================
নারীজাতির মুক্তিদাতা
Dr.B.R.AMBEDKAR
আজ যে মায়েরা ও বোনেরা দল বেঁধে পুজো করতে যাচ্ছেন তাঁরা একটু পড়ুন।
আজকের দিনে 1951 সালে 5 ই ফেব্রুয়ারি বাবাসাহেব আইন মন্ত্রী থাকাকালীন #হিন্দুকোড বিলটি প্রথম পেশ করেন।যেখানে 9 টি পার্ট এবং 139 টি আর্টিকেল ছিল।
#তৎকালীন কংগ্রেস তথা নেহেরু সরকার
সমর্থন করেননি বলে, বাবাসাহেব আইনমন্ত্রি থেকে ক্ষোভে দুঃখে জর্জরিত হয়ে পদত্যাগ করেছিলেন।
যেগুলির অল্প কিছু আইন পরবর্তীতে পাশ হয়েছে
Babasaheb Ambedkar’s ideas influenced the enactment of many subsequent pro-women Acts viz.
#Sati Prevention Act, 1987,
Dowry Prohibition Act, 1961,
The Family Courts Act, 1984,
Protection of Human Right Act, 1993,
The Maternity Benefit Act 1961,
Immoral Traffic (Prevention) Act, 1956,
The Child Marriage Restraint Act, 1929,
The Equal Remuneration Act, 1976,
The National Commission for
Women Act, 1990,
Protection of Women from
Domestic Violence Act, 2005.
বর্তমান সমাজে সংরক্ষিত আসনে MP, MLA এর কজনের বুকের পাটা আছে যে তার সমাজের মানুষের জন্য কোন বিল পাস না হলে তিনি ইস্তফা দিয়ে চলে আসবেন।
আজকে হিন্দু সমাজে তথা ভারতবর্ষের সমস্ত সম্প্রদায়ের মানুষ যারা বাবাসাহেব ডঃ বি আর আম্বেদকর কে ঘৃণার চোখে দেখেন তারা কি সত্যি জানেন আপনার ঘরের মা বোনেদের জন্য তিনি কি কি কাজ করে গেছেন।
আর সংরক্ষণের জন্য যারা বাবাসাহেব কে গালাগাল করেন বিশেষ করে উচ্চবর্ণের সমাজের মেয়েগুলো তারা কি জানে হিন্দু সমাজে তাদের কি অবস্থান ছিল নারী হিসেবে??
They succeeded in passing four Hindu code bills in 1955–56: the Hindu Marriage Act, Hindu Succession Act, Hindu Minority and Guardianship Act, and Hindu Adoptions and Maintenance Act.
মনুসংহিতা অনুযায়ী নারীকে নরকের দ্বার বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
হিন্দুশাস্ত্র ''মনুসংহিতায়'' বলছে -অমন্ত্রীকা তু কার্যেয়ং স্ত্রীণামাবৃদ শেযতঃ(২/৬৬) অর্থাৎ নারীকে ও মন্ত্র ও অশিক্ষিত রাখতে হবে। পুজো বিবাহ-শ্রাদ্ধাদি সব ক্ষেত্রে শূদ্র ও নারী "ওঁ" মন্ত্র উচ্চারণ করবে না তারা শুধুমাত্র নমঃ উচ্চারণ করবে।
প্রসঙ্গে বলতে হয়:-হিন্দু সমাজের মন্দির পূজা রচনা সামাজিক কার্যক্রম কোথাও নারীর উপস্থিতি পাপ বলে বিবেচিত হতো।
এক নজরে দেখে নেওয়া যাক বাবাসাহেব এই হিন্দু কোড বিল সমাজ সংস্কারের জন্য কি কি আইন সংশোধন করেছিলেন।
১) সমাজে নারীদের শিক্ষার কোন অধিকার ।
২) নারীর শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে চাকরি করার
অধিকার।
৪) চাকরিতে সমান বেতনের অধিকার।
৫) চাকরির সময় মাতৃত্বকালীন ছুটি(১৯৪৬ ইংরেজ সরকারের কাছ থেকে আদায় করে আনেন)।
৬) বাবার সম্পত্তিতে সমান অধিকার।
প্রসঙ্গে বলতে হয়:-নারীর সঞ্চার কোন অধিকার নেই অর্থশূন্য করে পরাধীন রাখতে হবে (মনুসংহিতায় ৮/৪২৬এবং ৯/২)
নারীর উপনয়ন -পৈতে দেয়ার কোন অধিকার নেই
উপনয়ন,স্বামীর ঘরে বাস হলো গুরুগৃহে বাস এবং স্বামীর সেবাই হল বেদ পাঠ(২/৬৭,৫/১৫৫)
৭) স্বামীর সম্পত্তিতে সমান অধিকার
৮) প্রয়োজনে নিঃসন্তান দম্পতিদের দত্তক নেওয়ার অধিকার।
৯) ইন্টার কাস্ট ম্যারেজ এর অধিকার
আজকে যে সমস্ত ছেলে মেয়েরা ভালোবাসা করে অন্য সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে বিবাহ সম্পর্ক স্থাপন করেছে এই আইন না থাকলে তারা করে শান্তিতে ঘুমাতে পারতো না।
১০) পুরুষের বহু বিবাহ বন্ধ করার অধিকার।
আর যারা বাবাসাহেব কে গালাগাল করেন সত্যি মনে হয় বহুবিবাহ যদি চালু থাকত তাহলে বোধহয় ঠিকই হত। একজন কুলীন ব্রাহ্মণ এর তৎকালীন বিয়ের সংখ্যা মৃত্যুর আগ পর্যন্তএই বিলের বিরোধিতা করেছিলেন তৎকালীন শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী এবং কংগ্রেসের ব্রাহ্মণ্যবাদী নেতা-মন্ত্রী গন।
১১) পুরুষের যাঁতাকলে না থাকার জন্য ডিভোর্সের অধিকার।এই অধিকার দিয়ে বাবা সাহেব বোধায় ভুল ই করে গেছেন।
এই প্রসঙ্গে বলতে হয়:-নারীকে কেবলমাত্র ভোগের সামগ্রী, সন্তান উৎপাদনের যন্ত্র, নারীকে পুড়িয়ে মারা পতিতালয়ে পাঠিয়ে দেওয়া, একজন কুলীন ব্রাহ্মণ শতাধিক বিয়ে করতেন তার জন্য হিসাবের খাতা তৈরি করতেন। স্ত্রী স্বামীর দাসি নয় সে জীবন সঙ্গিনী উভয়ের সমান মর্যাদা থাকবে। এক বামন মারা যাওয়ার আগের দিন পর্যন্ত বিয়ে করতে পারতেন যাকে বলা হত #অন্তর্যলী যাত্রা।
১২) নাবালিকা মেয়েদের বিয়ে দেওয়া বন্ধের অধিকার, যেখানে হিন্দু ধর্ম মতে 12 বছরের মধ্যে নারীকে পাত্রস্থ করার কথা রয়েছে মনুসংহিতা অনুযায়ী।
প্রসঙ্গে বলতে হয়: নারী বাললে থাকবে পিতার অধীনে যৌবনে স্বামীর অধীনে ও বাধ্য থাকবে পুত্রের অধীনে (মনুসংহিতায় ৫/১৪৮ এবং ৯/৩)
স্বামীর সেবায় স্ত্রী তার রূপ গুণ বয়স বিচার করবে না, দেখতে সুন্দর হোক বা খারাপ হোক বা অল্প বয়সে বেশি বয়সে যে কোন পুরুষকে তার সঙ্গে যৌন ক্রিয়া করবে (মনুসংহিতায় 9/14)
প্রসঙ্গে বলতে হয় বাবাসাহেব একাধারে সংবিধান চালু করে সমাজের থেকে নারীর প্রতি কুসংস্কারগুলো যেভাবে ধ্বংস করেছেন সেগুলি হল
#মনুসংহিতা অনুযায়ী নারীদের ধর্মীয় আচরণ এ যোগদান দেওয়া অপরাধ।
#মনুসংহিতা অনুযায়ী মেয়েরা পৌরোহিত্য করতে পারবে না
#মনুসংহিতা অনুযায়ী স্বামীর অত্যাচার এর বিরোধীতা করতে পারবে না।
####মনুসংহিতা অনুযায়ী নারীকে সতীত্বের প্রমাণ দেওয়া।
(যার জন্য 10 থেকে 12 মেয়েদের বিয়ে দেওয়া হতো)
সেই মেয়েগুলোর কাছে প্রশ্ন যারা আজ বড় গলায় বাবাসাহেব এর সংবিধান এর বিরোধিতা করেন ফিরে আসুক তাহলে সতীত্ব প্রমাণ দেওয়ার রীতি নীতি কি বলেন আপনারা?
#মনুসংহিতা অনুযায়ী এক পুরুষ শতাধিক।
#মনুসংহিতা অনুযায়ী নারীর ঋতুকালীন অবস্থায়
মন্দিরে ঢোকার পাপ বলে গণ্য হত।
#মনুসংহিতা অনুযায়ী নারী শুধুমাত্র ভোগের বস্তু, কন্যা হলো দানের বস্তুর মতো। যার জন্য বিয়েতে কন্যা দান করা হত।
#মনুসংহিতা অনুযায়ী স্ত্রীকে প্রথম 3 দিন গুরুদেবের কাছে থাকতে হতো যেটি গুরু দাসী প্রথা প্রচলিত ছিল।
#মনুসংহিতা অনুযায়ী দেবদাসী থাকবে।
যাদের ভোগদখল শারীরিক শোষণ তৎকালীন পূজারীরা করতেন।
#মনুসংহিতা অনুযায়ী নারীর বেদ পাঠ নিষিদ্ধ ছিল।
#নারী পড়াশোনা শিখলে নাকি পতিতালয়ে চলে এটি প্রচলিত ছিল হিন্দু ধর্ম মধ্যে।
এছাড়াও হাজারো রকমের ব্রাহ্মণ্যবাদ হিন্দু ধর্ম রীতি অনুযায়ী যেগুলো ছিল সেগুলো বাবাসাহেব তার পবিত্র সংবিধান এর মাধ্যমে এক নিমিষেই ধ্বংস করে দিয়েছে আইনত কিন্তু সমাজে এখনও আনাচে-কানাচে আমরা এখনো তার জ্বলন্ত উদাহরণ দেখতে পাই।
আজ যে সমস্ত উচ্চবর্ণ তথা সকল সমাজের ছেলেমেয়েরা বাবা সাহেবের সংরক্ষণের জন্য শুধুমাত্র বিরোধিতা করেন।
তাদের কাছে একটি প্রশ্ন উপরোক্ত হিন্দু ধর্মীয় রীতি-নীতি যদি পুনরায় ফিরে আসে তাহলে খুশি হবেন তো???
★ AES KOLKATA ★
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন