল। আর্যাবর্তের অনেক শাসক মূলভারতীয় ছিলেন এবং জনগোষ্ঠীও মূল ভারতীয় ছিল। আর্যাবর্তে বৈদিক প্রথা প্রচলিত ছিল। বাকি দুটি অংশে তা ছিল না।


    বঙ্গদেশ তখন মগধের সাথে অভিন্ন ছিল। এই দেশের অধিবাসীরা বোঙ্গার উপাসক হওয়াতে তারা নিজেদের বাসভূমির নাম বঙ্গ পরিচয় দেয়। আজও বোঙ্গার উপাষকরা ভারতে বিদ্যমান। মারাংবুরুও আদিবাসীদের নিকট বিশেষ সম্মানিত। আর্য সংস্কৃতির সাথে এইসব জনগোষ্ঠীর কোন সম্পর্ক নাই। অর্থাৎ এরা মূল নিবাসী ভারতীয়। গৌতমবুদ্ধ মূল ভারতীয়দের ধর্ম বা সংস্কৃতিতে কোন পরিবর্তন করার পক্ষপাতি ছিলেন না। তিনি মানুষের চরিত্র গঠনে তথা  সংশোধন করার শিক্ষা দেন। তাই সমগ্র মূলনিবাসী তার শিক্ষা গ্রহণ করে। বৈদিক সংস্কৃতিতে বিশ্বাসী আর্যাবর্ত নিবাসীরা তাঁর যুক্তিবাদী মতবাদের কাছে নিজেদেরকে "ভ্রান্ত মতে"র বলে বুঝতে পারে এবং নিজেদের সংশোধনের জন্য তারা বুদ্ধের অনুগামী হন। কট্টর আর্যরা দেশ ছেড়ে দ্রাবিড় অঞ্চলের জঙ্গলে চলে যায়। বর্তমান কেরলে তাদের অস্তিত্ব প্রমাণ করে। ঐ গোষ্ঠীর ব্রাহ্মণেরা বর্তমানে ভারতের সমস্ত বড় বড় মন্দিরের পুরোহিত। তাদের সংস্কৃত ভাষা কেরলের একটি মাত্র গোষ্ঠীর কথ্যভাষা। শেষ 2011 সালের লোকগনণায় তাদের সংখ্যা 16 হাজারের একটু বেশী জানা গেছে, যা অনুমান করা যেতে পারে বুদ্ধের সময়কার একটি মাত্র পরিবার হলেও হতে পারে।


   বর্তমান ভারত 1947 সালে খন্ডিত হয়।  বৃটিশ ইন্ডিয়ার যে অংশে পাকিস্তান গঠন করা হয় তা প্রকৃতপক্ষে আর্যাবর্তের অংশ। এই আর্যাবর্তের নাম হস্তিনাপুরের রাজা  শান্তনু ও শকুন্তলার পুত্র ভরতের নামানুসারে ভারত রাখা হয়েছিল। অর্থাৎ আজকের ভারত বা ইন্ডিয়া সে ভারত নয়। ইন্ডিয়ার অধীনস্থ দ্রাবিড় ভূমি এবং মগধ বা পরবর্তীতে বঙ্গালই বর্তমান ভারত। এর সমস্ত বসবাসকারী মূলনিবাসী ছিল ( ব্যতীত স্বল্পসংখ্যক বৈদিক যারা মন্দিরে পুরোহিত মাত্র)। 1192 খৃ. মুসলমান ধর্মের যোদ্ধারা ভারতের কান্দাহার হয়ে সিন্ধু নদের পশ্চিমপাড় দখল করে নেয় এবং হিন্দুস্থান নামক রাজ্য স্থাপনার সূচনা ঘটায়। ক্রমে তারা দিল্লীতে রাজধানী স্থাপন করে ও হিন্দুস্থানে মুসলমান রাজত্বের ইতিহাস তৈরী করে। চাতুরবর্ণ ব্যবস্থার শাসকরা তাদের কাছে হার স্বীকার করে। পরে তারা মুসলমানদের শাসনে সহায়তা করে এবং পাকাপোক্ত মুসলমান রাজত্বের প্রশাসনে অংশ গ্রহণ করে। 1757 সালে পলাশীর যুদ্ধে সিরাজদ্দৌলাকে হারিয়ে ভারতে ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর রজত্ব শুরু হয়। পরে কোম্পানীর হাত থেকে বৃটিশ সরকার শাসন ক্ষমতা অধিগ্রহণ করে। 1947 সালে ভারত স্বাধীনতা লাভ করে। শাসন ক্ষমতা হস্তান্তর হয় আর্যাবর্তের দুই নেতা জিন্নাহ ও জওহরলালের হাতে। ভারতকে খন্ডিত করা হয়। তবে তামিলনাড়ুর পেরিয়ার যিনি আলাদা স্বাধীন  দ্রাবিড়ভূমি চেয়েছিলেন তার দাবি মানা হয় নি। তেমনি অবিভক্ত স্বাধীন বাংলার দাবি জানান বাংলার সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষদের প্রতিনিধিরা। তাদের মধ্যে হিন্দু মুসলমান দুইই ছিল। ছিলনা ব্রাহ্মণ দলের প্রতিনিধিরা। ফলে বাংলা শুধু যে শাস্তি পেল তাই নয়, বাংলা বলে আর কিছু থাকল না । দু'টুকরো করে বেশীটা দিল পাকিস্তানকে একটুকরো রাখা হল হিন্দুস্তানে। বাঙ্গালী কেউ থাকল না- হয় ভারতীয়, নয় পাকিস্তানি হল।

 তাহলে স্বাধীনতা কারা পেল? যারা আর্যাবর্তের লোক তারা লাভবান হল দুভাবে। এক, তাদের আলাদা দেশ তারা পেল। দুই , তারা পুরস্কৃত হল বাকি ইন্ডিয়ার শাসন ক্ষমতার দখল পেয়ে। এরাই একসময় বিদেশ থেকে ভারতে এসে ভারতকে শাসন ও শোষণ করত। আজও করছে। তাহলে বৃটিশ কাকে ক্ষমতা হস্তান্তর করল? যারা নিজদেশে পরাধীন তারা স্বাধীনতা চাইতেই পারে। আমার প্রশ্ন হল কবে তারা নিজেদের শাসন ক্ষমতা দখল করতে চাইবে?

কোন মন্তব্য নেই: