হরিচাঁদের লালচাঁদের গৃহে যাত্রা
হরিচাঁদ এইরূপ ভাবে ছ’জনকে সঙ্গে নিয়ে ভক্ত লালচাঁদের গৃহাভিমুখে যাত্রা করলেন। তিনি সঙ্গীগণকে বলেন, তোমরা একজন অগ্রে চল, কারণ, এই পথে গেলে সাপ আমাকে জড়িয়ে ধরে। সেই কথা শুনে কাঙালী বেপারী অগ্রে চললেন, বরই হাট গ্রামে ভক্তদের গৃহে সকলকে নিয়ে প্রভু বিশ্রাম নিলেন। ভক্ত অযাচিত ভাবে হরিচাঁদকে পেয়ে নিজেকে ধন্য মনে করে আনন্দাশ্রু বিসর্জন করতে লাগলেন, আনন্দে বিগলিত ভক্ত করজোড়ে বলেন, হে প্রভু, এই বাড়ী ঘর সব তোমারই তাই দয়া করে হে প্রভু প্রাতকালীন ভোজন এখানেই সম্পন্ন করুন। হরিচাঁদ বলেন, বাড়ী যদি আমার তবে ভোর সেবার জন্য কি আছে শীঘ্র নিয়ে আয়। ভক্ত অতি শীঘ্র জাল নিয়ে মাছ ধরতে যাচ্ছে দেখে হরিচাঁদ ডেকে বলেন, ওরে আমরা মাছ খাব না ঘরে কি আছে আপাতত তাই আমাদের খেতে দে। ভক্ত বলেন, বাবা শুধু ভাত রান্না হয়েছে তা দিয়ে কেমন করে তোমার সেবা হবে। হরিচাঁদ বলেন, শুধু ভাত কেন খাব? আমরা অমৃত তুল্য ভোজন করব। কি দেব কি দিয়ে প্রভুর সেবা হবে ভেবে যখন গৃহের সকলে অস্থির হয়েছেন, তাই দেখে হরিচাঁদ বলেন, তোর ঘরে ঘৃত আছে? ভক্ত তার গৃহিণীকে জিজ্ঞাসা করেন ঘরে কি ঘৃত আছে? গৃহিণী বলেন, সদ্য তৈরী করা ঘৃত আছে। হরিচাঁদ বলেন, আরো কি কি আছে শোন, তোর ঘরে দধি আছে, কল্যকার মন্থন করা মাখন আছে, আরো আছে সদ্য দোহন করা দুগ্ধ। ভক্তের গৃহিণী হরিচাঁদের পদতলে লুটিয়ে পড়ে বলেন, বাবা গো কি দিয়ে তোমার সেবা হবে?
হরিচাঁদ বলেন কেন তুই যে লাউ, কুমড়োর শাকডগা ভাতে সিদ্ধ দিয়েছিস ওতেই খুব ভাল ভোজন হবে। মাগো, তুই আর দেরী করিস না, লালচাঁদের গৃহে দ্বিপ্রহারিক সেবা নিতে হবে। শুনে ভক্তগৃহিণী আসন পেতে ঠাই করে দিল। প্রভু শালান্য ভোজে বসলেন। শাকভাত মাখন দিয়ে মেখে প্রভু একগ্রাস মুখে তুললেন, এমন সময় তারকচন্দ্র প্রসাদার্থে হাত পাতলেন। হরিচাঁদ একমুষ্ঠি অন্ন তারকের হাতে দিলে সেই অন্ন মুখে দিয়েই তার তালুতে আটকে বিষম কাশি উঠে দম বন্ধ হওয়ার উপক্রম হল। মুখের ভাত কাশিসহ ছিটকে পড়ল, কাশিসহ কিছু ভাত মাটিতে পড়ল, কিছু পড়ল হরিচাঁদের পাতে কতক পড়ল তাঁর বক্ষে। বক্ষে যেসব ভাত ছিটকে পড়েছে হরিচাঁদ সেই ভাত বাম হাত দিয়ে তুলে মুখে পুরে দিলেন। লালচাঁদ হরিচাঁদকে এগিয়ে নিতে এসে ভক্তের বাড়ীতে ভোজনে বসেছেন, তিনি কথা খুব কম বলেন তথাপি থাকতে না পেরে বলে ওঠেন, যেমন প্রসাদ পাওয়ার জন্য ব্যস্ত হয়েছিলে তেমনি প্রভু ভাল দেওয়াই দিয়েছেন। তারক অমনি প্রভুর পদে কেঁদে লুটিয়ে পড়লেন। হরিচাঁদ বলেন, ওরে তোর কোন ভয় নাই, উঠে বস। তারক ভোজন করেন আর ভাবাবেগে কাঁদেন, দয়াময় হরিচাঁদ এইরূপ ভাবেই ভক্তগণের সঙ্গে বিহার করেন। অতঃপর তিনি সেই বাড়ী থেকে বিদায় নিয়ে লালচাঁদের গৃহাভিমুখে যাত্রা করলেন।
--- শ্রীশ্রী হরিলীলা কথামৃত
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন